Opu Hasnat

আজ ১২ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার ২০১৯,

চট্টগ্রাম নগরীতে বিশ্ব এন্টিবায়োটিক সচেতনতা সপ্তাহের সভা অনুষ্ঠিত স্বাস্থ্যসেবাচট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম নগরীতে বিশ্ব এন্টিবায়োটিক সচেতনতা সপ্তাহের সভা অনুষ্ঠিত

নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন লয়েল রোডস্থ  চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য)-এর সভা কক্ষে  বিশ্ব এন্টিবায়োটিক সচেতনতা সপ্তাহ ২০১৯ উপলক্ষে  আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিডিসি’র রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স কন্টেইনমেন্ট ভাইরাল, হেপাটাইটিস ও ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণ কর্মসুচী সভার আয়োজন করেন। বিশ্ব এন্টিবায়োটিক সচেতনতা সপ্তাহের এবারের প্রতিপাদ্য বষিয় হচ্ছে- “ এন্টিবায়োটিকের সফলতার, আপনি-আমি অংশীদার”। 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে  চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্থানীয় সরকার) ও সরকারের অতিরিক্ত সচিব দীপক চক্রবর্তী  বলেছেন, সব রোগে এন্টিবায়োটিক প্রয়োজন হয়না। এন্টিবায়োটিকের অপব্যবহার আমাদের শরীরের জন্য মারাত্বক ক্ষতিকর। জ্বর বা জঠিল রোগ হলে রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের শরনাপন্ন হয়ে পরামর্শ মতে এন্টিবায়োটিক ও অন্যান্য ওষুধ সেবন করতে হবে। বিনা প্রয়োজনে কোন ধরণের এন্টিবায়োটিক খাওয়া যাবেনা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সঠিক সংক্রমণে সঠিক এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করতে হবে। এন্টিবায়োটিকের কোর্স নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন না করলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকেনা। সব ওষুধের পার্শ প্রতিক্রিয়া থাকে।  শুধু অসুস্থ মানুষ নয়, গবাদি পশু, হাঁস-মুরগী ও মাছের ক্ষেত্রেও নিজে নিজে এন্টি মাইক্রেবিয়াল ওষুধ দেয়া যাবেনা। 

এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স হলে শরীরের ব্যাকটেরিয়াগুলো মারা যায়। ফলে আর কোন এন্টিবায়োটিক শরীরের জন্য কার্যকর হয় না। এ ব্যাপারে ডাক্তার ও রোগী  সাধারণসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে সচেতন থাকতে হবে। 

প্রধান বক্তা বিএমএ’র সভাপতি অধ্যাপক (ডা.) মুজিবুল হক খান বলেন, এন্টিবায়োটিক শরীরের জন্য খুবই প্রযোজন। কোন্ রোগের জন্য কোন্ ওষুধ তা নিশ্চিত না হয়ে ওষুধ প্রেসক্রাইব না করতে চিকিৎসকদের আন্তরিক থাকতে হবে। রোগ সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে এন্টিবায়োটিক দেয়া যাবে কি না তা চিকিৎসককে সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং এন্টিবায়োটিকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকা বাঞ্চনীয়। ব্যবস্থাপত্র ছাড়া সকল প্রকার ওষুধ বিক্রয় থেকে বিরত থাকতে ফার্মেসী মালিকদেরকেও আন্তরিক থাকতে হবে। এন্টিবায়োটিকের উপকারিতা-অপকারিতা সম্পর্কে স্কুলের শিক্ষার্থীদেরকে সচেতন করা গেলে মানুষ এর অপব্যবহার থেকে বিরত থাকবে।

বিভাগীয়  পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. হাসান শাহরিয়ার কবিরের সভাপতিত্বে ও এমআইএস সহকারী প্রধান সৈয়দ কামরুল আনোয়ারের সঞ্চালনায় অনুষ্টিত সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন বিএমএ’র সভাপতি অধ্যাপক (ডা.) মুজিবুল হক খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক (ডা.) নাসির উদ্দিন আহমদ, বিভাগীয় উপ-পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. আবদুস সালাম, সহকারী পরিচালক ডা. শফিকুল আলম, চট্টগ্রাম  সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বী ও চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. আবদুর রব। বক্তব্য রাখেন বাসাস’র চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সদস্য সচিব  রনজিত কুমার শীল, বিভাগীয় স্বাস্থ্য তত্বাবধায়ক সুজন বড়ুয়াসহ সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী ও পল্লী চিকিৎসক সমিতির নেতৃবৃন্দ।