Opu Hasnat

আজ ৮ ডিসেম্বর রবিবার ২০১৯,

গুলশানে প্লট বিক্রির নামে প্রতারণা, কামরুল হুদা গ্রেফতার আইন ও আদালত

গুলশানে প্লট বিক্রির নামে প্রতারণা, কামরুল হুদা গ্রেফতার

রাজধানীর গুলশানে প্লট বিক্রির নামে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কামরুল হুদা নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তাকে মঙ্গলবার গ্রেপ্তার করেছে বনানী থানা পুলিশ। বনানী থানার ওসি বিএম ফরমান আলী তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে কামরুলের বিরুদ্ধে আদালতে বেশ কয়েকটি মামলাও হয়েছে। 

প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে টাকা কামিয়ে কামরুল মালয়েশিয়ায় বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কিনে ‘সেকেন্ডহোম’ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্নদেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করেছেন বলে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ করেছেন নজরুল ইসলাম নামে ভুক্তভোগী এক ব্যবসায়ী। এদিকে দুদক এবং একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার অনুসন্ধানেও কামরুলের বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে বলে জানা গেছে।

গুলশানে প্লট বিক্রির নামে প্রতারণা : অনুসন্ধানে দুদককামরুল হুদার বিরুদ্ধে দুদকে করা অভিযোগে বলা হয়, গুলশানের ৭৮ নম্বর সড়কের (পুরাতন ৩৪/বি) ৬ নম্বর প্লটটি বিক্রির নামে কয়েকজন ব্যবসায়ী ও সাবেক সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে প্রতারণা করেছেন ট্রাভেল এজেন্ট ব্যবসায়ী কামরুল। তিনি প্লটটি বিক্রির প্রস্তাব দেন বনানীর ‘নিউ অটো গ্যালাক্সি’ নামে একটি গাড়ি শোরুমের মালিক নজরুল ইসলামের কাছে। বনানীর ১৭ নম্বর সড়কের ২১ নম্বর বাড়ির ৬ ও ৭ নং ফ্ল্যাটের বাসিন্দা কামরুলের সঙ্গে গাড়ির ক্রেতা হিসেবে নজরুলের পরিচয়। কামরুল গুলশানের ওই প্লটটির মালিকানা নিয়ে বিরোধ ও মামলার তথ্যগোপন করে তা বিক্রির চেষ্টা করেন নজরুলের কাছে। কামরুল প্লটটি ‘মূল মালিক’ খালেদ রহিমের সঙ্গে বায়নার মাধ্যমে নজরুলের কাছে বিক্রির প্রস্তাব দেন। কামরুলের প্রস্তাবে সম্মত হয়ে নজরুল ২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে ফনিক্স ফাইনান্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশনের প্রধান কার্যালয় থেকে ৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে প্লটের বায়না হিসেবে মধ্যস্থতাকারী কামরুলের হাতে তুলে দেন। ওই ঋণের পরিমাণ বর্তমানে সুদে-আসলে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০ কোটি টাকা। এছাড়া কামরুল নিউ অটো গ্যালাক্সিথেকে চারটি দামি গাড়িও কেনেন। যার চার কোটি ৪১ লাখ টাকার মধ্যে তিন কোটি ৪৫ লাখ টাকা পরিশোধ করেছেন। চারটি গাড়ির বিপরীতে কামরুলের কাছে নজরুলের পাওনা রয়েছে এক কোটি ৫৫ লাখ ৬৯ হাজার টাকা। নজরুলের করা মামলায় সোমবার তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। পরে মঙ্গলবার বনানী থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

ভুক্তভোগী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বায়না করার পর জানতে পারি যে ওই বাড়ির (গুলশানের প্লটটি) মালিকানা নিয়ে রওনক খন্দকার ও খালেদ রহিমের মধ্যে আদালতে মামলা চলছে। রওনক খন্দকার ৩৪ বছর ধরে ওই বাড়িতে বসবাস করছেন। মালিকানা নিয়ে বিরোধের তথ্যগোপন করে বায়না করায় আমি কামরুলের মাধ্যমে প্রতারণার শিকার হয়েছি।’

প্রতারণার শিকার হয়েছেন বুঝতে পেরে কামরুলকে নানাভাবে টাকা ফেরত দিতে চাপ দেন জানিয়ে নজরুল আরও বলেন, ‘গোমতি টেক্সটাইল অ্যান্ড ডায়িংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আকতার, রিহ্যাবের সহসভাপতি কামাল মাহমুদ, স্টারলিং টাইলসের এমডি ফজলুল হক, ঢাকা উত্তর সিটি করোরেশনের ২০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. নাছির ও বনানী থানার ওসির মধ্যস্থতায় টাকা আদায়ের চেষ্টা করি। কিন্তু কামরুল প্রতিবারই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে। এমনকি কামরুল রিহ্যাব সহসভাপতির বিরুদ্ধে বনানী থানায় সাধারণ ডায়েরি করে। এছাড়া কামরুল মিথ্যা তথ্য দিয়ে আমার বিরুদ্ধে মানিস্যুট ও প্রতারণার মামলা করে। কিন্তু ওইসব মামলায় আদালতে ৫ বারের শুনানিতে কামরুল হাজির হয়নি।’

কামরুল হুদা বিভিন্ন সময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন উপদেষ্টার নাম ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে সরকারের ভাবমূর্তিক্ষুন্ন করেছে বলেও নজরুল দুদকে করা লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন।

তিনি বলেন, ‘কামরুল সাবেক একজন সেনা কর্মকর্তা এবং একাধিক ব্যবসায়ীর সঙ্গেও প্লট বিক্রির নামে প্রতারণা করেছে। ফরিদপুরের আটরশিতে তার গ্রামের বাড়িতে হেলিপ্যাডসহ বিলাসবহুল বাড়ি এবং ঈশ্বরদীতে ৫০০ বিঘা লিচুবাগান করেছে। এছাড়াও তিনি প্রতারণার অর্থেদেশে-বিদেশে বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মালিক হয়েছেন। তিনি বর্তমানে বনানীর ফ্ল্যাট ছেড়ে দিয়ে অন্যত্র বাসা ভাড়া নিয়ে আত্মগোপনে আছেন।’

দুদক থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ট্রাভেল এজেন্ট কামরুল হুদা মালয়েশিয়ায় বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কিনে ‘সেকেন্ডহোম’ গড়েছেন। পাশপাশি সেখানে তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থও পাচার করেছেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক মুদ্রা পাচারকারী দলের সদস্য কামরুল সিঙ্গাপুর, চীন, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রেও অর্থ পাচার করেছেন।

কামরুলের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ অনুসন্ধান তদারকির দায়িত্বে থাকা দুদকের একজন পরিচালক নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করে বিপুল পরিমাণে স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মালিক হওয়া ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে কামরুলের বিরুদ্দে মামলা দায়ের করা হবে।’

অভিযোগের বিষয়ে কামরুলের স্ত্রী আবিদা আফরিন শোভার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি এসব বিষয়ে কথা বলতে চাচ্ছি না। কারণ আমি খুবই অসুস্থ।’