Opu Hasnat

আজ ৩০ মার্চ সোমবার ২০২০,

গণগ্রন্থাগার খাতের উন্নয়নে খসড়া নীতিমালা প্রণয়নে জাতীয় নীতি কর্মশালা অনুষ্ঠিত রাজধানী

গণগ্রন্থাগার খাতের উন্নয়নে খসড়া নীতিমালা প্রণয়নে জাতীয় নীতি কর্মশালা অনুষ্ঠিত

ব্রিটিশ কাউন্সিল এর লাইব্রেরিজ আনলিমিটেড প্রকল্প ও গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের সহযোগিতায় আজ রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে অনুষ্ঠিত হলো ‘পলিসি ওয়ার্কশপ অন দ্যা ফরমুলেশন অব এ ন্যাশনাল পলিসি ফর পাবলিক লাইব্রেরিজ’ শীর্ষক পলিসি কর্মশালা। দিনব্যাপী এ কর্মশালার উদ্দেশ্য ছিলো গণগ্রন্থাগার বিষয়ক নীতি কাঠামোর খসড়া পর্যালোচনা এবং সংশ্লিষ্ট সকলম হলের মতামত ও সুপারিশমালা সংগ্রহ। উদ্বোধনী পর্বে খসড়া নীতিমালা উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা কৌশল বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. রোকনুজ্জামান। 

প্রায় শতাধিক অংশগ্রহণকারীবৃন্দসহ এ কর্মশালার উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোঃ আবু হেনা মোস্তফা কামাল, এনডিসি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টম মিশোসিয়া, কান্ট্রি ডিরেক্টর, ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশ এবং এ.জে.এম আব্দুল্যাহেল বাকী, পরিচালক গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর এবং যুগ্ম সচিব সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, আবদুল্লাহ হারুন পাশা, পরিচালক গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর এবং অতিরিক্ত সচিব, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়। উদ্বোধনী পর্বে সভাপতিত্ব করেন গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. আব্দুল মান্নান ইলিয়াস। অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ কাউন্সিল এবং গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ। 

জাতীয় পর্যায়ে আয়োজিত এই নীতি কর্মশালার প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোঃ আবু হেনা মোস্তফা কামাল, এনডিসি বলেন, “নতুন প্রজন্মের পাঠক এবং গ্রন্থাগার সমূহের সাথে সেতুবন্ধন তৈরির লক্ষ্যে কাজকরে যেতে হবে আমাদের। বিশেষ করে প্রতিটি গ্রন্থাগারকে শিশুদের উপযোগী করে গড়ে তোলা জরুরী। গণগ্রন্থাগার খাতের এসব উন্নয়নকে তরান্বিত করা, এর সেবা সমূহকে যুগোপযোগী,  চাহিদা নির্ভর ও কার্যকর করার জন্য দরকার একটি শক্তিশালী নীতি কাঠামো, একটি সহায়ক সম্পূর্ণ নীতিমালা।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর টম মিশোসিয়া বলেন, “প্রযুক্তি আমাদের পাঠোভ্যাসে পরিবর্তন আনতে সক্ষম হলেও একটি কাঠামোবদ্ধ পরিবেশে সমমনা মানুষের সানিধ্যে থেকে তথ্য সংগ্রহ কিংবা সামাজিক যোগাযোগ রক্ষার মতো বিষয়গুলোর চাহিদা রয়েই গেছে। ডিজিটাইজেশনেই এই যুগে তাই লাইব্রেরিগুলোকেও হতে হবে আধুনিক এবং যুগোপযোগী। আজকের এই কর্মশালায় আপনাদের মতামত ও পরামর্শের ভিত্তিতে খসড়া নীতিমালা প্রয়োজনীয় পরিবর্তন সাধন করা হবে যেন এই নীতিমালাটির বলে গণগ্রন্থাগারগুলো একটি জ্ঞানচর্চার আধার হয়ে গড়ে ওঠে। 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের পরিচালক এবং যুগ্ম সচিব সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ.জে.এম আব্দুল্যাহেল বাকী, বলেন, “গণগ্রন্থাগারের সাথে সম্পর্কিত ১০০০ এর অধিক ব্যক্তির মতামতের ভিত্তিতেই প্রস্তুত করা হয়েছে খসড়া গণগ্রন্থাগার নীতিমালা। সকলের চাহিদা ও মতামতকে গুরুত্ব দিয়েই খসড়াটি প্রস্তুত করা হয়েছে, ফলে এই খসড়া নীতিমালায় গণগ্রন্থাগারের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের চাহিদার প্রতিফলন হয়েছে”।

পরিচালক গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর এবং যুগ্ম সচিব সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, আবদুল্লাহ হারুন পাশা বলেন, “বাংলাদেশে বিদ্যমান গণগ্রন্থাগার নীতিমালা একুশ শতকের উপযোগী। আজকের এই কর্মশালায় মূলত নতুন নীতিমালা প্রণয়নের লক্ষ্যে খসড়া নীতিমালাটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে, আপনাদের মতামত ও পরামর্শ গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন সাধন করা হবে। এই নীতিমালায় আধুনিক গ্রন্থাগার ধারণাটি কিভাবে অন্তর্ভুক্ত করা যায় সে বিষয়ে আমাদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করতে হবে। 

লাইব্রেরিজ আন লিমিটেড প্রকল্পের পরিচালক কার্স্টি ক্রফোর্ড বলেন, “এই জাতীয় নীতিমালা বাংলাদেশের গণগ্রন্থাগার খাতকে এমন এক অবস্থানে নিয়ে যাবে যেখান থেকে জ্ঞান, শিক্ষা এবং তথ্যের মাধ্যমে সকলের জন্য সুযোগ সৃষ্টি এবং স্থায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা যাবে।” এই নীতিমালাটি গণগ্রন্থাগার খাতের উন্নয়ন, গ্রহণযোগ্যতা এবং দৃশ্যমানতা বৃদ্ধি করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। 

সভাপতির বক্তব্যে গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. আব্দুল মান্নান ইলিয়াস বলেন, “খসড়া নীতিমালাটিতে দারুণভাবে প্রতিফলিত হয়েছে গণগ্রন্থাগার খাতের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের অভিমত। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার অন্যতম অনুষঙ্গ একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা। গণগ্রন্থাগারসমূহকে এসডিজি লক্ষ্যমাত্রাপূরণের সহযোগী করে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সকল দিক প্রাধান্য পেয়েছে এই খসড়া নীতিমালাটিতে।

উল্লেখ্য, যে গত ২৮ এপ্রলি ২০১৯ তারিখে অনুষ্ঠিত হয় গণগ্রন্থাগার নীতমিালা প্রণয়ন সর্ম্পকতি প্রথম জাতীয় নীতি র্কমশালা। আজকের এই দিনব্যাপী নীতি কর্মশালা ছিলো গণগ্রন্থাগারখাতের জন্য একটি নতুন নীতিমালা প্রণয়নের সেই চলমান প্রক্রিয়ার অংশ।