Opu Hasnat

আজ ৮ ডিসেম্বর রবিবার ২০১৯,

এবার পিতার বিরুদ্ধে গুম করে নির্যাতন করার অভিযোগ করলেন দুই সন্তান ফরিদপুর

এবার পিতার বিরুদ্ধে গুম করে নির্যাতন করার অভিযোগ করলেন দুই সন্তান

পিতার অতিরিক্ত সম্পদ অভিলাষের স্বীকার হয়ে এক কন্যা ও দুই পুত্র সন্তান আজ আদালত ও সাংবাদিকদের পিছনে ছুটছেন। এরই মধ্যে ওই পিতা তার দুই সন্তানকে গুম করে নির্মম নির্যাতন চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তার কন্যা। তার পিতা খাদ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক সিকদার আবুল কালাম আজাদ। তিনি দীর্ঘদিন বড় পদে কর্মরত থেকে অবসরে যান অনেকদিন হলো। এরই মাঝে তার স্ত্রী মাহমুদা বেগম মৃত্যুবরন করেন। তবে তার আগে থেকেই তার বিভিন্ন কর্মকান্ড ছিলো সব সময় প্রশ্নের সন্তান ও স্ত্রীর কাছে। তার এসব কর্মকান্ড তুলে ধরে ও তার নির্যাতন থেকে রক্ষা পেতে তার দুই পুত্র ও এক কন্যা সংবাদ সম্মেলন করেছে। 

শুক্রবার দুপুরে ফরিদপুর প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার কন্যা তাসনিম ফারজানা। 

এসময় উপস্থিত ছিলেন আজাদের দুই পুত্র বরকত আল আজাদ ও রহমত আল আজাদ। তাদের দেশের বাড়ী ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার পানাইল গ্রামে। তবে বড় ছেলে অষ্টোলিয়া প্রবাসী বরকত আল আজাদ থাকেন বর্তমানে ঢাকায় ও মেয়ে তাসনিম ফারজানা বিবাহিত সূত্রে থাকেন ঢাকায়। এছাড়া ছোট ছেলে রহমত আল আজাদ থাকেন তার মায়ের বাপের বাড়ী ঝিনাইদহ জেলার কোট চাদঁপুর এলাকায়। আর এইখানে বিপুল পরিমান জমি নিয়েই পিতার সাথে সন্তানদের বিবাদ বলে জানান দুই পুত্র ও মেয়ে।   

সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কন্ঠে লিখিত বক্তব্যে ফারজানা বলেন, তার পিতা খাদ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক সিকদার আবুল কালাম আজাদ। আমাদের নানা বাড়ির সম্পত্তির লোভে আমার দুই ভাইকে গত ১৬ অক্টোবর ঢাকা থেকে ডেকে ঝিনাইদহ নিয়ে আসে জমিজমা মিটমাটের কথা বলে। সেখান থেকে মাগুরা ডিবি পুলিশ দিয়ে আমার দুই ভাইকে গুম করে। এরপর তাদেরকে মাগুরা নিয়ে আসা হয়। সেখানে আমার দুই ভাইকে দুই দিন রেখে গত ১৮ অক্টোবর ফরিদপুর শহরের লাইফ কেয়ার মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে নিয়ে এসে রাখা হয়। এরপর আবার মাগুরা ডিবি পুলিশের দল ও আমার পিতা ২০ নভেম্বর এসে তাদেরকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালায়। পরে সেখানে তত্ববধানে থাকা পরিচালক ৯৯৯ ফোন করে সহায়তা চাইলে তাদেরকে কোতয়ালী থানা পুলিশ গিয়ে উদ্ধার করে। এরআগে ডিবি পুলিশ এবং তিনি তার দুই পুত্রকে বেদম প্রহার করে হাত ভেঙ্গে দেওয়া সহ তাদেরকে রক্তাক্ত করে। তারা চলে যাওয়ার পর তাদেরকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। 

এসময় বড় ছেলে বরকত আল আজাদ বলেন, আমদের দুই ভাইকে মাদকসেবী বানিয়ে মাগুরা ডিবি পুলিশ দিয়ে আটক করে নিয়ে আসা হয়। এর ভিতর আমার ছোট বোন ২৬ অক্টোবর কোথাও খুঁজে না পেয়ে একটি জিডি করে ধানমন্ডি থানায়। এরপরে ৩১ অক্টোবর একটি পিটিশন কেস করা হয়। এতে ঢাকার জজকোর্ট এর এক্সিকিউটভি ম্যজিষ্ট্রেট একটি তল্লাসী পরোয়ানা জারি করে। এরই মধ্যে আমার বোন জানতে পারি আমাদেরকে আটক করে রাখা হয়েছে ফরিদপুরে। তখন সে একটি রীট পিটিশন করে মহামান্য হাইকোর্টে ৪ নভেম্বর। হাইকোর্ট এ বিষয়ে একটি রুলজারি করে। আর এই কথা শুনে আমার পিতা ২০ নভেম্বর এসে তাদেরকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালায়। পরে সেখানে তত্ববধানে থাকা পরিচালক ৯৯৯ ফোন করে সহায়তা চাইলে তাদেরকে কোতয়ালী থানা পুলিশ গিয়ে উদ্ধার করে। এরআগে ডিবি পুলিশ এবং তিনি তার দুই পুত্রকে বেদম প্রহার করে হাত ভেঙ্গে দেওয়া সহ তাদেরকে রক্তাক্ত করে। তিনি বলেন পৃথিবীর এমন কোন জায়গা নাই যে সম্পত্তির কারনে এমন করে নিজ সন্তানদের উপর নির্যাতন চালানো হয়। আমরা এখন পিতার হাত থেকে বাচঁতে চাই।
 
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরে কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার কর্মরত সাংবাদিকরা। 

এ ব্যাপারে ফরিদপুর কোতয়ালী থানার উপপরিদর্শক মোঃ বেলাল হোসেন জানান, আমরা ২০ নভেম্বর খবর পেয়ে লাইফ কেয়ার মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে যাই। আমরা সেখানে গিয়ে জানতে পারি একটি রীট পিটিশন করা হয়েছে মহামান্য হাইকোর্টে তাদের নিয়ে। তারা সেখানে থাকাকালীন অবস্থায় তাদেরকে আমাদের পক্ষ থেকে সব ধরনের সার্পোট দেয়া হচ্ছে পুলিশী।