Opu Hasnat

আজ ৯ ডিসেম্বর সোমবার ২০১৯,

ইতিহাস গড়া হলো না বাংলাদেশের খেলাধুলা

ইতিহাস গড়া হলো না বাংলাদেশের

ভারতকে তাদের মাঠে সিরিজ হারিয়ে ইতিহাস গড়তে পারত টাইগাররা। কিন্তু ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় সে ইতিহাস গড়া হলো না মাহমুদউল্লাহদের। টানা দুই জয়ে টি-টুয়েন্টি সিরিজ নিশ্চিত করল স্বাগতিক ভারত। তারা বাংলাদেশকে হারাল ৩০ রানে।

সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ ভারতকে হারায় ৭ উইকেটে। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে টাইগারদের বিপক্ষে ৮ উইকেটের জয় তুলে নেয় টিম ইন্ডিয়া। আর শেষ ম্যাচে ৩০ রানের জয়ে শিরোপা ঘরে তুলে নেয় রোহিত বাহিনী। সে সঙ্গে অক্ষুন্ন রাখে ঘরের মাঠে তিন ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজ না হারার রেকর্ড।

দলের আশা-ভরসার জায়গা ছিলেন মাহমুদউল্লাহ। তার উপরই ভরসা করেছিল সবাই। কিন্তু পারলেন নাই টাইগার কাপ্তান। ১০ বলে মাত্র ৮ রান করে দলকে খাদের কিনারায় ঠেলে সাজঘরে ফিরেন তিনি।

ইনিংসের ১৬তম ওভারটি করতে আসেন শিভম দুবে। ওভারের তৃতীয় বলে বোল্ড করেন বাংলাদেশকে জয়ের স্বপ্ন দেখানো নাঈমকে। নাঈমের বিদায়ের ঠিক পরের বলেই আফিফকে নিজের তালুবন্দি করান দুবে। এতে এ নিয়ে তৃতীয় জোড়ায় আউট হলো বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। আর এই জোড়া আউটেই জয়ের পথ থেকে ছিটকে পড়ল টাইগাররা।

ইনিংসের তৃতীয় ওভারের চতুর্থ ও পঞ্চম বলে আউট হন লিটন দাস ও সৌম্য সরকার। এতে চরম চাপে পড়ে টাইগাররা। তবে নাঈম-মিঠুন জুটিতে সে চাপ সামলে জয়ের স্বপ্ন দেখছিল বাংলাদেশ। কিন্তু চাহারের তৃতীয় শিকার হয়ে মিঠুন ফেরার পরপরই ফিরেন মুশফিকও। ১৩তম ওভারের শেষ বলে মিঠুনের বিদায়ের পর ১৪তম ওভারের প্রথম বলেই আউট হন মুশফিক। মিঠুন ২৯ বলে খেলেন ২৭ রানের ইনিংস। আর সৌম্যের মতো মুশফিকও ফিরেন শূন্য হাতে।

পরপর দুই বলে দুই উইকেট হারিয়ে দল যখন চরম চাপে ঠিক তখন দলের হাল ধরেন ওপেনার নাঈম শেখ ও মোহাম্মদ মিঠুন। দুইজনের জুটিতে জয়ের স্বপ্ন দেখছে টাইগাররা। এরই মধ্যে ক্যারিয়ারের প্রথম অর্ধশকত তুলে নিয়েছেন ওপেনার নাঈম শেখ। ধীরে ধীরে বড় সংগ্রহের পথে এগোচ্ছেন মিঠুনও।

লিটন দাসের বিদায়ের পর দল যখন কিছুটা চাপে ঠিক তখনই রানের খাতা খোলার আগে বিদায় নেন সৌম্য সরকার। দীপক চাহারের দ্বিতীয় শিকার হন শূন্য রানে। এতে চরম বিপদে পড়ে সফরকারীরা। সৌম্যের ক্যাচটি তালুবন্দি করেন শিভম দুবে।

ইতিহাস গড়ার সুযোগ ছিল বাংলাদেশের হাতে। তার জন্য ভালো কিছু করতে হতো দলের ওপেনারদের। কিন্তু সে সুযোগ নষ্ট করে দ্রুত সাজঘরে ফিরেন ওপেনার লিটন। দীপক চাহারের বলে ওয়াশিংটন সুন্দরের তালু বন্দি হওয়ার আগে ৯ রান করেন তিনি।

