Opu Hasnat

আজ ১২ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার ২০১৯,

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

পাইকগাছায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে হাঁটার সাথী সংগঠন খুলনা

পাইকগাছায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে হাঁটার সাথী সংগঠন

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় সর্বত্র প্রসংশিত হয়েছে পাইকগাছা হাঁটার সাথী সংগঠন। স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক সংগঠনটি হাঁটা হাঁটির পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষা সহ যে কোন ধরণের মানবিক কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। বর্তমানে এ সংগঠনের প্রায় দুই শতাধিক সদস্য রয়েছে। যাদের মূল কাজ হচ্ছে শরীর সুস্থ্য রাখার জন্য হাঁটা হাঁটি করা। ২০১৮ সালে ব্যতিক্রমী এ সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়। অরাজনৈতিক সংগঠন হওয়ায় এর সংখ্যা প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। প্রতিদিন ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সাড়ে ৬টা পর্যন্ত উপজেলার দুটি সড়কে হাঁটতে দেখা যায় সংগঠনের সদস্যদের। সপ্তাহের ৪ থেকে ৫ দিন শিবসা ব্রীজ সড়কে বাকি দুই দিন শিববাটী ব্রীজ সড়কে হাঁটে সবাই। সংগঠনে নারী সদস্য সংখ্যাও একেবারে কম নয়। একই রঙের টি-শার্ট পরে যখন হাঁটে তখন সবাইকে দেখে যেন মনে হয় হাঁটার সাথীদের মিলন মেলা বসেছে। সংগঠনের কার্যক্রম দেখে সংগঠনের সাথে যুক্ত হয়েছেন, উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী মোহাম্মদ আলী, ইউএনও জুলিয়া সুকায়না ও পৌর মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর সহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। যুক্ত আছেন অনেক জাতীয় পর্যায়ের চিকিৎসকও। হাঁটার পাশাপাশি সংগঠনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সড়ক ও প্রতিষ্ঠানে রোপন এবং বিতরণ করা হয়েছে গাছের চারা। মাঝে মধ্যে সকালে সকলের জন্য আয়োজন করা হয় স্বাস্থ্য সম্মত নাস্তা। 

সম্প্রতি গত শনিবার অত্র এলাকায় আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। ঘূর্ণিঝড় পূর্ব এবং পরবর্তী সময়ে প্রশাসনের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। ঘূর্ণিঝড় পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে ঝড়ের আগের দিন সংগঠনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়। এদিন বৃষ্টির মধ্যে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ হ্যান্ড মাইক নিয়ে পৌর সদর সহ বিভিন্ন ইউনিয়নে মাইকিং করে জনসাধারণকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আহ্বান জানায়। পাশাপাশি প্রশাসনের সাথে যুক্ত হয়ে বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্র সহ প্রশাসনের সার্বিক কাজে সহযোগিতা করে। ঝড় শেষে উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনও সাথে যুক্ত হয়ে বিভিন্ন সড়কে পড়ে থাকা গাছ অপসারণে সংগঠনের সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে সর্বত্রই প্রসংশিত হয় সংগঠনটি। বিশেষ করে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভূয়সী প্রশংসা করা হয় অরাজনৈতিক এ সংগঠনটিকে।  প্রতিদিন সকালের হাঁটার ছবি ও ভিডিও সহ সকল কার্যক্রম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয় সংগঠনটির নানা কার্যক্রমের সচিত্র প্রতিবেদন। বিশেষ করে ফেসবুকের মাধ্যমে সংগঠনটির কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়েছে সারা বিশ্বে। বিশ্বের অনেক দেশ থেকে অনেকেই সংগঠনটির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। 

সংগঠনটির নারী সদস্য অনিতা রানী মন্ডল জানান, শরীর মন সুস্থ্য রাখার জন্য সংগঠনটির সাথে যুক্ত হয়ে ছিলাম। হাঁটার পাশাপাশি বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রমে অংশ নিতে পেরে নিজেকে সংগঠনের একজন গর্বিত সদস্য মনে হয়। শুরুতেই নারী সদস্যের সংখ্যা খুবই সীমিত ছিল। নানা সামাজিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সংগঠনে প্রতিনিয়ত নারী সদস্যের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। 

সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হোসেন জানান, হাতে গোনা কয়েকজন লোক নিয়ে ২০১৮ সালে সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে এর সদস্য সংখ্যা দুই শতাধিক। সংগঠনের প্রতিটি সদস্য অত্যান্ত আন্তরিক ও মানবিক। সবাই প্রতিদিন ভোরে যেমন নিয়মিত হাঁটতে আসে তেমনি প্রতিটি সামাজিক ও মানবিক কাজে এগিয়ে আসে। আমাদের কার্যক্রমে মুগ্ধ হয়ে প্রতিনিয়ত এর সদস্য সংখ্যা বেড়েই চলেছে। দেশ-বিদেশে ব্যাপক প্রসংশিত হয়েছে। আশা করছি এ ভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে সংগঠনটি দেশ বিদেশের অন্যতম একটি অরাজনৈতিক সেরা সংগঠন হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে। 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুলিয়া সুকায়না জানান, ফেসবুকের মাধ্যমে সংগঠনটির কার্যক্রম প্রথম নজরে আসে। প্রতিদিনের হাঁটার ছবি দেখে নিজের মধ্যেও ইচ্ছে হতো হাঁটার সাথীদের সাথে যুক্ত হতে। একদিন বৃক্ষরোপন কর্মসূচি উপলক্ষে আমাকে দাওয়াত দেওয়া হয়। ভোরবেলার দাওয়াত গ্রহণ করা অনেক কঠিন হলেও আমি সেটি সাদরে গ্রহণ করেছিলাম এবং সকলের সাথে হাঁটার র‌্যালিতে অংশগ্রহণ করেছিলাম। স্বাস্থ্য সচেতনতার পাশাপাশি সংগঠনটির সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম আমাকে মুগ্ধ করেছে। পরিবেশ সু-রক্ষায় সংগঠনের বৃক্ষরোপন কর্মসূচি অত্যান্ত সময় উপযোগী। এর পাশাপাশি বিশেষ করে সম্প্রতি আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের সময় সংগঠনের সদস্যরা প্রশাসনের কাজে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে। দুর্যোগ পূর্ব ও পরবর্তী সময়ে সংগঠনটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। আগামীতে যেকোন দূঃসময়ে অথবা মানবিক প্রয়োজনে সংগঠনটি সরকার এবং দেশবাসীর পাশেই থাকবে এমন প্রত্যাশা সকলের।

এই বিভাগের অন্যান্য খবর