Opu Hasnat

আজ ২৫ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার ২০২০,

অসময়ের তীব্র ভাঙ্গনে দিশেহারা রাজবাড়ীর মানুষ রাজবাড়ী

অসময়ের তীব্র ভাঙ্গনে দিশেহারা রাজবাড়ীর মানুষ

অসময়ের তীব্র ভাঙ্গনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে রাজবাড়ীর মানুষ। তিন মাস আগের ভাঙ্গনে বসত বাড়ি হারানোর ক্ষত কাটতে না কাটতেই আবার শুরু হয়েছে ভাঙ্গন। শুষ্ক মৌসুমের এই ভাঙ্গনে এক সপ্তাহে নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে অন্তত এক’শ বিঘা ফসলী জমি। সরিয়ে নিতে হচ্ছে বসতবাড়ি। ভাঙ্গন আতঙ্কে দিন কাটছে হাজারো মানুষের।  

এদিকে রবিবার সকালে রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দেবোগ্রাম ইউনিয়নের কাওয়াজানি গ্রামে গিয়ে দেখাযায়, একের পর এক বড় আকৃতির ফসলী জমিসহ মাটির চাপ ভেঙ্গে পরছে। উৎসুক জনতা ভীর করে নদী ভাঙ্গন দেখছে। ফসলের মাঠে থাকা পেয়াজ, টমেটো, ও বেগুন নদীতে তলিয়ে যাচ্ছে। জমির মালিকেরা জমিতে থাকা ফসল বাচানোর চেষ্টা করছে।

ফসল বাচানো কাজে ব্যস্ত থাকা দেবোগ্রাম ইউনিয়নের আম্বিয়া বেগম বলেন, তিনমাস আগের ভাঙ্গনে ঘরবাড়ি হারিয়ে মনে চাপা কষ্ট আর বুকভরা বেদনা নিয়ে অন্যের জমিতে তিন মেয়েকে নিয়ে কুরে ঘরে বাস করে আসছিলাম।  ওই সময়ের ভাঙ্গন থেকে রেহাই পাওয়া ১০ শতাংশ জমিতে করেছিলাম টমোটোর চাষ। রবিবারের সকালের হঠাৎ ভাঙ্গনে নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে আমার শেষ সম্বল। এখন আমার দারানোর কোন জায়গা নেই। ভাঙ্গন আমার জীবনে এটাই প্রথম নয় এর আগেও ভেঙ্গেছে আরো তিনবার, তবে এবার নিঃস্ব হলাম।

একই এলাকার কৃষক ৬৫ বছরের জলিল প্রামানিক বলেন, পদ্মার ভাঙ্গনে দিশেহারা আমরা। এখন কোথায় যাবো? কি করবো ? কার কাছে বললে ভাঙ্গন বন্ধ হবে ? আমাদের এখন একটাই চিন্তা যেভাবে ফসলী জমি ভাঙ্গছে বসত বাড়ি আর রক্ষা পাবে না। এভাবে আর দু’এক দিন ভাঙ্গলেই কাওয়াজানি গ্রামটি মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে। 
 
এ সময় দেবোগ্রামের বাসিন্দা খলিল মল্লিক বলেন, শুধু ফসলী জমি নয়। ভাঙ্গন ঝুকিতে আছে পুরো গ্রাম। ভাঙ্গন ঝুকি দৌলতদিয়া ও দেবোগ্রামের পাচটি বিদ্যালয়, মসজিদ, মন্দিরসহ হাজার হাজার বসত বাড়ি। শুষ্ক মৌসুমে একন ভাঙ্গন আমরা এর আগে কখনও দেখিনি বলেও জানান তিনি।

অপর এক বাসিন্দা হামিদা পারভীন বলেন, আমরা এই দেশের নাগরিক। ভোটের সময় জনপ্রতিনিধি, চেয়ারম্যান মেম্বার এমপিরা আসেন বলেন ভোট দেন নদী বেধে দিবো। কিন্তুু ভোটের পরে আর কারো দেখা পাওয়া যায় না। আমরা কোন চাল চাই না চাই নদী শাসন। তিনি দাবী করেন, গত বছরের অপরিকল্পিত নদী খননের কারনেই এই ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। তখন বলা হয়েছিলো নদীর এপার বেধে দেওয়া হবে তার আর কোন কাজ হয়নি। যে কারনেই এই ভাঙ্গন।                                    

গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আছাদুজ্জামান চৌধুরী বলেন, নদীর পানির লেয়ার নিচে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমের মতই ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ও দেবোগ্রাম ইউনিয়নের বেশির ভাগ এলাকা ভেঙ্গে গেছে। এ ব্যপারে বার বার বলা সত্যেও বিভিন্ন অযুহাত ছাড়া কোন পদক্ষেপ নেই পানি উন্নয়ন বোর্র্ডের। অচিরেই নদী শাসনের দাবীও জানান তিনি।

এ ব্যপারে রাজবাড়ীর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো’র) নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সফিকুল ইসলাম বলেন,  শুষ্ক মৌসুমের হঠাৎ ভাঙ্গনের কথা শুনেছি। ভাঙ্গন কবলীত কাওয়াজানি এলাকাটি বিআইডব্লিটিএর একটি প্রকল্পের আওতায় পরেছে। ওই প্রকল্পটি একনেকে পাশ হলেই কাজ শুরু করা হবে। তবে আশা করা হচ্ছে এ মাসের মধ্যেই প্রকল্পটি পাস হবে।