Opu Hasnat

আজ ১৪ ডিসেম্বর শনিবার ২০১৯,

চিলাই নদীতে ব্রীজ না থাকায় ২৫ হাজার মানুষের দূর্ভোগ চরমে ! সুনামগঞ্জ

চিলাই নদীতে ব্রীজ না থাকায় ২৫ হাজার মানুষের দূর্ভোগ চরমে !

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বগুলা ইউনিয়নের চিলাই নদীতে ব্রীজ না থাকায় শিক্ষার্থীসহ প্রায় ২৫ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। নদীর দু’পারে দুই ইউনিয়নের  মানুষের পারাপারের একমাত্র ভরসা একটি বাঁশের সাঁকো। এই নদীতে একটিমাত্র  ব্রীজের অভাবে এখানকার মানুষজন এই হেমন্তে নিজ উদ্যোগে বাশেঁর সাকোঁ তৈরী করে স্কুল কলেজগামী ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে কোন গর্ভবর্তী মায়েদের নিয়ে জীবনের ঝুকিঁ নিয়ে এই সাকো পাড় হয়ে উপজেলা সদরে আসতে হয়। আর বর্ষার মৌসুমে এই অঞ্চলের মানুষজনের জেলা ও উপজেলা সদরে আসার একমাত্র মাধ্যম হলো নৌকা। প্রতিনিয়ত যাতায়াতে সাকো পারাপাড়ে সময় সাকো ভেঙ্গে অনেক সময় ছোটবড় র্দূঘটনার সম্মুখীন  ও দেখা দেখা যায় ফলে ভোগান্তির যেন শেষ নেই  এই দুটি ইউনিয়নের মানুষজনের।কোন জাতীয় কিংবা স্থানীয় নির্বাচন আসলে প্রার্থীরা ভোট পাওয়ার আশায় ব্রীজ করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে ও নির্বাচনী বৈতরনী পাড় হওয়ার পর এই অঞ্চলের মানুষজনকে দেয়া প্রতিশ্রুতি আমূল ভূলে যান। স্বাধীনতার র্দীঘ ৩৯ বছরে অরেক নির্বাচন ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়ে বিভিন্ন এলাকার মানুষজনের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান ও যোগাযোগ ব্যবস্থার বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হলেও এই দুটি ইউনিয়নের মানুষজনের সাথে চলছে বিমাতাসূলভ আচরণ। তারা যেন এখনো মান্দাদার আমলের মতো অবহেলিত রয়ে গেছেন। ফলে এই অঞ্চলে একটিমাত্র ব্রীজের কারণে শিক্ষার দিকে যেমন পিছিয়ে এখানাকার কোমলমুতি শিশুরা পাশপাশি ব্যবসা বাণিজ্যে ও তেমন একটা প্রসার ঘটেনি। 

দীর্ঘদিনেও এ ব্রীজ নির্মাণ না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় লোকজন তারা এই দূর্ভোগ লাঘবে নদীর উপর একটি ব্রীজ নির্মাণের জন্য এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে দাবী জানিয়ে আসছিলেন।একটি এলাকার উন্নয়নে শর্ত হচ্ছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। যে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা যত উন্নত সে এলাকা ততবেশী উন্নত। উপজেলার বগুলা ও বাংলাবাজার ইউনিয়নের প্রায় ১৫টি গ্রামের ২৫ হাজার মানুষের ভরসা একটি মাত্র বাঁশের সাঁকো। এ সাঁকোর উপর দিয়ে প্রতিদিন প্রায় হাজার মানুষ যাতায়াত করে।

ব্রীজ না থাকায় কৃষকেরা তাঁদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য হাট-বাজারে নিতে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। বর্ষাকালে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে টাকা দিয়ে ছোট নৌকায় এবং বছরের অন্যান্য সময় সাঁকোয় চলাচল করতে হয় এলাকাবাসীকে। শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এ ভোগান্তি আরও বেশি। জানাযায়, নদীর পূর্বপারে অবস্থিত বগুলা ইউনিয়নের আলমখালী, বাংলাবাজার ইউনিয়নের, চিলাইপাড়, পুরান বাশতলা,  চৌধুরীপাড়া, বাশতলা, মৌলারপাড়,  নতুন বাশতলা, কলোনী, ঝুমগাঁও, পেকপাড়া, চৌধুরীপাড়া বাজার, হকনগর বাজার, বাশতলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাশতলা চৌধুরীপাড়া শহীদস্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়, ইসলামপুর ছিদ্দিকিয়া দাখিল মাদ্রাসা ও শহীদস্মৃতি সৌধ এবং  পশ্চিম পারে বগুলা ইউনিয়নের ক্যাম্পের ঘাট, ইদুকোনা, বাগানবাড়ি, পেস্কারগাঁও, বগুলাবাজার, বগুলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বগুলা স্কুল এন্ড কলেজ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)এর ক্যাম্প, হাট বাজারসহ প্রায় ১৫টি গ্রাম।

স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীসহ জরুরী কোন রোগীকে হাসপাতালে নিতে এবং সাধারণ মানুষকে বর্ষায় নৌকা ও খরা মৌসুমে বাঁশের তৈরি সাঁকো দিয়ে পারাপার করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। একটি ব্রীজের অভাবে এলাকার কৃষকরাও তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। এলাকাবাসী জানায়, ধান চাল, সবজি ও গরু বিক্রির ঐতিহ্যবাহী হাট বলেও পরিচিত বগুলাবাজার । এখানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)এর ক্যাম্প,স্কুল এন্ড কলেজ,দাখিল মাদ্রাসা, সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, কিন্ডারগার্ডেন স্কুল ও  বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) অফিস রয়েছে। তারপরেও চিলাই নদীর ক্যাম্পের ঘাটে ব্রীজ নির্মাণ হয়নি।

শিক্ষার্থীরা জানান, আমরা নিয়মিত স্কুলে যেতে চাই। লেখাপড়া শিখে মানুষ হতে চাই। আমাদের ভবিষ্যতের দিকে দেখে সরকার যেন দ্রুত সময়ে এখানে একটি ব্রীজ নির্মাণ করে।

এ ব্যাপারে আলমখালী গ্রামের পল্লী চিকিৎসক রোরহান উদ্দিন বলেন, নদীর উপর একটি ব্রীজ একান্ত প্রয়োজন। ব্রীজ না থাকায় আমাদেরকে দীর্ঘদিন থেকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এ পর্যন্ত  কয়েকবার সয়েল টেস্ট করে নিয়ে গেছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। খুব দ্রæত ব্রীজ নির্মাণের দাবী জানান তিনি।

ক্যাম্পেরঘাট গ্রামের আব্দুল মালেক জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই স্থানে একটি ব্রীজ নির্মাণের দাবি করে আসছে এলাকাবাসী। বিভিন্ন সরকারের সময় জনপ্রতিনিধিদের কাছে একাধিকবার এ দাবি তোলা হয়। তবে তাঁরা শুধু আশ্বাস দেন, সেতু আর হয় না।

এ ব্যাপারে বগুলা ইউপি চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম জুয়েল জানান, বর্ষা মৌসুমে নদীর দুই  পারের ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুল যাতায়াত করতে খুবই সমস্যা। তাছাড়া এলাকার কৃষিপণ্য নিয়ে ঘাট পারাপারে এলাকাবাসীকে নানা দূর্ভোগ পোহাতে হয়। এলাকাবাসীর স্বার্থে ওই স্থানে একটি ব্রীজ নির্মাণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ব্রীজ নির্মাণ হলে এলাকার পিছিয়ে পড়া মানুষগুলোর উন্নয়ন হবে।