Opu Hasnat

আজ ১০ ডিসেম্বর মঙ্গলবার ২০১৯,

মধুমন্ডল পাবলিক লাইব্রেরী প্রায় ১৫ বছর বন্ধ, চালু করার উদ্দ্যোগ নেই চুয়াডাঙ্গা

মধুমন্ডল পাবলিক লাইব্রেরী প্রায় ১৫ বছর বন্ধ, চালু করার উদ্দ্যোগ নেই

দীর্ঘ ১৫বছর তালাবদ্ধ হয়ে পড়ে আছে দামুড়হুদা মধুমন্ডল পাবলিক লাইব্রেরী। চালু করার কোন উদ্দ্যেগ নেওয়া হচ্ছেনা। দামুড়হুদা পুরাতন বাজার পাড়ায় অবস্থিত লাইব্রেরি টি এক সময় সকাল বিকাল পাঠক কুলের আনা গোনা ও বই পড়ায় মুখরিত থাকতো লাইব্রেরি টি। ১৯৫৫ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান টির ভবনের দ্বিতল ভবন সম্প্রসারনের কাজ প্রায় শেষের দিকে থাকা অবস্থা থেকেই বন্ধ হয়ে পড়ে আছে। প্রচুর পরিমান বই পুস্তক আসবাব পত্র থাকা সত্বেও  চালু করার কোন উদ্ধ্যেগ নিচ্ছেন না কেউ অযত্নে অবলোয় সবই নষ্ট হচ্ছে বই পুস্তকসহ সকল আসবাব পত্র।

জানাগেছে, ১৯৫৫ সালে জ্ঞান চর্চার কথা চিন্তা করে এলাকার প্রভাব শালী ব্যক্তিত্ব সামসুল আলম মাষ্ঠার, আহসান আলি মাষ্টার, (অবঃ বিডিআর) আজাহার উদ্দীন, ইউসুফ আলি খাঁন মাষ্টার, দীন মোহাম্মদসহ কয়েক জন মিলে দামুড়হুদায় লাইব্রেরী করার পরিকল্পনা করে নিজেদের উদ্দ্যেগে কিছু বই আসবাব পত্র সংগ্রহ করে সামসুল আলম মাষ্টারের একটি পুরাতন ভবনে লাইব্রেরীর কার্যক্রম শুরু করা হয়।
 
লাইব্রেরীর পদাধিকার বলে ঐ সময়কার থানা সার্কেল অফিসার (উন্নয়ন) সভাপতি, শফি উদ্দীন খাঁন, ইউছুফ আলি খান পর্যায় ক্রমে সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পালক করেন। খুর ভালো ভাবেই চলে আসছিল লাইব্রেরী কার্যক্রম।ধীরে ধীরে পাঠক সংখা বৃদ্ধি পেতে থাকে। ১৯৮৭ সালে পুরাতন ভবনটি ফাটল ধরলে তা পরিত্যক্ত ঘোষনা করা হয়। পরবর্তিতে একই পাড়ার প্রভাবশালী দানশীল ব্যক্তিত্ব সাসমুল আলম মাষ্টার পুরাতন ভবনের স্থানের ২শত্ংশ জমি লাইব্রেরী নামে দান করেন। ঐ জমিতে  সরকারী অনুদানে নতুন ভবন নির্মান করা হয় ও জমি দাতার বাবার নামে মধুমন্ডল পাবলিক লাইব্রেরী নাম করন করা হয়। তখন সরকারী অনুদানে বইপত্র ও আসবাবপত্র ক্রয় করার পর পাঠক কুলের বইপড়া ও আনা গোনায় মুখরিত থাকতো লাইব্রেরী। ১৯৯৩ সালে শফিকুল আলম সাধারন সম্পাদক ও মনজুর রহমান লাইব্রেরীয়ান এর দায়ীত্ব নেওয়ার পর পাঠকের সংখা ব্যাপক হারে বেড়ে খুবই রমরমা অবস্থায় চলছিল। পাঠক সংকুলন হওয়ায় ঐ বছরই প্রতিষ্ঠান সরকারী অনুদানে শুরু করা হয় দ্বিতল ভবনের কার্যক্রম ছাদ ঢালায়ের আগ মুহুর্তে বন্ধ হয়ে যায় দ্বিতল ভবনের কার্যক্রম। এরই মাঝে  সাধারন সম্পাদক শফিকুল আলম ২০০৪ দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে তিনি ব্যক্তিগত কাজে ঢাকায় চলে যান। সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব নেন একই এলাকার সহিদুল ইসলাম, তিনি । তখন থেকে পাঠক সংখা কুমতে শুরু করে। এক পর্যায়ে পাঠক সংখা একেবারে শুন্যর কোটায় চলে আসে। ঐ সময় থেকে বন্ধ হয়ে যায় প্রতিষ্ঠানটি। ফলে অযত্নে অব হেলায় নষ্ট হচ্ছে বই পুস্তক সহ আসবাবপত্র।

কাজী সাইদুল ইসলা বাদশা, মকবুল হোসেন মাহবুব মোরশেদ অনু,খালিদ হাসান,কাজী সাজেদুর ইসলামসহ অনেকেই বলেন, ঐ সময় উঠতি বয়েছের ছেলে মেয়েরা ও অনেক চাকুরি জীবিরা নামী দামি লেখক দের বই পড়ে জ্ঞান চর্চা সময় কাটাতেন। লাইব্রেরী টি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তারা লাইব্রেরী টি চালু করা জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের নিকট দাবী জানিয়েছেন।
     
দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস.এম. মুনিম লিংকন বলেন, লাইব্রেরী পরিদর্শনে যাবো ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তি দের সাথে বসে আলোচনা করে কিভাবে পূনরায় কিভাবে চালু করা যায় তার ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

সাধারন সম্পাদক সহিদুল ইসলাম বলেন, গ্রামের ভিতরে হওয়ায় এখন আর কেউ পুরাতন বাজারের দিকে আসতে চায়না। নতুন প্রজন্মের ভালো লেখক দের বই পুস্তক সংগ্রহ করে আবারো নতুন উদ্দ্যেগে চালু করলে হয়তো আবারো লাইব্রেরী টি চালু করা সম্ভব।