Opu Hasnat

আজ ১০ ডিসেম্বর মঙ্গলবার ২০১৯,

শ্রমিকদের মুখে পোড়া মবিল, এ্যম্বুলেন্সকেও ছাড়েনি শ্রমিকরা কুমিল্লা

শ্রমিকদের মুখে পোড়া মবিল, এ্যম্বুলেন্সকেও ছাড়েনি শ্রমিকরা

নতুন সড়ক আইন সংশোধনের দাবিতে কুমিল্লায় পরিবহন শ্রমিকদের ডাকা অবরোধ চলাকালে সড়কে চলাচলরত গাড়ির চালকদের মুখে পোড়া মবিল মেখে দিয়েছে শ্রমিকরা। বুধবার সকালে কুমিল্লা শাসনগাছা ফ্লাইওভারের সামনে বিভিন্ন গাড়ির চালকদের মুখে জোরপূর্বক পোড়া মবিল মেখে দেয় অবরোধকারী শ্রমিকরা। এতে সড়কের উভয় পাশে গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় রোগীবাহী এ্যম্বুলেন্সকেও ছাড়েনি শ্রমিকরা। এ অবস্থায় ভোগান্তির মধ্যে পড়েন হাজার-হাজার যাত্রী।

শ্রমিকদের অবরোধে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে মালামাল আনা নেয়ার কাজে ব্যবহৃত কিছু ট্রাক দেখা গেলেও চোখে পড়েনি কোনো যাত্রীবাহী যানবাহন। পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড ও জাঙ্গালিয়া বাসস্ট্যান্ডে যানবাহনের জন্য অপেক্ষায় ছিল হাজারো যাত্রী।

শ্রমিকদের অভিযোগ, নতুন মোটরযান আইন অনুযায়ী ৫ লাখ টাকা জরিমানা দেয়ার সাধ্য থাকলে কি আমরা গাড়ি চালাই। পার্কিংয়ের জায়গা নেই অথচ পার্কিং করলে ১০ হাজার টাকা জরিমানা। তাহলে আমরা পার্কিংটা করব কোথায়? এটা মানা অসম্ভব।

এরই মধ্যে শ্রমিকদের অবরোধের খবর পেয়ে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফ্লাইওভার এলাকায় আসেন কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার। তিনি পরিবহন শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে কথা বলে দাবি পূরণের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেয় শ্রমিকরা।

জেলা বাস মালিক সমিতির মহাসচিব তাজুল ইসলাম বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে এমন সিদ্ধান্ত হয়নি। এটা পরিবহন ধর্মঘট নয়। দাউদকান্দি টোলপ্লাজায় ট্রাক লরির ধর্মঘট চলার সময় কুমিল্লা শাসনগাছা থেকে ছেড়ে যাওয়া এশিয়া ও তিশা পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসের ওপর হামলার পরিপ্রেক্ষিতে জেলা পরিবহন চালক ও হেলপারদের অঘোষিত ধর্মঘট চলছে। এটি কেন্দ্রীয় ধর্মঘট নয়। তাই অবরোধ তুলে নেয়া হয়েছে।

এদিকে, শ্রমিকদের সড়ক অবরোধের ফলে কুমিল্লা থেকে ঢাকামুখী সব যানবাহন বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে বন্ধ রয়েছে ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার অংশে যান চলাচলও। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন অফিস-আদালতগামী কর্মজীবী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ।

উল্লেখ্য, নতুন সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনের দাবিতে দেশের বিভিন্ন জেলায় পরিবহন ধর্মঘট চলছে। গত সোমবার থেকে কয়েকটি জেলায় শুরু হওয়া এই ধর্মঘটে বুধবার যোগ দিয়েছে বিভিন্ন জেলার পরিবহন শ্রমিকরা। এতে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। পূর্বঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ এমন ধর্মঘটে বিপাকে পড়েছেন বিভিন্ন রুটের যাত্রীরা।