Opu Hasnat

আজ ২৬ ফেব্রুয়ারী বুধবার ২০২০,

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্মৃতি নিয়ে বেঁচে আছেন বৃদ্ধ সৈয়দ আলী! মাদারীপুর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্মৃতি নিয়ে বেঁচে আছেন বৃদ্ধ সৈয়দ আলী!

জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় থাকাকালিন সময় মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার এনায়েতনগর এলাকার খুনের চর গ্রামের বৃদ্ধ মোঃ সৈয়দ আলী খান ছিলেন একজন টকবকে যুবক। তিনি সেই সময় আ’লীগের একজন অন্ধভক্তও ছিলেন। নৌকার মিছিল দেখলে আর ঘরে মন বসত না তার। সমস্ত কাজ ফেলে অংশগ্রহন করতেন মিছিলে। সেই সময় সৈয়দ আলী ঢাকার দুতাবাস অডিট অধিদপ্তরে একটি ছোট পদে চাকরি করতেন। চাকরির টাকা দিয়ে কোন মতে দিন কেটে যেত তার। এবং তিনি ভিষন পরউপকারী ছিলেন। তিনি টাকা রোজগার করে গরীব অসহায়দের মাঝে বিলিয়ে দিতেন। ওই সময় হঠাৎ করে দেশে জাতীয় পার্টি কার্ফু জারী করেন। দেশে চলতে থাকে চরম গ্রেফতারী আতঙ্ক। সেই সময়ই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রশাসন বিভিন্নভাবে হয়রানি শুরু করে। হঠাৎ একদিন রাতে গ্রেফতার এরাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জহুরা তাজউদ্দিনকে সাথে নিয়ে গোপনে সৈয়দ আলীর অফিসে আশ্রয়ের জন্য যান। তখন সৈয়দ আলী নিজে তাদের দু’জনকে সম্মানের সঙ্গে আশ্রয়ের জন্য সকল ব্যবস্থা করে দেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জহুরা তাজউদ্দিন একরাত নিরাপদে থাকেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় পরের দিন ভোরে তাদের দু’জনকেই পুলিশ আটক করে নিয়ে যায়। তখন সৈয়দ আলী তাদের দু’জনকে বাঁচানোর জন্য আপ্রান চেষ্টা করেও পুলিশের হাত থেকে রক্ষা করতে পারেননি। প্রধানমন্ত্রীকে আটকের সেই দঃসহ স্মৃতি নিয়ে আজও বেঁচে আছেন বৃদ্ধ সৈয়দ আলী। তার বয়স জাতীয় পরিচয়পত্র অনুসারে এখন ৬২ বছর। তিনি বর্তমানে বয়েসের ভারে নজু। রোগ-শোকে কাতর হয়ে পড়েছেন। অর্থভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না। তার সংসারে রয়েছে স্ত্রী ফাতেমা বেগম, ১ ছেলে আবু হানিফ ও ১ মেয়ে জান্নাত। ছেলে মেয়ে দুই জনেই লেখা-পড়া করে বেকার রয়েছে। অনেক কষ্ট করে বর্তমানে তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঢাকার সেগুন বাগিচায় একটি ভাড়া বাসায় থাকেন। এই বয়সে সৈয়দ আলী কোন কাজকর্মও করতে পারছেন না। তাই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অর্ধহারে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। বর্তমানে তার চোখের পানি ফেলানো ছাড়া আর কোন সম্বলও নেই। তারপর শত কষ্টেও প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘআয়ু কামনা করে যাচ্ছেন।

সৈয়দ আলী খান প্রধানমন্ত্রীর স্মতিচারণ করে বলেন, আমি নীজের জীবনবাজী রেখে এরশাদের সামরিক শাসনের সময় শেখ হাসিনাকে নীরাপদে রাখার জন্য এক রাত আমার অফিসে স্থান দিয়েছিলাম। সকালে যখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে পুলিশ আটক করে নিয়ে যায়। সেই সময় তিনি আমাকে বলেছিলেন, আমি বেঁচে থাকলে তোমার এ উপকারের কথা ভুলতে পারবনা। আজকে তিনি প্রধানমন্ত্রী হয়েছে। কিন্তু আমার মত একজন ক্ষুদ্র মানুষের কথা হয়তবা তার মনে নেই। মনে থাক বা না থাক তাতে কোন দুঃখ নাই। আমি এখনও আমার জীবনের চেয়েও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভালোবাসি। যে কটা দিন বেঁচে থাকব তার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা যাব।

এ ব্যাপারে কালকিনি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক আ’লীগের সাধারন সম্পাদক মীর গোলাম ফারুক বলেন, সৈয়দ আলীর বিষয়টি আমরা অবগত ছিলাম না। তাকে আমরা সকল প্রকার সহযোগীতা করব। কারন সৈয়দ আলীদের মত ভক্তদের দোয়া ও ভালোবাসায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বিশ্বের বুকে মাথা তুলে দাড়িয়েছেন।