Opu Hasnat

আজ ১১ ডিসেম্বর মঙ্গলবার ২০১৮,

টাঙ্গাইল উপ নির্বাচনে আ’লীগ মনোনিত প্রার্থী

সোহেল হাজারীর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন রাজনীতিটাঙ্গাইল

সোহেল হাজারীর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন

টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেলেন কালিহাতি উপজেলার প্রাক্তন চেয়ারম্যান হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারী। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে সংসদীয় বোর্ডের সভায় এই মনোনয়ন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংসদীয় বোর্ডের সভাপতি ও দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারী ১৯৭৩ সালের ১ জানুয়ারী কালিহাতী উপজেলার ছাতীহাটিতে জন্মগ্রহন করেন। তার পিতার নাম মৃত সামছুল হুদা খান । সোহেল হাজারী ১৯৮৫ সালে গোপালদিঘী উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার মধ্যদিয়ে তার  রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। পরে ১৯৮৬ সালে ওই বিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ১৯৯০ সালের এরশাদ সরকার বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দেলনের পর ১৯৯১ সালে সরকারী এম. এম. আলী কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে এম.এম আলী কলেজের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে স্বাধীনতা পরবর্তী ছাত্রলীগের প্রথম ভি,পি নির্বাচিত হন। পরে ১৯৯৪ সালে ৫ জুন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জের ধরে বি.এন.পি সমর্থীত সন্ত্রাসী দের হামলার স্বিকার হন সোহেল হাজারী ও তার বড় ভাই জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক সাহেদ হাজারী। সে সময় তিনি প্রানে রক্ষা পেলেও সন্ত্রাসীদের নির্মম হামলায় নিহত হন ছাত্রনেতা সাহেদ হাজারী।এর পর টাঙ্গাইলের  বিন্দুবাসিনী বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে শাহেদ হাজারী হত্যার প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত জনসভায় যোগদিয়ে সোকার্ত পরিবারকে সমবেদনা জ্ঞাপন করে সোহেল হাজারীর সার্বিক দায়িত্ব ভার গ্রহন করেন বর্তমান প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা ।

পরে ১৯৯৬ সালে বাংলার আলীগড় নামে খ্যাত করটিয়া সা’দত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ছাত্র সংসদের ভি,পি নির্বাচিত হন সোহেল হাজারী এবং সেখান থেকেই ¯œাতক পাশ করেন তিনি। ১৯৯৮ সালে নির্বাচিত হন জেলা ছাত্রলীগের আহŸায়ক। এরপর নানা ধরনের রাজনৈতিক মামলা হামলার ঝুকি মাথায় নিয়ে দলীয় চেয়ারপার্সন শেখ হাসিনার নির্দেশে ২০০১ সালে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত হন তিনি। ২০০২ সালে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরে ২০০৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরে ২০০৯ সালে কালিহাতী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে বিএনপি মনোনিত প্রার্থীকে ৬১ হাজার ভোটের ব্যাবধানে পরাজিত করে উপজেলা চেয়ারম্যান মনোনীত হন সোহেল হাজারী। উপজেলা চেয়ারম্যান থাকাকালীন সমাজ সেবায় বিশেষ ভূমিকা ও উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের জন্য স্থানীয় সরকার মনোনীত দেশের শ্রেষ্ঠ উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে ২০১৩ সালে মাদার তেরেসা স্বর্ণপদক, মহানগর পার্সোনালিটি এ্যাওয়ার্ড, মহাত্মা গান্ধী শান্তি পদক ও চিত্তরঞ্জন দাশ পদক অর্জণ করেন সোহেল হাজারী। বর্তমানে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন সোহেল হাজারী।  কালিহাতীর ছাতিহাটীতে নিজ এলাকায়  শহীদ শাহেদ হাজারীর নামে একটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও একটি মহাবিদ্যালয় স্থাপন করেন তিনি।

উল্লেখ্য, হজ্ব ও তাবলিগ নিয়ে বিতর্কের জেরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও মšী¿সভা থেকে বহিস্কারের পর এই আসনের সাংসদ আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী গত ১ সেপ্টেম্বর সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করলে দশম জাতীয় সংসদের ১৩৩ নম্বর (টাঙ্গাইল-৪) কালিহাতী আসনটি শূন্য হয়।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইল-৪ শূন্য আসনে ১০ নভেম্বর ভোটের দিন নির্ধারণ করে উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। 

কালিহাতী উপজেলার ১৩ ইউনিয়ন, কালিহাতী পৌরসভা এবং এলেঙ্গা পৌরসভা নিয়ে টাঙ্গাইল-৪ আসন। এ আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৮৯ হাজার ৯৯২ জন।