Opu Hasnat

আজ ৯ ডিসেম্বর সোমবার ২০১৯,

মীর মশাররফ হোসেনের ১৭২তম জন্মবার্ষিকী বুধবার শিল্প ও সাহিত্যরাজবাড়ী

মীর মশাররফ হোসেনের ১৭২তম জন্মবার্ষিকী বুধবার

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম দিকপাল, ঊনবিংশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ মুসলিম সাহিত্যিক, কালজ্বয়ী উপন্যাস “বিষাদ সিন্ধু” রচয়িতা মীর মশাররফ হোসেনের ১৭২ তম জন্মবার্ষিকী (১৩ নভেম্বর)। মীর মশাররফ হোসেন ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলা লাহিনীপাড়া গ্রামের মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহন করেন। তিনি ১৯১১ সালের ১৯ ডিসেম্বর রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের পদমদী গ্রামে মৃত্যু বরন করেন। পদমদীতে তাকে সমাহিত করা হয়।

রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের পদমদী গ্রামে নির্মিত মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি কেন্দ্রের কার্যালয় সুত্রে জানা যায়, কথা সাহিত্যিক মীর মশাররফ হোসেনের স্মৃতি ধরে রাখতে বাংলা একাডেমীর পৃষ্ঠ পোষকতায়, সাংস্কৃতিক মন্ত্রনালয় ২০০৫ সালে ২ কোটি ৫৩ লক্ষ টাকা ব্যয়ে তৈরি করে মশাররফ হোসেন স্মৃতি কেন্দ্র। নির্মানের পর থেকে স্মৃতি কেন্দ্রের রক্ষানাবেক্ষনের দ্বায়িত্ব পালন করে আসছে বাংলা একাডেমী। যেখানে রয়েছে মীর মশাররফ হোসেন রচিত সমগ্রগ্রন্থ্য রাখার ও পড়ার জন্য লাইব্রেরী, রয়েছে স্মৃতি সংরক্ষনের জন্য আলাদা আলাদা কক্ষের ব্যবস্থা।  

মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি কেন্দ্রের অফিস সহকারী মেহেদী হাসান জানান, প্রতিষ্ঠানটি নির্মানের পর জনবল সংকট, মীরের রচিত বই সংকটসহ নানা সংকট চলে দীর্ঘ ১৩ বছর। সব সংকট কাটিয়ে এ বছর প্রতিষ্ঠানটিকে সাজানো হয়েছে আধুনিকতায় ছোয়া। স্মৃতি কেন্দ্রে স্থান পেয়েছে মীরের স্মৃতি চিন্থ। সৌন্দর্য বর্ধনে রোপন করা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের ফুলের গাছ।

পদমদী এলাকার বাসিন্দা খন্দকার বাশারুল আলম বাপ্পু জানান, মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি কেন্দ্রে পর্যটকদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা নেই। এছারাও দুইদিন ব্যাপী বই মেলাটি যেন সারা বছর করা হয়। এমনকি মীরের স্মৃতিকেন্দ্রে একটি বই বিক্রয় কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবী জানান তিনি। 

মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি কেন্দ্রের লাইব্রেরিয়ান বাবুল আক্তার জানান, বর্তমানে লাইব্রেরীতে মীরের রচিত সকল বই রাখা হয়েছে। প্রতিদিন আসছে দর্শনার্থীরা। 

বাংলা একাডেমীর প্রগ্রাম অফিসার শেখ ফয়সাল জানান,  এ বছর মীর মশাররফ হোসেনের ১৭২ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বর্নাঢ্য কর্মসুচী হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সকালে মীর মশাররফ হোসেনের সমাধীতে পুষ্পমাল্য অর্পন, আলোচনা সভা, মিলাদ মাহফিলও দুইদিন ব্যাপী বই মেলা রয়েছে।

মীর মশাররফ হোসেন গল্প, উপন্যাস, নাটক, কবিতা, আত্মজীবনী, প্রবন্ধ ও ধর্ম বিষয়ক ৩৭ টি বই রচনা করেছেন। সাহিত্য রচনার পাশাপাশি কিছুদিন সাংবাদিকতাও করেছেন। মীর মশাররফ হোসেনের রচনা সমগ্রহের মধ্যে রত্নাবতী, গৌরি সেতু, বসন্ত কুমারী, জমিদার দর্পন, সংগীত লহরী, উদাসীন পথিকের মনের কথা, মদিনার গৌরব, বিষাদ সিন্ধু, গো-জীবন, বেহুলা গীতাভিনয়, গাজী মিয়ার বোস্তানী ও বৃহৎ হীরক খনি সহ উল্লেখযোগ্য।