Opu Hasnat

আজ ১৬ ডিসেম্বর সোমবার ২০১৯,

বুলবুলের আঘাতে লন্ডভন্ড

মোরেলগঞ্জে ২ লক্ষাধিক গাছপালা, ১০ হাজার কাচাঁঘরবাড়ি বিধ্বস্ত বাগেরহাট

মোরেলগঞ্জে ২ লক্ষাধিক গাছপালা, ১০ হাজার কাচাঁঘরবাড়ি বিধ্বস্ত

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে বিধ্বস্ত ও লন্ডবন্ড হয়েছে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ বিস্তীর্ন জনপথ। ২ লক্ষাধিক গাছ গাছপালা, ১০ হাজার কাঁচা ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। ধসে গেছে কাঁচা-পাকা রাস্তা ও গাছপালা উপড়ে পৌর সদর সহ উপজেলার ১৬ ইউনিয়নের  বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়েছে গ্রামের পর গ্রাম।   

রোববার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার পৌর সদর সহ ১৬ ইউনিয়নে ৫ লক্ষাধিক জনপথে আঘাত হানে। সেই সাথে বৃষ্টি আর ঝড়ো হাওয়া। নদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫-৬ ফুট পানি। প্রবল টেউ আছড়ে পড়ে তলিয়ে যায় রাস্তা ঘাট বাড়িঘর। 

এলাকাবাসী ও সরকারি সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও পৌর শহরের ৫০টি পাকা বাড়ি, ৭শ’ ৩৭ টি আঁধা পাকা, বসতবাড়ি , ৯ হাজার ৩শ’ ২০  কাঁচাবাড়ি সহ ১০ হাজার ১শ’ ৭টি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সম্পূর্ন বিধস্ত হয়েছে ৯ হাজার ৩শ’ ২০ টি কাঁচা বসতঘর। নদীর তীরবর্তী পঞ্চকরণ, বহরবুনিয়া, বলইবুনিয়া, হোগলাবুনিয়া, খাউলিয়া, বারইখালীর, মোড়েলগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ও পৌর শহরের বেধিবাঁধ সহ বিভিন্ন রাস্তা অতিরিক্ত পানির স্রোতে ধসে গেছে। ভেসে গেছে নিশানবাড়িয়া ইউনিয়ন, জিউধরা, বারইখালী ও বহরবুনিয়ার ২ হাজার মৎস্য ও কাঁকড়া ঘের। গরু, ছাগল , মহিষ সহ ২০টি গবাদি পশু গোয়াল ঘর চাপা পড়ে মারা গেছে। অসুস্থ্য হয়ে পড়েছে ৪ হাজার ৬শ’ ৪০টি হাঁস মুরগী ও টার্কি। গো খাদ্য নষ্ট হয়েছে ৩শ’ ৩৬ টন, কাঁচা ঘাস ১শ’ ৯৯ টন। পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্র কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের বাইপাস সড়ক, পুরাতন থানা সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ১ কিলোমিটার পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ ও  সদর ইউনিয়নের গাবতলা এলাকায় ৩ কিলোমিটার রাস্তা নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে।  

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে ২৬ হাজার ৩শ’ ৭৫ হেক্টর ফসলি জমি ও আমন ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সাড়ে ৪ হাজার হেক্টর জমির সবজি , ৫০ হেক্টর খেসারী, ১০ হেক্টর মরিচ ক্ষেত বিধস্ত হয়েছে। ২৫ হেক্টর পান চাষে আংশিক ক্ষতি হয়েছে। চিংড়াখালী ইউনিয়নের ২৫ হেক্টর জমির কলা চাষ সম্পূর্ন বিধ্বস্ত হয়েছে। স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চালে টিন উড়ে গেছে, গাছপালা উপড়ে গেছে। ঘূর্ণিঝড়ে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে গোটা উপজেলা। শনিবার রাত ২টা থেকেই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে। ৬০টি বিদ্যুৎ সংযোগের খুটি, ৩৩ কেভি লাইনের তার, ২৫টি ক্রসআর্ম ভেঙ্গে গেছে।  মোরেলগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম সাইফুল আহম্মেদ জানান, বুলবুলের ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ লাইনের কাজ আমরা জনবল বৃদ্ধি করে ৫২টি টিম মাঠ পর্যায়ে শুরু করেছে। 
 
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন জানান, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে এ উপজেলার প্রতিটি সেক্টরেই ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে একটি ক্ষতির তালিকা পাঠানো হয়েছে। 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.কামরুজ্জামান বলেন, ব্যাপক মাইকিং ও সচেতনতার কারনে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে কোন প্রাণহানী ঘটেনি। বন্যা পরবর্তীতে যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করার জন্য মহাসড়কে উপড়ে পড়াা বড় বড় গাছ ফায়ারসার্ভিস, স্বেচ্ছাসেবকের সহায়তায় অপসারন করা হয়েছে। 

ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী প্রত্যন্ত অঞ্চলে ডায়রিয়া, আমাশয় প্রাদুর্ভাবের আগেই  স্যালাইন ও পানিবাহিত ট্যাবলেট মজুদ রাখা হয়েছে। সরকারিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের সহায়তার জন্য জেলা প্রশাসকের মাধ্যেমে ডেউটিন বিতরণ করা হবে । ইতোমধ্যে ইউনিয়ন পর্যায় থেকে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা নিরুপন করা হচ্ছে।