আজকের ম্যাচটি জিতে ভারতের মাটিতে ইতিহাস গড়ার সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের সামনে। কেননা এর আগে তিন ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজে ভারতের মাটিতে কেউই তাদের হারাতে পারেনি। আর এমনই সুযোগ কাজে লাগাতে টাইগারদের চাই ১৭৫ রান।
তিন ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৭৪ রান তোলে স্বাগতিকরা। এতে টাইগারদের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৭৫ রান।

নিয়মিত বোলার মুস্তাফিজ-আল আমিনরা যখন ব্যর্থ হচ্ছিলেন ঠিক তখনই দলকে ব্রেকথ্রু এনে দিলেন পার্ট টাইম বোলার সৌম্য সরকার। শ্রেয়াস আইয়ারের সঙ্গে ৪৫ রানের জুটি গড়া রিশভ পন্থকে ৬ রানে ফেরান সৌম্য। স্লো মিডিয়াম বলে উড়িয়ে দেন পন্থয়ের মিডল স্টাম্প। পন্থের বিদায়ের ৫ রানের মাথায় লিটনের তালু বন্দি করান ইনিংসে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী আইয়ারকে। যা ছিল ‘পার্ট টাইম’ সৌম্যের দ্বিতীয় শিকার। ৩৩ বলে ৩ চার ৫ ছক্কায় ৬২ রানের ইনিংস খেলেন আইয়ার।

মুস্তাফিজ-বিপ্লবকে যখন একাই শাসন করছিলেন লোকেশ রাহুল ঠিক তখনই তাকে থামিয়ে দিলেন পেসার আল আমিন। অর্ধশতক তুলতেই তাকে সাজ ঘরে ফেরান এ পেসার। লিটন দাসের তালুবন্দি হওয়ার আগে ৩৫ বলে ৭ চারে ৫২ রান করেন রাহুল।

শফিউলের বলে ভারতীয় দুই ওপেনার বিদায় নেয়ার পর রানের চাকা আরও দ্রুত গতিতে ঘুরাতে থাকে লোকেশ রাহুল ও শ্রেয়াস আইয়ার। ৩৩ বলে অর্ধশতক তুলে নেন রাহুল। দুই জনের ব্যাটে বড় স্কোরের আভাস দিচ্ছে টিম ইন্ডিয়া।

রোহিতের ব্যাটে দ্বিতীয় ম্যাচে জয় পেয়েছিল ভারত। তবে আজ তাকে সে সুযোগ দেয়নি টাইগার পেসার শফিউল ইসলাম। মাত্র ৩ রানে ভারতীয় কাপ্তানকে বিদায় করার পর দলীয় ৩২ রানে শিকার করেন আরেক ওপেনার শিখর ধাওয়ানকে। ১৬ বলে ১৯ রান করা শিখরকে মাহমুদউল্লাহর তালু বন্দি করান এ পেসার।

শিশিরের কারণে টস জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় মাহমুদউল্লাহ। টস হেরে ব্যাট করতে নামা ভারতকে মোকাবিলা করতে প্রথমে পাঠান পেসার আল-আমিনকে। ৩ রান খরচ করে দারুণভাবেই প্রথম ওভার শেষ করে আল-আমিন। দ্বিতীয় ওভারে আসেন আরেক পেসার শফিউল ইসলাম। ভারতীয় অধিনায়ক রোহিত শফিউলের প্রথম দুই বল ভালোভাবে মোকাবিলা করলেও তৃতীয় বলে রোহিতের মিডল স্টাম্প উড়িয়ে দেন শফিউল। ২ রান করে সাজ ঘরে ফেরেন ভারতীয় কাপ্তান।

সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে দুই দলেই এসেছে একটি করে পরিবর্তন। চোটের কারণে টাইগার একাদশ থেকে বাদ পড়েছেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। তার বদলে দলে এসেছেন মোহাম্মদ মিঠুন। টিম ইন্ডিয়ার একাদশে ঢুকেছেন মনীষ পাণ্ডে। বাজে ফর্মের কারণে বাদ পড়েছেন ক্রুনাল পান্ডিয়া।