Opu Hasnat

আজ ১২ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার ২০১৯,

সীতাকুন্ডে অধিগ্রহনের চেক বিতরণ করতে জেলা প্রশাসনের ক্র্যাশ প্রোগ্রাম চট্টগ্রাম

সীতাকুন্ডে অধিগ্রহনের চেক বিতরণ করতে জেলা প্রশাসনের ক্র্যাশ প্রোগ্রাম

চট্টগ্রাম-ফেনী বাখরাবাদ গ্যাস সঞ্চালন লাইন নির্মাণ প্রকল্পের (সীতাকুন্ড অংশ) জন্য অধিগ্রহনকৃত ভূমির (এল.এ) প্রকৃত মালিকদের হাতে অতি স্বল্প সময়ে ক্ষতি-পূরণের চেক বিতরণের চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন সীতাকুন্ড থেকে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম শুরু করেছে।  দালালদের তৎপরতা রোধসহ ভূমির  মালিকদের কষ্ট লাঘবে এল.এ মামলার কার্যক্রম দ্রুত  নিষ্পত্তি করতে এ উদ্যোগ নিয়েছেন ভূমি অধিগ্রহণ শাখা। প্রথম ধাপে  ১৮ নভেম্বর  সীতাকুন্ড থেকে শুরু হওয়া প্রোগ্রাম ২৭ নভেম্বর ২০১৯ ইং বুধবার পর্যন্ত পর্যন্ত চলবে। এ প্রকল্পের  অধীন এল.এ মামলা নং ৭/২০১৭-১৮ এর সীতাকুন্ড এলাকার অধিগ্রহনকৃত মোট ৬৮.৫০৫৫ একর ভূমির ক্ষতি-পূরণ নির্ধারণ করা হয়েছে মোট ৪১২ কোটি ৮৭ লাখ ৩ হাজার ৪৩ টাকা।  বিগত ১৪ নভেম্বর বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সীতাকুন্ডের বিভিন্ন মৌজার আবেদনকারীরা ১১২ কোটি ৫৬ লক্ষ ৭৯ হাজার ৯৩৩ টাকার চেক উত্তোলন করেছেন। বাকী টাকাগুলো নির্দিষ্ট মৌজা এলাকায় শুনানী  শেষে আবেদনকারীদের মাঝে বিতরণ করবে বলে জানান জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এল.এ) মোঃ আমিরুল কায়ছার। এছাড়া এ প্রকল্পের অধীন  এল.এ মামলা নং ৮/২০১৭-১৮ মূলে মিরসরাই অংশে মোট ৫৫.০৮৩১ একর জমি অধিগ্রহনের বিপরীতে ১২০ কোটি ৮৪ লক্ষ ৫ হাজার ১০৯ টাকা, এল.এ মামলা নং ১৭/২০১৭-১৮ মূলে বাঁশখালী-আনোয়ারা অংশে মোট ৮৬.৭৪৭৫ একর জমি অধিগ্রহনের বিপরীতে ২০১ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। তবে এল.এ মামলা নং ১৫/২০১৭-১৮ মূলে আনোয়ারা টু ফৌজদারহাট অংশে ২৪.২৪২৫ একর জমি অধিগ্রহনের বিপরীতে ক্ষতি-পূরণ এখনো নিধারণ করেনি সরকার।  হয়নি। গতকাল ১৯ নভেম্বর মঙ্গলবার প্রোগ্রামের প্রথম দিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত  ভাটিয়ারী মৌজার শুনানি গ্রহণ করা হয় ভাটিয়ারী ইউনিয়ন পরিষদে।  শুনানীর জন্য মোট ১০২ জনকে টোকেন দেয়া হয়। এর মধ্যে ৯৩ জনের শুনানী করা হয়।   

তিনি জানান, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেনের নির্দেশে  সীতাকুন্ড থেকে প্রথম ধাপে  ক্র্যাশ প্রোগ্রাম শুরু করা হয়েছে।  এ প্রোগ্রামের আওতায় জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা, অতিরিক্ত ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা, কানুনগো, সার্ভেয়ার ও অফিস সহকারীর সমন্বয়ে গঠিত নয় সদস্যের ৪টি টিম নির্দিষ্ট মৌজায়  গিয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদে বা সুবিধাজনক স্থানে প্রতি রোববার থেকে বৃহস্পতিবার  অস্থায়ী অফিস করবেন। সেখানে আবেদনকারীগণের উপস্থিতিতে (পক্ষদ্বয়ের) আবেদন দেখে জমি পরিদর্শনের পর শুনানি শেষে প্রতিবেদন প্রদান করবেন এবং  প্রতি বৃহস্পতিবার উপজেলা পরিষদে উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে ভূমির ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে চেক বিতরণ করবেন। এতে জমি ক্ষতিগ্রস্তরা ও আনন্দবোধ করবেন। তবে অধিগ্রহনকৃত ভূমির মালিকদেরকে শুধুমাত্র আবেদন করার জন্য জেলা প্রশাসনের এল.এ  শাখায় একবার  আসতে হবে। এখন থেকে সেবা আবেদনকারীগণকে  এলএ  শাখায় এসে বসে থাকতে হবেনা। এলএ অফিস সেবা প্রত্যাশীদের কাছেই যাবে।  ডিসেম্বর থেকে অন্য প্রকল্প এলাকাতেও এ প্রোগ্রাম চলবে। দালালদের তৎপরতা রোধসহ ভূমির  মালিকদের কষ্ট লাঘবে  জেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগ।  

