Opu Hasnat

আজ ১৮ নভেম্বর সোমবার ২০১৯,

উপহারের স্বপ্নের নীড়ে স্বস্তিতে বসবাস নীলফামারী

উপহারের স্বপ্নের নীড়ে স্বস্তিতে বসবাস

শেখের বেটি হাসিনা হামাক পাকা বাড়ি বানে দিছে, এখন সগায় আইসে হামার বাড়িত। আগত কাহো আচ্ছিল না, ‘আল্লাহ তাক হাজার বছর বাছে থুক’। অনটনে ভরা জীবনে সমাজপতিদের গঞ্জনা আর অবহেলার কথা স্বরন করে হাউ-মাউ করে কেঁদে এসব কথা বলেন ভিক্ষুক ওবায়দুল ইসলাম(৬৫)। জীবনে পাকা বাড়িতে থাকবে এমন কল্পনা কখনও করেননি। তাই তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য দোয়া করেন।

আজ শুধু দরিদ্র ওবায়দুল নয়। তার মত সৈয়দপুর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের ৩০টি অসহায় পরিবারকে জমি আছে তবে বাড়ি করার সামর্থ্য নেই এমন গৃহহীন ও হতদরিদ্রদের সরকার একটি বাড়ি উপহার দিয়েছে। আর চলতি বছরের অক্টোবর মাসের শেষ সপ্তাহে গৃহহীনদের নতুন বাড়ি বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন গ্রামীণ অবকাঠামোগত রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) এবং অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা) কর্মসূচির বিশেষ বরাদ্দে গৃহহীনদের জন্য পাকা বাড়িগুলো তৈরি হয়েছে। প্রতিটি বাড়ি নির্মাণে ব্যায় হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার টাকা।  প্রায় ২ শতাংশ জমিতে (৮০০ বর্গফুট) তৈরি এসব টিনশেড পাকা বাড়িতে একটি রান্নাঘর, একটি টয়লেট, দুটি থাকার কক্ষ, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, সোলার প্যানেলসহ পাশে আলাদা টয়লেটও তৈরী করে দেয়া হয়েছে।

উপজেলার বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের লক্ষনপুর ভগতপাড়ার অমুল্য চন্দ্র রায় বলেন, আমি একজন শ্রমিক। কোন দিন কাজ আছে, আবার নাই। এভাবেই পাঁচ সদস্যর সংসার চলে। তাই কাজ চাই। কাজের সঞ্চয় দিয়ে কখনও পাকা বাড়ির মালিক হওয়ার স্বপ্ন দেখি নাই। তবে এ সরকার পাকা বাড়ি দিয়ে আমার মত গরিবের স্বপ্ন পুরন করেছেন। এর জন্য আমি কৃতজ্ঞ। উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের পশ্চিম আইশঢাল পানাতিপাড়া গ্রামের এক ঘরে ২ ছেলে ও ১ মেয়ে নিয়ে গত ১৩ বছর ধরে একটি ঘরে বসবাস করছেন বিধবা গোলসানা বেগম(৫২)। শত প্রতিকুলতায় ভেঙ্গে না পড়ে। বেঁচে থাকার সংগ্রামে তার কোণে ছোট্ট একটি পান দোকানের আয় দিয়ে সংসারের ব্যায়সহ,সন্তানদের শিক্ষিত করেছেন। সকলে বড় হয়েছে। মেয়ে বিয়ে দিয়েছেন তবে ছেলেদের থাকার ঘর নেই। এমন ভাবনায় স্থানিয় চেয়ারম্যানের মাধ্যম একটি পাকা বাড়ি পেয়েছেন। আজ তার বড় ছেলে ইট ভাটায় কাজ করে। ছোট ছেলে কলেজে। এর সাথে সরকারের কাছ থেকে একটি বাড়ি উপহার পেয়ে সোনায় সোহাগা বনে গেছেন বিধবা গোলসানা বেগম। আর স্বপ্নের এ পাকাবাড়ি পেয়ে এ সকল পরিবারগুলোর সামাজিক মুল্যবোধ জাগ্রত হয়েছে। ভিক্ষারমত অভিশপ্ত পেশা ছেড়ে নতুন কোন ভিন্ন পেশায় আত্বনিয়োগের কল্পনা করছেন। 

সৈয়দপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আবু হাসনাত সরকার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, ‘গ্রাম হবে শহর’ এ কর্মসূচির আওতায় এ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে ৩০ পাকাবাড়ি তৈরি হয়েছে। যা আনুষ্ঠানিকভাবে সুবিধাভোগীদের নিকট বাড়িগুলোর কাগজপত্রসহ হস্তান্তর করা হয়েছে।

সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম গোলাম কিবরিয়া বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া তালিকা যাচাই–বাছাই করে অতিদরিদ্র, গৃহহীন ও দুস্থদের মাঝে বাড়িগুলো বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের ঘোষণা অনুযায়ী এ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। জমি আছে ঘর নাই। এমন দরিদ্ররা অগ্রাধিকার পেয়েছেন।

বাংলাদেশ ওয়াকার্স পাটির সৈয়দপুর উপজেলা কমিটির সাধারন সম্পাদক রুহুল আলম মাষ্টার বলেন, এ প্রকল্পের মাধ্যমে তৃণমুল জনগোষ্টির মধ্যে বর্তমান সরকার ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। তাই এই প্রকল্পটি আরো দরিদ্রদের মধ্যে দেওয়া উচিত।