Opu Hasnat

আজ ১৫ আগস্ট বুধবার ২০১৮,

আজ ১০ অক্টোবর বিশ্ববরেন্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ২১-তম মৃত্যুবাষির্কী

সংস্কারের অভাবে নষ্ট হচ্ছে সুলতানের ভ্রাম্যমান শিশু স্বর্গ শিল্প ও সাহিত্যনড়াইল

সংস্কারের অভাবে নষ্ট হচ্ছে সুলতানের ভ্রাম্যমান শিশু স্বর্গ

আজ ১০ অক্টোবর বিশ্ববরেন্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ২১ তম মৃত্যু বার্ষিকী। ১৯৯৪ সালের এই দিনে যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে তিনি মারা যান। শিল্পীর মৃত্যু বার্ষিকী পালন উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের ও এস এম সুলতান ফাউন্ডেশন’র পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচি গ্রহন করা হয়েছে। 

কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে শিল্পীর মাজার জিয়ারত, কোরানখানি, দোয়া মাহফিল, শিশুদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভা।

বিশ্ব বরেন্য চিত্র শিল্পী এসএম সুলতান ১৯২৪ সালের ১০ আগষ্ট নড়াইল পৌরসভার মাছিমদিয়া গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন । তাঁর বাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ঐতিহ্যবাহি চিত্রানদী। তার পিতা মেছের আলি ছিলেন পেশায় একজন রাজ মিস্ত্রী। মাতা মোছাঃ মাজু বিবি ছিলেন গৃহিনী। শিশুকাল থেকেই  ডানপিঠে সুলতান ছিলেন প্রখর প্রতিভাবান। তিনি শিশুকাল হতেই ছবি আঁকতে পছন্দ করতেন। শৈশবেই ছবি আঁকায় সুনাম অর্জন করেন। ৭০ বছরের বোহেমিয় জীবনে শিল্পী তার তুলির আঁচড়ে সৃষ্টি করেছেন হাজারো চিত্রকর্ম। ১৯৫০ সালে শিল্পী সুলতান আমেরিকা যান। সেখান কাটান কিছু দিন। এরপর পাড়ি জমান ইউরোপে। এ সময় লন্ডনে তাঁর বেশ কয়েকটি একক চিত্র প্রদর্শনী হয়। তিনি বিশ্ববিখ্যাত চিত্র শিল্পী পাবলো পিকাসো, ডুফি, সালভেদও, দালি, পল-ক্লী, কনেট, মাতিসের ছবির সঙ্গে যৌথ চিত্র প্রদশর্নীতে অংশগ্রহন করেন। ইউরোপ ও আমেরিকা জয় করে ১৯৫৩ সালে দেশে ফিরে আসেন। এই সময় দেশ বিদেশে তাঁর সুখ্যাতি সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৬৯ সালে নড়াইল পৌরসভার মাছিমদিয়ার বাড়িতে দি ইনস্টিটিউট অফ ফাইন আটর্স এর যাত্রা শুরু হয়। শিল্পী সুলতান তার জীবদ্দশায় একুশে পদক, স্বাধীনতা পদকসহ বিভিন্ন দেশী বিদেশী সম্মাননায় ভূষিত হন।

বিশ্ব বরেণ্য চিত্র শিল্পী নড়াইলের মাছিমদিয়ায় নিজ বাড়িতে শিশুস্বর্গ নির্মান করেন। সেখানে তিনি নিজ হাতে শিশুদের ছবি আঁকা শিখাতেন।  শিশুদের বিনোদনের জন্য ১৯৯১ সালে নির্মান করেন ভ্রাম্যমান শিশুস্বর্গ নামের একটি দ্বিতল নৌকা। শিল্পী সুলতানের স্বপ্ন ছিল শিশুদের নিয়ে নৌকায় ভ্রমনে যাবেন। নদী পথে ভ্রমনের সময় শিশুরা প্রকৃতি ও জীবজন্তুর ছবি আঁকবে। তার মৃত্যুও পর সেই নৌকাটি (শিশু স্বর্গ) আর চলাচল করেনি। তাঁর মৃত্যুর অল্প দিন পরেই নৌকাটি ডাঙ্গায় তুলে রাখা হয়। শিল্পীর বাড়ির পাশেই চিত্রানদীর তীরে তুলে রাখা হয়েছে নৌকাটি। দীর্ঘদিন সংস্কার করা না করায় দিনে দিনে নষ্ট হচ্ছে নৌকার মূল্যবান সামগ্রী। সুলতান ভক্তরা দাবি জানিয়েছেন নৌকাটি সংস্কার করে পানিতে ভাসিয়ে রাখার জন্য ।