Opu Hasnat

আজ ২২ ফেব্রুয়ারী শনিবার ২০২০,

ব্রেকিং নিউজ

গোয়ালন্দে যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে বিধবার বাড়ি দখলের অভিযোগ রাজবাড়ী

গোয়ালন্দে যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে বিধবার বাড়ি দখলের অভিযোগ

রাজবাড়ী গোয়ালন্দ উপজেলা দৌলতদিয়ায় সুফিয়া বেগম (৫৮) নামের অসহায় এক বিধবার বসতবাড়ি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে প্রভাবশালী এক যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে। নিজ বসত বাড়ি থেকে উচ্ছেদ হয়ে দখল ফিরে পেতে ওই বৃদ্ধা দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। সুফিয়া বেগম উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের শামছু মাষ্টারের পাড়া গ্রামের মৃত আবু বক্কর সিদ্দিকের স্ত্রী। ভুক্তভোগী সুফিয়া বেগম সোমবার বাড়ির দখল ফিরে পেতে গোয়ালন্দের সহকারী কমিশনার (ভুমি) আব্দুল্লাহ আল মামুনের দ্বারস্থ হন।

উপজেলা ভুমি অফিস প্রাঙ্গনে কথা হয় তার সাথে। তিনি বলেন, আমার দলিল মূলে মালিকানায় থাকা ১১ শতাংশ জমির উপর বসতবাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছিলাম। আমাকে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে প্রায় দশ বছর আগে জোর করে বাড়ি দখল করে নিয়েছেন দৌলতদিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সহ সভাপতি এলাকার প্রভাবশালী আব্দুল লতিফ শেখ ও তার দুই ভাই। ভয়ে এলাকা ছেড়ে রাতের আঁধারে আমার ছোট দুই ছেলেকে নিয়ে বড় ছেলের কাছে (পাবনা জেলার ইশ্বর্দী উপজেলার ইস্তা গ্রামে) চলে যাই। এতদিন পর কেন বাড়ির দখল নিতে এসেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, এতদিন আমার ছেলেরা ছোট ছিলো আমি ভয়ে সাহস পায়নি। তাই আমার নিজস্ব বাড়ি দখলের জন্য প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছি।

স্থানীয়রা জানান, দৌলতদিয়া-খুলনা মহাসড়কের পাশে দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় সামসু মাস্টার পাড়ার বাড়িতে সুফিয়া বেগম দীর্ঘদিন বসবাস করে আসছিলেন। কিন্তু ২০১০ সালের দিকে দৌলতদিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সহ সভাপতি লতিফ শেখ, তার বড় ভাই সলেমান ও ছোট ভাই শহীদ মিলে সুফিয়া বেগমের বাড়ি দখল করেন। তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করেন তারা। অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় সে সময় তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার সাহস পায়নি।

দৌলতদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ মোশারফ হোসেন প্রামাণিক বলেন, সুফিয়া বেগম চলে যাওয়ার পর শুনেছি সলেমান, লতিফ ও তার ছোট ভাই শহীদ তার (সুফিয়া বেগমের) বাড়ি জোর করে দখলে নিয়েছে। তিনি আরো বলেন, দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ অন্যায় করলে তার অবশ্যই শাস্তি হবে। কারো ব্যক্তিগত অন্যায়ের দায় দল নেবে না।

অভিযুক্ত আব্দুল লতিফ শেখ এ প্রসঙ্গে জানান, বছর বিশেক আগে সুফিয়া বেগমের ওই বাড়ি আমি ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা দাম ধরে কিনে নেই। ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা স্ট্যাম্প করে তাকে প্রদান করি। বাকি টাকা জমি রেজিস্ট্রির সময় পরিশোধের কথা ছিল। কিন্তু সুফিয়া বেগমের বাড়িটির রেকর্ড ভুল হওয়ার কারণে তিনি আর রেজিস্ট্র করে দিতে পারেনি। তাকে বলা হয়েছে রেকর্ড সংশোধন করে রেজিস্ট্রি করে দিলে বাকি টাকা দিয়ে দেয়া হবে। জোরপূর্বক দখলের অভিযোগটি সঠিক নয়।

এ ব্যপারে গোয়ালন্দ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভুমি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, সুফিয়া বেগম আমার কাছে এসেছিলো। মৌখিকভাবে তার অভিযোগ বলেছে। তবে কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহন করবো।