Opu Hasnat

আজ ১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার ২০২০,

নাব্য সংকটে প্রায় এক মাস যাবৎ অচলাবস্থা নগরবাড়ি-বাঘাবাড়ি নৌরুট রাজবাড়ী

নাব্য সংকটে প্রায় এক মাস যাবৎ অচলাবস্থা নগরবাড়ি-বাঘাবাড়ি নৌরুট

তীব্র নাব্য সংকটের কারনে প্রায় এক মাস যাবৎ অচলাবস্থা হয়ে পড়েছে নগরবাড়ি-বাঘাবাড়ি নৌরুট। ফের নাব্য সংকটের কারনে রাজবাড়ী দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটের কাছে আটকা পরেছে অন্তত ৪০ টি মাল বোঝাই ঝাহাজ। চট্টগ্রাম থেকে সার, সিমেন্ট, গম, কয়লা ও পাথর বোঝাই এসব জাহাজ সিরাগঞ্জের বাঘাবাড়ি যাওয়ার কথা ছিলো। 

স্থানীয়রা জানান, প্রতি বছর শুকনো মৌসুমে ডিসেম্বরের শেষের দিকে নদীতে নাব্য সংকট দেখা দেয়। কিন্তুু এ বছর তার উল্টো হয়েছে। নাব্য সংকটের কারনে গত নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই এই নৌরুটে জাহাজ চলাচল মারাত্বকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। যে কারনে প্রায় এক মাস যাবৎ অচলাবস্থা হয়ে পরেছে এই নৌরুটটি। 

এদিকে সোমবার বিকেলে সরেজমিনে দৌলতদিয়া ৬ নম্বর ফেরিঘাট থেকে প্রায় একমিটার দুরে বাহিরচর দৌলতদিয়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে নোঙ্গর করে রাখা হয়েছে ৪০ টি পন্যবাহি জাহাজ।  

এ সময় চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা পাথর বোঝাই জাহাজ এমভি নুসরাত জাহান-২ এর চালক দেলোয়ার হোসাইন বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়িতে পন্য পরিবহনের সহজ পদ্ধতি নগরবাড়ি বাঘাবাড়ি নৌরুট। প্রতিদিন এই নৌরুট দিয়ে শত শত মালবাহি জাহাজ চলাচল করে। কিন্তুু বর্তমানে এই রুটের, দৌলতদিয়া, মোল্লার চর, কাজির হাট, বেতালিয়া, নাকালিয়া, বেরাসহ বিভিন্ন এলাকায় তৈরি হয়েছে ছোট বড় অসংখ্য ডুবোচর। যে কারনে এখন বাধ্য হয়েই জাহাজগুলো থেকে, পোল্টি খাদ্য, সার, গম, সিমেন্টসহ বিভিন্ন মালামাল নামিয়ে ছোট ট্রলার ও বাল্কহেটে করে গন্তব্যে নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরো জানান, নদীতে ড্রেজিং প্রকল্পটি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হলে এমন ভোগান্তিতে পড়তে হত না।

জাহাজ এমভি নুর মহম্মদের চালক মোঃ আনিছুর রহমান বলেন, চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে এইসব বড় জাহাজ চলাচলে ১৮ থেকে ২০ ফুট পানির গভীররতা প্রয়োজন। নদীর কোথাও ৮ ফুটের বেশি গভীরতা নেই যে কারনেই আটকে যাচ্ছে জাহাজ। তাছারা দৌলতদিয়ায় আটকে থাকা এক একটি জাহাজে ১২’শ থেকে ১৫’শ টন মালামাল রয়েছে। এর থেকে কমপক্ষে ৫’শ টন মাল কমিয়ে ছোট বোলগেট জাহাজ বা ট্রলারে নেওয়া হচ্ছে। 

জাহাজ থেকে অন্য বোলগেটে পন্য খালাসের দ্বায়িত্বে থাকা সুপার ভাইজার আল হেলাল মাহমুদ বলেন, প্রতিটি জাহাজ থেকে কমপক্ষে ৫’শ টন পন্য খালাস করতে হচ্ছে। এখানে এক টন পন্য জাহাজ থেকে বোলগেটে তুলতে শ্রমিক খরচ হচ্ছে ১২৫ টাকা। সেই হিসেবে ৬২ হাজার ৫০০ টাকা। আবার বোলগেট ভারা দিতে হচ্ছে প্রতিটনে ১৪০ টাকা সেই হিসেবে ৭০ হাজার টাকা। এতে করে  প্রতিটি জাহাজ থেকে জাহাজ মালিক পক্ষ বা ঠিকাদারকে ১ লক্ষ ৩২ হাজার ৫’শ টাকা গচ্চা দিতে হচ্ছে।

এদিকে খালাসের দায়িত্বে থাকা শ্রমিক পাবনা জেলার বাসিন্দা লালু প্রামানিক বলেন, শ্রমিক সংকটের কারনে প্রতিটি জাহাজকে এক সপ্তাহ বসে থাকতে হচ্ছে। এরপর আবার পন্য খালাস করতে এক সপ্তাহ সময় লাগছে। সব মিলিয়ে ১৫ দিন থাকতে হচ্ছে বসে। এই পনের দিন এক দুর্বিসহ জীবন পার করতে হচ্ছে। তাছারা আসে পাশে যোগাযোগ ব্যাবস্থা ভালো না থাকায় ইঞ্জিন চালিত ট্রলারে গিয়ে বাজার করে আনতে হচ্ছে।  

এদিকে নদী খনন ও নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রাখার দায়িত্বরত সংস্থা বিআইডব্লিটিএ’র দৌলতদিয়ায় কোন স্থায়ী কার্যালয় নেই। টেলিফোনে বিআইডব্লিটিএ দৌলতদিয়া কর্মরত সহকারী প্রকৌশলী আক্কাছ আলী জানান, প্রতিবছর ডিসেম্বর মাসে পদ্মা পানি কমে যায়। এখন ভারী জাহাজ চলাচলে নিশেধাজ্ঞা আরোপ করে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে ৮ ফুটের জাহাজ চলাচল করতে, যারা বেশি পন্য নিয়ে আসছে তারাই বিপদে পরছে। খনন বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি নন তিনি। তবে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের পরামর্শ দেন তিনি।