Opu Hasnat

আজ ২৫ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার ২০২০,

বালিয়াকান্দিতে পিয়াজ চাষে ঝুকছেন কৃষক কৃষি সংবাদরাজবাড়ী

বালিয়াকান্দিতে পিয়াজ চাষে ঝুকছেন কৃষক

মসলা জাতীয় ফসল উৎপাদনে বিখ্যাত এলাকা হিসেবে পরিচিত রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলা। এ উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫শত হেক্টর জমিতে পিয়াজের আবাদ বেশি হচ্ছে। কৃষকরা তীব্র শীত উপেক্ষা করে পিয়াজের চারা রোপনে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন। এ সুযোগে পিয়াজ রোপনে শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে কৃষকরা অতিরিক্ত মূল্যে শ্রমিক সংগ্রহ করে দ্রুত রোপন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। 

বালিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্রে জানাগেছে, এ উপজেলাতে গত বছর সাড়ে হাজার হেক্টর জমিতে পিয়াজের আবাদ হয়। চলতি মৌসুমে ১০ হাজার হেক্টর জমির বেশি জমিতে পিয়াজের চাষ হচ্ছে। এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অধিক জমিতে পিয়াজের আবাদ হবে। এ উপজেলাতে লাল তীর কিং, তাহেরপুরী, ফরিদপুরী, বারি-১সহ বিভিন্ন জাতের পিয়াজ রোপন করা হচ্ছে। 

পিয়াজ রোপনকারী শ্রমিক জলিল, কায়সার, দাউদ, কামাল, সোহরাব আলী বলেন, উপজেলার নারুয়া, ইসলামপুর, নবাবপুর, বহরপুর, জামালপুর, বালিয়াকান্দি, জঙ্গল ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামের মাঠেই চলছে পিয়াজ চারা রোপনের মৌসুম। প্রতিদিন ভোর থেকেই পিয়াজের চারা উত্তোলনের পর মাঠে জমিতে রোপন করা হয়। প্রতিজন প্রতি ৫শত টাকা থেকে ৬শত টাকা করে কাজ করা হচ্ছে। তবে একযোগে কাজ শুরু হওয়ায় শ্রমিকের চাহিদা বেশি থাকায় দাম একটু বেশি নেওয়া হচ্ছে। এক সপ্তাহের মধ্যেই পিয়াজ রোপন সম্পন্ন হবে। 

পিয়াজ রোপনকারী কৃষক রহিম মোল্যা, রফিকুল ইসলাম, আঃ লতিফ, শহর আলী বলেন, এ বছর পিয়াজের দাম ভালো পাওয়ার কারণে কৃষকরা পিয়াজ চাষে ঝুকছেন। এ অঞ্চলে একযোগে পিয়াজের চাষ হওয়ায় এখন শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। ৫ থেকে ৬শত টাকা করে প্রতিদিন দিতে হচ্ছে। সর্বোচ্চ বিকাল ৪টা পর্যন্ত পিয়াজ রোপনের কাজ করা হয়। তারপর আর কেউ মাঠে থাকে না। কয়েকদিনের প্রচন্ড শীতের কারণে পিয়াজ রোপনকারীদের একটু অসুবিধা হচ্ছিল। তবে দুদিন রোদের কারণে এখন পিয়াজ রোপন সম্পন্ন করতে চেষ্টা করা হচ্ছে। ১ কেজি দানার পিয়াজ চারা ১৬-১৮ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জনের দাম বেশি ও পিয়াজ চারার দাম বেশি হলেও কৃষকরা জমি খালি না রেখে পিয়াজ চারা রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছে। অনেকের পিয়াজ রোপন ইতিমধ্যেই শেষ করেছেন। তবে আগামী ১৫ দিনের মধ্যেই এ অঞ্চলে পিয়াজ চারা রোপন করা শেষ হবে বলে ধারনা করা হচ্ছে। 

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আবহাওয়ার অনুকুল পরিবেশ থাকার কারণে চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অধিক জমিতে পিয়াজের চাষ হবে। এ অঞ্চলে তাহেরপুরী, ফরিদপুরী, লালতীর কিং, বারী পিয়াজ-১সহ বিভিন্ন জাতের পিয়াজের চাষ করা হয়।