Opu Hasnat

আজ ৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার ২০২০,

দখলদারিত্বের কবলে বাগাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ফরিদপুর

দখলদারিত্বের কবলে বাগাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার বাগাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি যেন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পরিনত হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক দখল করে রীতিমতো ফার্নিচারের দোকান বসে। বিদ্যালয়ের ভেতরে রয়েছে আরও একটি মিষ্ঠি প্যাকেট তৈরির কারখানা। বিদ্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে আছে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন। ফলে দূর থেকে বিদ্যালয়টিকে চেনার কোন উপায় নেই। এভাবেই দখলদারিত্বের কবলে উপজেলার বাগাট ইউনিয়নের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি।

শনিবার সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের বড় একটি অংশ দখল করে ব্যবসায়ীরা কাঠের ফার্নিচারের দোকান সাজিয়েছে। স্কুলে আগত শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের যাতায়াতের জন্য মহাসড়কের রাস্তা ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে কারণ পায়ে চলার পথটুকু ইতোমধ্যে ব্যবসায়ীদের দখলে। প্রতিষ্ঠানের সামনে দোকান প্রসঙ্গে ফার্নিচার ব্যবসায়িকের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান ইজারাদার আমাদের এখানে বসতে বলেছেন। বিনিময়ে দরজা, জানালা, খাট, টেবিল প্রভৃতি থেকে তারা খাজনা নিয়ে থাকে।
 
খাজনা উত্তোলনকারী আঃ সামাদ জানান ফরিদপুরের জনৈক ইজারাদার হাটটি ক্রয় করেছেন। তিনি শুধুমাত্র খাজনা আদায় করে থাকেন। আঃ সামাদ ইজারাদারের নাম জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। বিদ্যালয়ের ভেতর দেখা যায় কয়েকজন নির্মান শ্রমিক সেখানে মিষ্টির প্যাকেট তৈরি করছে। বিদ্যালয়ের ভেতর পন্য রাখা ও প্যাকেট তৈরির কারণ জানতে চাইলে তারা জানান বাগাট উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে তারা বিল্ডিংটি ভাড়া নিয়েছেন। মাসিক দুই হাজার টাকার বিনিময়ে তারা ভবনটির কক্ষ ব্যবহার করছেন। বিদ্যালয়টি আড়াল করে দাঁড়িয়ে থাকা যানবাহনের ড্রাইভারকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এভাবেই নানা প্রতিবন্ধকতা আর দখলকারীদের কবলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি কার্যক্রম পরিচালনা হয়ে আসছে। 

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোছাঃ হাসিনা খাতুন আপেক্ষ করে বলেন প্রকৃত পক্ষে আমরা অসহায়। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও নির্বাহী অফিসার মহোদয়কে দরখাস্ত প্রদানের মাধ্যমে অবহিত করা করেছি। বিদ্যালয়ের সামনে প্রধান ফটক ও শহীদ মিনার আড়াল করে হাটের দিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় শিক্ষার্থীসহ আগত অভিভবকদের যাতায়াতে অসুবিধা হচ্ছে। অন্যদিকে বিদ্যালয়টির স্বাভাবিক সৌন্দর্য্য অনেকাংশে হ্রাস পাচ্ছে। 

এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার ইসমাইল হোসেন জানান, জমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে বিষয়টির সুরাহা করা সম্ভব হয় নাই। তিনি আরও বলেন বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে। 

এই বিভাগের অন্যান্য খবর