Opu Hasnat

আজ ১৯ জানুয়ারী রবিবার ২০২০,

ছাত্রাবাসে ছাত্রের ঝুলন্ত লাশ কুমিল্লা

ছাত্রাবাসে ছাত্রের ঝুলন্ত লাশ

কুমিল্লা কোটবাড়ি এলাকার গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুলের একটি ছাত্রাবাস থেকে শাহাদাত হোসেন সাব্বির (১১) নামে এক ছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার বিকেলে সদর দক্ষিণ থানার আওতাধীন কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা মরদেহটি উদ্ধার করে।

নিহত সাব্বির কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের যশপুর গ্রামের কৃষক হুমায়ুন কবির মোল্লার ছেলে।

ওই স্কুলের শিক্ষার্থীরা জানায়, সাব্বির গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুলের প্রাইমারি শাখা থেকে পিইসি পাস করে বর্তমানে নবম শ্রেণির ছাত্র তার বড় ভাই শাখাওয়াত হোসেন সৈকতের সঙ্গে ছাত্রাবাসে থেকে ৬ষ্ঠ শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষার জন্য প্রস্ততি নিচ্ছিল। ২৪ ডিসেম্বর তার ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় খেলতে গিয়ে ছাদের বেলকনির বাইরে পাইপের সঙ্গে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান ছাত্রাবাসের ছাত্ররা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহত সাব্বিরের চাচা ওমর ফারুক বলেন, আমরা খবর শুনে ঘটনাস্থলে এসে অন্য ছাত্রদের কাছ থেকে জেনেছি বৃহস্পতিবার সকালে ক্রিকেট বল নিয়ে ছাত্রাবাস থেকে খেলতে বের হয় সাব্বির। আর খেলতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রাবাসের সর্বোচ্চ কতৃপক্ষ তাকে অনেক মারধর করেছে। মারধরের পর তাকে বলেছে জামা-কাপড় ব্যাগে ভরে বাড়ি চলে যেতে। এরপর থেকেই তাকে ছাত্রাবাসে দেখতে পায়নি সহপাঠীরা। পরে বিকেলে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পায় অন্য ছাত্ররা।

তিনি বলেন, এতো ছোট বয়সে সাব্বির কেন আত্মহত্যা করবে? আর যদি আত্মহত্যা করেও থাকে তাহলে তাকে আত্মহত্যা করার মতো পরিস্থিতি কারা তৈরি করে দিয়েছে? আমরা সঠিক তদন্তের মাধ্যমে এই ঘটনার বিচার ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। আর সামান্য খেলতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে এভাবে ছাত্রকে নির্যাতন করাও অপরাধ। যার শেষ পরিণতি সাব্বিরের লাশ।

এ বিষয়ে কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ওসি নাজমুল হুদা বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ঘটনাটি আত্মহত্যা। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

তিনি বলেন, খেলতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে সকালে ছাত্রাবাস কর্তৃপক্ষ তাকে শাসন করেছে বলে যেই খবর পাওয়া গেছে সেটাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে ঘটনার সত্যতা পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।