Opu Hasnat

আজ ১২ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার ২০১৯,

নতুন সড়ক আইন : আজও বিভিন্ন জেলায় বাস বন্ধ সারাবাংলা

নতুন সড়ক আইন : আজও বিভিন্ন জেলায় বাস বন্ধ

নতুন সড়ক পরিবহন আইন কার্যকরের ঘোষণার পর গতকালের মতো আজও বিভিন্ন জেলায় বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে পিরোজপুর, ঝালকাঠি, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহে কোনো বাস চলছে না।

ঝালকাঠি থেকে আমাদের সংবাদদাতা জানান, নতুন সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়নের প্রতিবাদে ঝালকাঠির আট রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে পরিবহন শ্রমিকরা।

সকাল থেকে ঝালকাঠি থেকে বরিশাল, বরিশাল থেকে ঝালকাঠি হয়ে খুলনা, বরিশাল থেকে ঝালকাঠি হয়ে পিরোজপুর, বরিশাল থেকে ঝালকাঠি হয়ে ভান্ডারিয়া, বরিশাল থেকে ঝালকাঠি হয়ে মঠবাড়িয়া, বরিশাল থেকে ঝালকাঠি হয়ে পাথরঘাটা, ঝালকাঠি-আমুয়া, ও ঝালকাঠি-ঢাকার বাস  চলাচল বন্ধ রয়েছে।

কোনো ধরনের ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ করে বাস মালিক সমিতি দূরপাল্লা ও অভ্যন্তরীণ সকল রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়ায় যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। তারা বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত অর্থ খরচ করে বিকল্প পরিবহনে তাদের গন্তব্যে যাত্রা করছেন।

ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক নাসির উদ্দিন আহমেদ জানান, সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়নের প্রতিবাদে শ্রমিকরা ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। তারা এ আইনের পরিমার্জনের দাবি জানিয়েছেন।

শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক বাহাদুর চৌধুরী জানান, সড়ক পরিবহন আইন শ্রমিকদের স্বাভাবিক জীবনের বিপরীতে। তাই আইন সংশোধনের দাবিতে আমরা আন্দোলন করছি।

এদিকে পিরোজপুর থেকে আমাদের সংবাদদাতা জানিয়েছেন, নতুন সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়ন ও সংশোধনের দাবিতে পিরোজপুর থেকে সব রুটের বাস চলাচল বন্ধ করেছে বাস ও মিনিবাসের শ্রমিকরা। সকাল থেকে শুরু হওয়া এ ধর্মঘটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।

পরিবহন শ্রমিক নেতারা বলছেন, সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও আইনটি সংশোধন ছাড়াই বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

পিরোজপুর জেলা বাস মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়ন সভাপতি আলমগীর হোসেন বলেন, নতুন সড়ক পরিবহন আইন কার্যকরের প্রতিবাদে শ্রমিকরা বাস চালাচ্ছেন না। তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেছেন।

পিরোজপুর জেলা বাস, মিনিবাস, কোচ মালিক সমিতির আহবায়ক রতন ঠাকুর বলেন, নতুন সড়ক আইনে ফাঁসি ও যাবজ্জীবন দণ্ডের ভয়ে শ্রমিকরা গাড়ি চালানো বন্ধ করে দিয়েছেন। এখানে মালিকদের কিছু করার নেই ।

অন্যদিকে চলাচলের মাধ্যম হিসেবে যাত্রীরা বেছে নিচ্ছেন ইজিবাইক, অটোরিকশা ও ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল। দূরের যাত্রীরা ভিড় করছেন বিআরটিসির কাউন্টারগুলোতে।

আমাদের সাতক্ষীরা সংবাদদাতা জানান, নতুন সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়নের প্রতিবাদে দ্বিতীয় দিনের মত সাতক্ষীরার সকল রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।

পরিবহন শ্রমিক নেতাদের দাবি, আইন সংশোধনের পর এটি বাস্তবায়ন করা হোক। এটা না করা পর্যন্ত এ ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে।

এদিকে হঠাৎ করে সাতক্ষীরার সকল রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়ায় যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েছেন। তারা অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে নছিমন, করিমন ও ইজিবাইকে গন্তব্যস্থলে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।

সাতক্ষীরা জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ আবু আহমেদ জানান, নতুন সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়নের প্রতিবাদে শ্রমিকরা বাস চালানো বন্ধ করে দিয়েছে। তারা চান, আগে এটি সংশোধন করা হোক। এরপর এটি বাস্তবায়ন করা হোক। শ্রমিকরা বাস চালানো বন্ধ করে দিলে মালিক পক্ষের কিছুই করার থাকে না।

আমাদের ঝিনাইদহ সংবাদদাতা জানান, ঝিনাইদহের স্থানীয়সহ সকল রুটে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে বাস শ্রমিকরা।

সোমবার সকাল থেকে ঝিনাইদহ-যশোর, ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া, মাগুরা ও চুয়াডাঙ্গার অভ্যন্তরীন রুটে বাস চলাচল বন্ধ আছে।

মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় রুট ছাড়াও ঢাকা-চট্রগ্রামগামী দুর-পাল্লার পরিবহনও চলাচল বন্ধ রাখে শ্রমিকেরা। 

এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। বাস না পেয়ে অনেকে ইজিবাইক ও মহাসড়কে চলাচলে নিষিদ্ধ তিন চাকার যানবাহনে যাতায়াত করছেন। ঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না চাকরিজীবীরা।

বাস চালকদের দাবি, নতুন সড়ক আইন সংশোধন করা হোক। সংশোধন না করা পর্যন্ত তারা বাস চালাবেন না।