Opu Hasnat

আজ ১২ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার ২০১৯,

অবশেষে মারা গেলো গায়ে কেরোসিন ঢেলে দগ্ধ দেলোয়ারা নারী ও শিশুফরিদপুর

অবশেষে মারা গেলো গায়ে কেরোসিন ঢেলে দগ্ধ দেলোয়ারা

ফরিদপুরের শহর সংলগ্ন ডিক্রিরচর ইউনিয়নের সিএন্ডবি ঘাট এলাকায় গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুনে দগ্ধ হওয়া দেলোয়ারা বেগম দিলু (২৫) নামে এক কলেজ ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। চারদিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে শনিবার দুপুর তিনটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে তার মৃত্যু হয় বলে পরিবারের সূত্রে জানা গেছে।

নিহত দিলু ফরিদপুরের উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনএস দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলো। সে সিএন্ডবি ঘাট এলাকার জনৈক বেল্লাল শেখের বড় মেয়ে। 

নিহতের ভাই রাকিব হোসেন (২০) বলেন, তার বোন দিলুর সাথে একই এলাকার শেখ কুদ্দুসের ছেলে আল-আমীন ওরফে স্বাধীন (২৭) নামে এক ছেলের প্রেমের সম্পর্ক ছিলো গত প্রায় চারবছর যাবত। এ সময়ে স্বাধীন প্রেমের ছলনায় তার বোনের নিকট থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার মতো হাতিয়ে নেয়। সম্প্রতি স্বাধীনের বিয়ে ঠিক করে তার। একথা জানতে পেরে তার আপু গত ২৬ নভেম্বর মঙ্গলবার সন্ধার পর স্বাধীনদের বাড়িতে যায়।

রাকিব জানান, তার বোন কেরোসিন ভর্তি একটি বোতল নিয়ে সেখানে যায়। ‘আমাকে বিয়ে করতে হবে নইলে গত পাঁচ বছর যাবত যেই টাকা নিয়েছে সেই টাকা ফেরত দিতে হবে। নইলে আমি গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেবো।’ একথা বলে  স্বাধীনের পরিবারকে সতর্ক করেন দিলু। রাকিবের অভিযোগ, তাকে নিবৃত্ত না করে উল্টো ঘরের দরজা খুলে স্বাধীনের মা আপুর গায়ে আগুন লাগিয়ে ঘরে ঢুকে আবার দরজা বন্ধ করে দেয়। 

তিনি জানান, আপুর আর্তচিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এসে বালি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। তার সাড়ে ১০টার দিকে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় নিহতের মা মমতাজ বেগম বাদি হয়ে ঢাকার শাহবাগ থানায় দিলুর মা মমতাজ বেগম বাদি হয়ে শনিবার বিকেলে একটি মামলা দায়ের করেছেন বলে রাকিব জানান। মামলায় স্বাধীন সহ তার পিতা বেল্লাল শেখ ও মা মনোয়ারা বেগমকে আসামী করা হয়েছে বলে নিহতের পরিবার জানায়।

নিহতের সহপাঠী পাপরি জানান, নিহত দেলোয়ারা ফরিদপুরের বেসরকারী সমরিতা হাসপাতালে চাকরী করতো। পাশাপাশি সে উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করতো। এছাড়া নিহত স্বাধীন ও দেলোয়ারা একইসাথে নাচ করতো। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তারা একসাথে নাচ করেছে। সেখান থেকেই তাদের মাঝে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।

এ  ব্যাপারে কোতয়ালী থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই বেলাল হোসেন বলেন, এব্যাপারে থানায় কেউ লিখিত কোন অভিযোগ করেনি। তবে লোকমুখে তিনি ঘটনাটি শুনেছেন। কেউ মামলা করলে আমরা আইনগত ব্যাবস্থা নেবো।

এদিকে, রিপোর্ট লেখার সময় নিহত দিলুর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। দিলুর এমন মৃত্যুর ঘটনায় তার সহপাঠীদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এ ব্যাপারে স্বাধীন কিংবা স্বাধীনের পরিবারের বক্তব্য জানার জন্য তার বাড়িতে খোঁজ নিতে গেলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। কোন মোবাইল নম্বরেও তাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।