Opu Hasnat

আজ ১২ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার ২০১৯,

ক্ষোভ মুক্তিযোদ্ধাদের সভা বর্জন

নড়াইলে মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয় সভায় ডেকে কর্মকর্তারা লাপাত্তা মুক্তিবার্তানড়াইল

নড়াইলে মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয় সভায় ডেকে কর্মকর্তারা লাপাত্তা

নড়াইলে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মতবিনিময় সভায় ডেকে কর্মকর্তারা অনুপস্থিত থাকায় ঘন্টাখানেক বসে থেকে অসম্মান বোধ করায় ক্ষোভে সভাস্থল  ত্যাগ করেছেন শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা। মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) সকালে নড়াইল সদর উপজেলা মিলনায়তন থেকে বেরিয়ে বিক্ষুব্ধ মুক্তিযোদ্ধারা সাংবাদিকের কাছে এসব অভিযোগ করেন। 

জানা গেছে, নড়াইল সদর উপজেলা বিআরডিবি অফিসের আয়োজনে মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) সকালে মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে মতবিনিময় সভা করার জন্য স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধার আমন্ত্রণ জনানো হয়। এ সভার প্রধান অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের উপ-সচিব ডাঃ দুলাল কৃষ্ণ রায়।  জেলা প্রশাসক আনজুমান আরার সভাপতিত্বে সকাল ১১ টায় মতবিনিময় সভার শুরুর কথা ছিলো । সে হিসেবে সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে  মুক্তিযোদ্ধারা সভাস্থলে হাজির হন। বেলা সাড়ে এগারটা বাজার পরেও কোন কর্মকর্তা সেখানে হাজির না হওয়ায় প্রচন্ড ক্ষোভে ফেটে পড়েন মুক্তিযোদ্ধারা। এসময় মুক্তিযুদ্ধকালীন কমান্ডার শরীফ হুমায়ুন কবীর, সাবেক জেলা ডেপুটি কমান্ডার এ্যাডভোকেট এস এ মতিন, উপজেলা কমান্ডার এস এ বাকি, গ্রুপ কমান্ডার তবিবুর রহমানের নেতৃত্বে সব মুক্তিযোদ্ধারা বেরিয়ে আসেন। পরে নড়াইল চৌরাস্তায় বিক্ষুব্ধ  মুক্তিযোদ্ধারা জড়ো হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।  বেলা ১২ টার দিকে সদর উপজেলা পরিষদে গিয়ে দেখা যায়, সভাপতি জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা তখনও সভাস্থলে পৌছাননি। প্রধান অতিথি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের উপ-সচিব ডাঃ দুলাল কৃষ্ণ রায় এবং সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সালমা সেলিম অনুষ্ঠানস্থলে বসা আছেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ ইয়ারুল ইসলাম মুক্তিযোদ্ধাদের সভাস্থল ত্যাগ করার বিষয়ে জানার চেষ্টা করছেন। 

সাবেক জেলা মুক্তিযোদ্ধা ডেপুটি কমান্ডার এড.এস এ মতিন বলেন, দেশ স্বাধীন কিভাবে হয়েছে ? এটা জানা সত্ত্বেতে ও কিছু আমলা নিজেদের জমিদার মনে করে। তারা সবসময় মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করে। আমরা আমাদের প্রাপ্য সম্মান চাই। সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এস, এ বাকি বলেন, বয়স্ক মুক্তিযোদ্ধারা শীতের মধ্যে সকালে  এসে হাজির হয়েছেন। কয়েকঘন্টা বসে থেকেছেন। কিন্তু প্রশাসনের লোকেরা কোন খোঁজই নেয়নি। আগামীতে যদি উনারা সংশোধন না হন, তাহলে প্রশাসনের কোন ডাকেই আর সাড়া দেবে না মুক্তিযোদ্ধারা। 

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ভাতা কমিটির সদস্য তবিবুর রহমান বলেন, আমলারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। মুক্তিযোদ্ধা ও জনগন প্রজাতন্ত্রের মালিক। তারা কর্মচারী হয়ে আমাদের সাথে যে দূর্ববহার করেছেন এটা এক ধরনের ধৃষ্টতা। এটা মেনে নেয়া যায় না। যুদ্ধকালীন গ্রুপ কমান্ডার সাইফুজ্জামান হিলু বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের কাগজে কলমেই সুর্য্যসন্তান বলা হয়। কিন্ত আমাদের পদে পদে অপমান করা হয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে। এই কারনে আমরা অপমানিত হয়ে সভা ত্যাগ করেছি। 

নড়াইলের জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা বলেন, সভার সময় ১১ টায় থাকলেও ঢাকা থেকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের উপ-সচিবের ফেরীতে দেরী হওয়ায় নড়াইলে পৌঁছাতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। যে কারনে মুক্তিযোদ্ধারা হয়তো বিরক্ত হয়েছেন। আগামী শুক্রবার ঐ সভাটিই অনুষ্ঠিত হবে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের উপ-সচিব ডাঃ দুলাল কৃষ্ণ রায় বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের এখানে বসিয়ে  রাখা ঠিক হয়নি। আমাকে সার্কিট হাউজে না নিয়ে সরাসরি এখানে নিয়ে আসলে এই সময়টা ব্যয় হতো না।