Opu Hasnat

আজ ১৬ ডিসেম্বর সোমবার ২০১৯,

শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যেতে বলেছেন কুবি শিক্ষক কুমিল্লা

শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যেতে বলেছেন কুবি শিক্ষক

বেশ কিছুদিন ধরে বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) প্রকৌশল অনুষধভুক্ত ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিটি) বিভাগের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা রেজিস্ট্রার অফিসে তাদের দাবি জানাতে গেলে মার্কেটিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও শিক্ষক সমিতির সহ-সভাপতি মেহেদী হাসান তাদের নিয়ে কটূক্তি করে প্রাইভেটে চলে যেতে বলেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা পাঁচ দফা দাবিতে বিক্ষোভ করেন। তাদের দাবিগুলো হচ্ছে- শ্রেণিকক্ষ সংকট নিরসনে প্রকৌশল ভবন হস্তান্তর, আইসিটি মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত দুটি ল্যাবের সুষম বণ্টনের মাধ্যমে ল্যাব রুমের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণ, শিক্ষক সংকট নিরসন, আইসিটি বিভাগকে নিয়ে কটূক্তিকারী শিক্ষকের বক্তব্য প্রত্যাহার এবং ক্ষমা প্রার্থনা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘদিনের এসব সংকটের দাবি নিয়ে গত ২৮ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রারের অফিসে যান তারা। শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি উপস্থাপনকালে সেখানে উপস্থিত মার্কেটিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সহ-সভাপতি মেহেদী হাসান তাদের কটূক্তি করে বলেন, ‘আপনাদের এতোই যখন সমস্যা, তখন এখানে ভর্তি হয়েছেন কেন? পার্শ্ববর্তী সিসিএন (নতুন একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়)-এ চলে যান।’

এছাড়াও তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিটি) এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ দুটিকে একীভূত করে দিতেও বলেন বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক মেহেদী হাসান বলেন, বিশ্বের অনেক দেশের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রেডিট ট্রান্সফারের মাধ্যমে শিক্ষার আদান-প্রদান হয়। আমাদের যদি সংকট থাকে তবে পার্শ্ববর্তী কোনো প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা নিতে তো আমাদের সমস্যা নাই। এখানে তারা আমাকে ভুল বুঝেছে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের ক্লাসরুম সমস্যা সমাধানে আমি প্রধানত বলেছি বাসের সংখ্যা বাড়িয়ে দিয়ে সকাল ৮টা থেকে ক্লাস শুরু করতে। তাহলে সমস্যা কমে আসবে।

শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে আপনার কোনো বক্তব্য বা মন্তব্য প্রাসঙ্গিক কি-না জানতে চাইলে মেহেদী হাসান বলেন, আমি সেখানে অন্য একটি কাজে উপস্থিত ছিলাম। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রেজিস্ট্রার স্যারের কথাবার্তা চলাকালে রেজিস্ট্রারের অনুমতি নিয়ে আমি কথা বলেছি। তবে তাদের সমস্যার সমাধান দেয়ার জন্য আমি প্রশাসনিক কোনো দায়িত্বশীল না।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রতিটি দাবির সঙ্গে আমি একমত। তাদের জন্য ক্লাস ও ল্যাব বরাদ্দে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। এতে অন্য কোনো শিক্ষকের অযাচিত মন্তব্য প্রত্যাশিত নয়।

শিক্ষার্থীদের প্রতি শিক্ষক মেহেদী হাসানের তীর্যক মন্তব্যের নিন্দা করে রেজিস্ট্রার বলেন, আমার কাছে শিক্ষার্থীরা সমস্যা নিয়ে আসছে। সেখানে আমি কথা বলেছি। এর মধ্যে অন্য একজন শিক্ষক কথার মাঝখানে তাদের যা বলেছে তা আমরও খারাপ লেগেছে। কিছু লোক আছে যে, প্রয়োজন হলেও ইন্টারফেয়ার করে না হলেও করে। এদের স্বভাব সম্পর্কে ছাত্র-শিক্ষক সবাই জানে।