Opu Hasnat

আজ ২৬ জানুয়ারী রবিবার ২০২০,

চাইলাখাল খনি প্রকল্পে চুনা পাথর উত্তোলন দীর্ঘ দিন বন্ধ, হাজার শ্রমিক বেকার সুনামগঞ্জ

চাইলাখাল খনি প্রকল্পে চুনা পাথর উত্তোলন দীর্ঘ দিন বন্ধ, হাজার শ্রমিক বেকার

সিলেটের গোয়াইঘাটের চাইলাখাল খনি প্রকল্পে দীর্ঘ দিন ধরে চুনাপাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ছুটে আসা হত দরিদ্র দিন মজুর কয়েক হাজার পাথর শ্রমিক দীর্ঘ দিন ধরে বেকার হয়ে পড়েছে। 

জানা যায়, ৭৮.২৭ একর ভূমি খনি ও খনিজ সম্পদ আইন ১৯৬৮ অনুযায়ী সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ হতে পাথর উত্তোলনের জন্য বন্দোবস্থ নেন সুনামগঞ্জের ছাতক পৌর শহরের বাগবাড়ী মহল্লার আফসার উদ্দিন ও অংশীদারগণ। ৫.৫৮ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়। এলএকেইস-৩, ১৯৭২ সালে কিন্তু অবশিষ্ট ভুমি গুলো অধিগ্রহন প্রক্রিয়াধীন থাকাবস্থায় ১৯৯১ সালে তৎকালীন বিএনপি জামাত জোর সরকারের কিছু অসাধু কর্মকর্তাও একটি স্বার্থান্বেষী মহলের প্ররোচনায় খুড়া অজুহাতের উদ্দেশ্য প্রনোদীত ভাবে চুনাপাথর উত্তোলন বন্ধ করে দেন। এতে কয়েক হাজার পাথর শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েন। ব্যবসায়ীরা হয়ে পড়েন দিশেহারা। অনেকেই কর্মসংস্থান হারিয়ে বিকল্প পথ খুঁজতে থাকেন। সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়ে দেশের মারাত্মক ক্ষতি হয়। যুক্তি হিসাবে দেখানো হয়। নিকটস্থ বিজিডি ক্যাম্পের অবস্থান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চুনাপাথর পরিদর্শনের স্থান ইত্যাদি। অথচ খনি এবং খনিজ সম্পাদ আইন ১৯৬৮ইং অনুযায়ী কোয়ারী হতে ২৫ মিটার খতি হতে ৫০ মিটার দুরত্বে হাইওয়ে, ভবন নির্মান, সেতু, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিল্প কারখানা, মার্কেট ও কবর স্থান থাকতে হবে। এ খনি বা কোয়ারীটি প্রায় ২শ মিটারের ভিতরে কোন ধরনের ভবন নেই। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চুনাপাথর পরিদর্শনের জন্যও নয়। কোম্পানীর নামে অধিগ্রহনকৃত জায়গায় পাথর উত্তোলন করতে দিচ্ছেনা নানা অজুহাত দেখিয়ে। সংরক্ষনের নামে স্বার্থান্বেষী মহলের লুটপাটের অভয়ারন্ন্য তৈরীর পায়তারাই সংরক্ষনের উদ্দেশ্য। পৃথিবীর কোথাও কোন স্থানে একটি কোয়ারীকে সংরক্ষন করা হয় নাই। সংরক্ষণ করতে হলে উপাদানের কিছু অংশ যাদু ঘরে রাখা যায়। এটি একটি হাস্যকর অজুহাত। ৭৮ একর জায়গায় একটি খনিতে চুনা পাথর সংরক্ষন করা শুধুই একটি অজুহাত। চুনা পাথর শিল্পের একটি কাচামাল। যাকে ইন্ডাষ্ট্্িরয়াল সল্ট বলা হয়। এমন কোন শিল্প নেই যেখানে চুনাপাথর প্রয়োজন হয় না। সিমেন্ট কাগজ গ্লাস সিরামিক ও টাইসল সহ নানা পন্য তৈরীতে চুনাপাথর প্রয়োজন। ১৯৯১সালে একটি স্বার্থানেষী মহল জামাত জোর সরকারের আমলে প্থার উত্তোলন বন্ধ করা হয়। প্রায় ২৭ বছর ধরে পাথর উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। অথচ ২০১৭ সালে ‘১৯ ফেব্র“য়ারী তারিখে পাথর চুরি করতে গিয়ে পাথর উত্তোলন কালে ২জন লোক মারা যায়। অযৌক্তিক ভাবে হত্যা মামলার আসামী করা হয়। কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফসার উদ্দিনকে। পোষ্টমর্টেম রির্পোটে দেখা যায়, এক্সিডেন্টিয়াল ইননেচার, কোন ভাবেই এ ধারা প্রযোজ্য নয়। প্রশাসনের লোকজন মোটা অংকের টাকা আদায় করতে না পেরে। এধারাটি সংযোজন করে দেয়। আইনানুযায়ী অধিগ্রহন করা জায়গা বাতিল করার কোন সুযোগ নেই। পাথর এবং চুনাপাথরের উপর জীবিকা নির্বাহকারী হাজার হাজার শ্রমিক এখন বেকার। দেশের নির্মান সামগ্রীর কাচা মাল হচেছ চুনা পাথর। প্রকল্প হতে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দুরে অবস্থানকারী আফসার উদ্দিনকে মিথ্যা মামলার আসামী করা হয়। অথচ তিনি খনির মালিক হয়েও পাথর উত্তোলন করতে পারছেন না। বর্তমান তত্ত্বপ্রযুক্তির যোগে বের করা যায় আফসার উদ্দিন খুন করেছেন কিনা। তিনি এ মিথ্যা মামলায় ১ মাস ১০ দিন কারাভোগ করেছেন। এখনও এ মিথ্যা মামলায় হয়রানী হচ্ছেন। 

জালালাবাদ লাইম ম্যানুফেকচার্স এন্ড ট্রেডিং এসোসিয়েশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালনা খনি প্রকল্পের স্বত্বাধিকারী আফসার উদ্দিন জানান, ২৭ বছর ধরে আমার বন্দোবস্থকৃত খনি প্রকল্পের পাথর উত্তোলন হতে বঞ্চিত থাকা স্বত্বেও অবৈধ ভাবে পাথর উত্তোলনকারী বিডিআর সহ কিছু অসাধু কর্মকর্তারা পাথর উত্তোলন করায় চুরি করতে গিয়ে ২জন শ্রমিক মারা গেলেও আমাকে মিথ্যা মামলার আসামী করা হয়েছে।

এই বিভাগের অন্যান্য খবর