Opu Hasnat

আজ ১৪ ডিসেম্বর শনিবার ২০১৯,

চট্টগ্রামে গ্যাস লাইন বিস্ফোরণে নিহত ৭ চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামে গ্যাস লাইন বিস্ফোরণে নিহত ৭

নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন পাথরঘাটা ব্রিকফিল্ড রোডে একটি ভবনে গ্যাস লাইনে বিস্ফোরণের ঘটনায় ৭ জন নিহত হয়েছে। রোববার সকাল ৯টায় এ ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় গঠন করা হয়েছে দুটি তদন্ত কমিটি। এর একটি গঠন করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এবং অন্যটি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। নিহত ৭ জনের মধ্যে ৬ জনের লাশ স্বজনদের মাঝে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। 

কোতোয়ালী থানার ওসি মো. মহসীন বলেন, পাঁচতলা ভবনের নিচতলায় গ্যাসের লাইনে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ওই ভবনের দু’টি দেয়াল ধসে পড়ে। এ সময় আহতাবস্থায় বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক জসীম উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসি। ১৬ জনকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে পাঠিয়েছি। সেখানে ৭ জন মারা গেছেন। নন্দনকানন, চন্দনপুরা ও আগ্রাবাদ তিন স্টেশনের ১০ গাড়ি উদ্ধার কাজ শুরু করে। গ্যাস লাইন পুরনো ছিল। লিকেজ, নাশকতা, কেমিক্যাল আছে কিনা তদন্ত করা হচ্ছে। বিস্ফোরণে ২টি আবাসিক ভবনের প্রাচীর ও সড়কের সীমানা প্রাচীর ধসে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের দোতলা পর্যন্ত প্রাথমিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছি।

চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক আলাউদ্দিন তালুকদার বলেন, নিহতদের মধ্যে চারজন পুরুষ, দুইজন নারী ও একজন শিশু। এদিকে নিহতদের মধ্যে  পরিচয় পাওয়া ৬ জন হচ্ছে- প্রধান শিক্ষিকা এ্যানি বড়ুয়া (৩৮), গৃহিনী ফারজানা বেগম (৩২), স্কুলছাত্র আতিক (১০), রংমিস্ত্রি নুরুল ইসলাম (৩০), রিকশাচালক আবদুস শুক্কুর (৫০), ভ্যানচালক মো. সেলিম (৪০)।

বিস্ফোরণে আহতদের মধ্যে অর্পিতা নাথ ও সন্ধ্যা নাথ স্থানীয় বিল্ডিংয়ের নিচতলার বাসিন্দা। রাঙ্গুনিয়ার কাজল নাথের মেয়ে কৃষ্ণকুমারী স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অর্পিতা নাথ বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন। তার শরীরের ৩৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। রিকশা আরোহী পাথরঘাটা সেইন্ট জোন্স গ্রামার স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা ডরিন তৃষা গোমেজ (২৩), ইউসুফ (৪০), ইসমাইল (৩০), আবদুল হামিদ (৪২), মো. আরিফ (২২), সন্ধ্যা রাণী দেবী (৩৫), নজির আহম্মেদ সহ বেশ ক’জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। সঙ্গে ছিলেন ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইসমাইল বালি, জহরলাল হাজারী, শৈবাল দাশ সুমন, চসিক প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল সোহেল আহমদ প্রমুখ। এছাড়া দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সিডিএ চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ, সিএমপি কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান ও নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন। হাসপাতালে আহত-নিহতদের খোঁজ খবর নিতে এসেছেন প্রয়াত মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে বোরহানুল হাসান সালেহীন এসে নিহতদের স্বজনদের ১০ হাজার টাকা করে প্রদানের ঘোষণা দেন। পরে হাসপাতালে আসেন চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। তিনি লাশ দাফনের জন্য ২০ হাজার এবং পরিবারকে ১ লাখ টাকা প্রদানের ঘোষণা দেওয়ার পাশাপাশি আহত সবার চিকিৎসা খরচ বহনের ঘোষণা দেন। এরপর নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন আহতদের দেখতে আসেন হাসপাতালে। তিনি চিকিৎসার খোঁজ খবর নেওয়ার পাশাপাশি স্বজনদের সান্তনা দেন। নিহতদের পরিবারকে ১০ হাজার টাকা প্রদানের ঘোষণাও দেন তিনি।

এদিকে গ্যাসলাইনের বিস্ফোরণের ঘটনায় গঠন করা হয়েছে দুটি তদন্ত কমিটি। এর একটি গঠন করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এবং অন্যটি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এজেডএম শরীফ হোসেনকে প্রধান করে জেলা প্রশাসনের গঠিত এই কমিটির অন্য চার সদস্য হলেন ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) প্রতিনিধি এবং স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর। সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে এই কমিটিকে।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) পক্ষ থেকে গঠন করা হয়েছে তিন সদস্যের কমিটি। নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মেহেদি হাসানকে প্রধান করে গঠিত কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মঞ্জুর মোর্শেদ ও কোতোয়ালী জোনের সহকারী কমিশনার নোবেল চাকমা।