Opu Hasnat

আজ ১০ ডিসেম্বর মঙ্গলবার ২০১৯,

ফরিদপুরে শ্রমিক ধর্মঘটে বাস-ট্রাক চলাচল বন্ধ, যাত্রীরা চরম বিপাকে ফরিদপুর

ফরিদপুরে শ্রমিক ধর্মঘটে বাস-ট্রাক চলাচল বন্ধ, যাত্রীরা চরম বিপাকে

সড়ক পরিবহন আইন সংস্কারের দাবীতে ফরিদপুরেও ধর্মঘটে নেমেছে পরিবহন ও ভারি যান শ্রমিকেরা। বুধবার সকাল ৯ টা হতে এ ধর্মঘট শুরু হয়। এর ফলে জেলার লোকাল ও দুরপাল্লা রুটে চলাচলকারী সকল বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি বন্ধ রয়েছে ট্রাক চলাচলও। আর প্রাইভেটকারও মাইক্রেবাবাসসহ ছোট যানবাহনগুলোও ফরিদপুরের বাইরে যেতে পারছে না পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর শ্রমিকদের প্রতিরোধের মুখে। এর ফলে ফরিদপুরের সাধারণ যাত্রীরা চরম বিপাকে পড়েছে। কোনরকম পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই এভাবে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকে বাসস্ট্যান্ডে পৌছে বিপাকে পরেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বুধবার সকাল থেকে ফরিদপুর পৌর বাসষ্ট্যান্ড থেকে কোন প্রকার যানবাহন চলাচল করেনি। লোকাল ও দুরপাল্লার পরিবহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। অন্যান্য দিন ফরিদপুরের সাথে যশোর, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, সাতক্ষিরা সহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার পরিবহন চলাচলে মুখর থাকে। এসব রুটের পরিবহন চলাচল বন্ধ থাকায় সাধারণ যাত্রিরা পড়েছেন চরম বিপাকে। জেলার ট্রাক শ্রমিকরাও একই দাবিতে ধর্মঘটে নেমেছে। ফলে যাত্রি পরিবহনের সাথে বন্ধ রয়েছে পণ্য আনা নেওয়ার কাজ।

ফরিদপুর মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের শ্রমিক রাকিব হাসান জানান, সকাল হতে কিছু গাড়ি চলাচল করলেও ৯টার পর হতে কোন গাড়ি ছাড়ছে না। শ্রমিকেরা বাসষ্ট্যান্ডে সমবেত রয়েছেন। পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত কোন গাড়ি চলাচল করবে না।

আমিনুল ইসলাম নামে একজন মাইক্রোবাস চালক বলেন, শ্রমিকদের এই ধর্মঘটের কারণে প্রাইভেটকার এবং মাইক্রোবাসগুলোও ভাড়া নিয়ে ফরিদপুর জেলার বাইরে যেতে পারছেন না। তাদেরকে আলকাতরা মাখিয়ে দেয়া হচ্ছে।

দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত পরিবহন শ্রমিকরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করবে না বলে জানিয়েছেন নেতৃবৃন্দ। এ ধর্মঘটের কারণে যাত্রিদের পাশাপাশি সাধারণ শ্রমিকরাও শঙ্কিত।  বাস না চললে দিন এনে দিন খাওয়া এসব শ্রমিকদের বেতন হবেনা। এতে ধারদেনা করে পরিবারের খাবার জোগাতে হবে বলে অনেকে জানান।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন বরিশাল বিভাগ ও বৃহত্তর ফরিদপুর আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি জোবায়ের জাকির বলেন, শ্রমিকেরা স্বপ্রনোদিত হয়েই এ ধর্মঘটে নেমেছে। এখানে আমাদের কোন নির্দেশনা নেই। আমরা এতোদিন শ্রমিকদের আশ্বস্ত করে রেখেছিলাম যে আইনটি সংশোধন হবে। কিন্ত যেহেতু সেটি পুরোপুরি কার্যকর করা হয়েছে তাই এখন আর আমরা শ্রমিকদের ঠেকিয়ে রাখতে পারছিনা।

তিনি বলেন, সড়ক আইনের আইনের কিছু কিছু ধারায় ব্যাপারে আমরা আপত্তি জানিয়েছি। বিশেষ করে সড়ক দূর্ঘটনায় অজামিনযোগ্য ও ৩২০ ধারার ব্যাপারে আমাদের প্রবল আপত্তি রয়েছে। আমরা বলেছি, শুধু পুলিশকে দিয়ে তদন্ত করালেই হবেনা সাথে বুয়েটের যে অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ সেন্টার রয়েছে তাদেরও একজন প্রতিনিধি সম্পৃক্ত করতে হবে। 

শ্রমিক নেতা জোবায়ের জাকির জানান, এব্যাপারে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার শ্রমিক ফেডারেশনের বর্ধিত সভা রয়েছে। সেখানে এবিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। তারপর আমরা সিদ্ধান্ত নেবো।