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এল.এ) মোঃ আমিরুল কায়ছার আরো জানান, শিডিউল অনুসারে চারটি টিমের প্রতিটিতে নয়জন করে সদস্য মৌজা এলাকায় গিয়ে সেবা দিবেন। ইতোমধ্যে সীতাকুন্ডের বিভিন্ন মৌজায় অধিগ্রহনকৃত ভূমির মালিকদের জ্ঞাতার্থে  মাইকিং করে প্রচারণার পাশাপাশি নোটিশ প্রদান করা হচ্ছে। 

ভূমি অধিগ্রহণ শাখা সূত্র জানায়, সীতাকুন্ডের এই প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহনের বিপরীতে এখন থেকে  নতুন ভাবে যত আবেদন হবে সব অস্থায়ী অফিসেই জমা নিবেন দায়িত্বপ্রাপ্ত টিম। টিমে একজন ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা, একজন অতিরিক্ত ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা, একজন কানুনগো, ৫ জন সার্ভেয়ার ও একজন অফিস সহকারী দায়িত্ব পালন করবেন। ইতোমধ্যে কর্মপরিধি নির্ধারণ করে ছয়টি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার প্রোগ্রামের প্রথম দিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত  ভাটিয়ারী মৌজার শুনানি গ্রহণ করা হয় ভাটিয়ারী ইউনিয়ন পরিষদে। শুনানীর জন্য মোট ১০২ জনকে টোকেন দেয়া হয়। এর মধ্যে ৯৩ জনের শুনানী করা হয়।  আগামীকাল ২০ নভেম্বর বুধবার  মধ্য সোনাইছড়ি মৌজার শুনানি সোনাইছড়ি ইউনিয়ন পরিষদে, ২৪ নভেম্বর রোববার  শীতলপুর মৌজার শুনানি সোনাইছড়ি ইউনিয়ন পরিষদে, ২৫ নভেম্বর সোমবার বাঁশবাড়িয়া মৌজার শুনানি বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদে, ২৬ নভেম্বর  মঙ্গলবার উত্তর ছলিমপুর মৌজার শুনানি উত্তর ছলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদে এবং ২৭ নভেম্বর বুধবার  আমিরাবাদ মৌজার শুনানি সীতাকুন্ড উপজেলা ভূমি অফিসে অনুষ্ঠিত হবে। নির্ধারিত দিনে নির্দিষ্ট মৌজার ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকরা অস্থায়ী অফিসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে উপস্থিত থাকবেন।  

ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা  ফারহানা জাহান উপমা জানান,  সেবাপ্রার্থীরা এলএ শাখায় এসে সময় নষ্ট করুক তা আমরা কামনা করিনা। এখন থেকে এল.এ অফিসের নির্ধারিত টিম  সেবা প্রার্থীদের কাছে যাবে। এতে হয়রানি যেমন কমবে ঠিক তেমনি মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য রোধ হবে। 

ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি অধিগ্রহনের ক্ষতি-পূরণের আবেদন প্রসঙ্গে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এল.এ) মোঃ আমিরুল কায়ছার বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পেলেই এল.এ শাখায়  ডিজিটাল পদ্ধতিতে আবেদন জমা নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে।  ইতোমধ্যে নিজস্ব সার্ভার ও ডোমেইন চালু করা হয়েছে। ভূমিমন্ত্রী এ সাইটটি উদ্বোধন করলেই ম্যানুয়েল পদ্ধতিতে  আর কোন আবেদন  গ্রহন করা হবে না। ডিজিটাল পদ্ধতিতে আবেদন জমা নেয়ার পর মামলার অবস্থা জানতেও এলএ শাখায় যেতে হবে না। এসএমএসের মাধ্যমে ট্রেকিং নাম্বার পৌঁছে যাবে সেবাপ্রার্থীর মোবাইলে । এসএমএসেই মামলার বর্তমান অবস্থা ও যোগাযোগের তারিখ জানিয়ে দেয়া হবে। সে তারিখে নথিপত্র জমা দিয়ে জমি পরিদর্শনের তারিখ নির্ধারণ ও  শুনানী শেষে আরেকটি তারিখে আবেদনকারীরা চেক নিতে যাবে। ডিজিটাল পদ্ধতি চালু হলে আবেদন হারিয়ে যাওয়ার  অভিযোগ থাকবে না। একজনের টাকা অন্যজনে নিয়ে যাবে এমন  সুযোগ ও  থাকবে না। একটি জায়গার বিপরীতে একাধিক আবেদনকারী থাকলে  সে ক্ষেত্রে প্রত্যেককে উপস্থিত থাকতে হবে। এ পদ্ধতি  চালু হয়ে গেলে ম্যানুয়েল পদ্ধতিতে আর  কোন আবেদন গ্রহন করা হবেনা। তবে শুধুমাত্র পুরাতন আবেদনগুলোই ম্যানুয়েল পদ্ধতিতে নিষ্পত্তি করা হবে।