Opu Hasnat

আজ ১১ আগস্ট মঙ্গলবার ২০২০,

সুনামগঞ্জ অফিসার্স ক্লাবে জুয়া খেলার দায়ে তহশীলদারসহ চার জুয়ারীর কারাদন্ড! সুনামগঞ্জ

সুনামগঞ্জ অফিসার্স ক্লাবে জুয়া খেলার দায়ে তহশীলদারসহ চার জুয়ারীর কারাদন্ড!

বেআইনিভাবে অনধিকার প্রবেশপুর্বক সুনামগঞ্জ অফিসার্স ক্লাবে মধ্যরাতে প্রকাশ্যে জুয়া খেলার অপরাধে এক তহশীলদারসহ চার জুয়ারীকে ভ্রাম্যমাণ আদালত এক মাস (৩০ দিন)’র কারাদন্ড দিয়েছেন।

দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন, জেলা শহরের নতুন পাড়ার নলিনী কান্ত পুরকায়স্থ’র ছেলে জগন্নাথপুর উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তা (তহশীলদার) নিখিল চন্দ্র পুরকায়স্থ (৪৬), সদর উপজেলার পৈন্দা গ্রামের মৃত মহেন্দ্র দাসের ছেলে দলিল লেখক শ্যামল দাস (৪৮), দিরাই উপজেলার জগদল গ্রামের মৃত আবু তাহেরের ছেলে সুনামগঞ্জ বিসিকের এক্সটেনশন কর্মকর্তা আবুল কাসেম (৪৮) ও ঝলকাঁটি জেলার নলছিটি উপজেলা সদরের আহমদ হোসেন তালুকদারের ছেলে এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের চীফ ইন্সট্রাক্টর নুরুল ইসলাম তালুকদার (৪৪)। বুধবার রাত সাড়ে ১২টায় সুনামগঞ্জ জেলা শহরের রিভারভিউ পয়েন্টে থাকা অফিসার্স কøাব হতে তাদেরকে আটক করা হয়।

এ সময় তাদের হেফাজত হতে জুয়া খেলার বিভিন্ন উপকরণ, কোমল পানিয় ক্যান, একাধিক সিগারেটর প্যাকেট, জুয়ার বোর্ডে থাকা ৪ হাজার টাকাসহ নগদ ৩০ হাজার ৭২ টাকা জব্দ করা হয়।

জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিক্তিত্বে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মোহাম্মদ আবদুল আহাদের নির্দেশে জেলা শহরের রিভারভিউ পয়েন্টে থাকা অফিসার্স ক্লাবে বেআইনিভাবে অনধিকার প্রবেশপুর্বক প্রকাশ্যে জুয়া খেলারত অবস্থায় একজন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে সদর থানা পুলিশের সহযোগীতায় বুধবার মধ্যরাতে অভিযান চালিয়ে ওই চার জুয়ারীকে জুয়া খেলার বিভিন্ন উপকরণ, জুয়ার বোর্ডে বাজিতে ধরা নগদ টাকা সহ আটক করা হয়।

এরপর রাতেই অফিসার্স ক্লাবে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. সম্রাট হোসেন ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে চার জুয়ারীকে এক মাসের (৩০ দিন) কারাদন্ড রায় প্রদান করেন।

বুধবার রাত আড়াইটার দিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. সম্রাট হোসেন জানান, প্রকাশ্য জুয়া খেলার অপরাধ আসামীরা স্বীকার করে নেয়ায় প্রকাশ্য জুয়া আইন ১৮৬৭ এর ৪ ধারায় তাদেরকে এক (৩০) মাসের কারাদন্ড প্রদান করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকালে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো.শরিফুল ইসলাম, আরো দুইজন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটসহ সদর থানা পুলিশ উপস্থিত ছিলেন।

এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার এসআই মুহিত মিয়া জানান, রায় প্রদানের পরপরই আসামীদের অফিসার্স ক্লাব হতে থানা হাজতে নিয়ে আসা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে তাদেরকে জেলা কারাগারে পাঠানো হবে বলেও জানান পুলিশের ওই কর্মকর্তা।