Opu Hasnat

আজ ১২ নভেম্বর মঙ্গলবার ২০১৯,

র‌্যাবের অভিযানে ৪০ কেজি গাঁজাসহ আটক ২ গাজীপুর

র‌্যাবের অভিযানে ৪০ কেজি গাঁজাসহ আটক ২

মাদকমুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্যে চলমান মাদক বিরোধী অভিযানের ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-১ এর আভিযানিক দল গোয়েন্দা সূত্রে জানতে পারে যে, বেশ কিছুদিন ধরে একটি মাদক ব্যবসায়ী চক্র দেশের বিভিন্ন স্থান হতে মাদক দ্রব্য কৌশলে রাজধানীসহ আশপাশের জেলায় নিয়ে আসছে। র‌্যাব-১ ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি মাদকের বড় চালান আটক করতে সক্ষম হয়েছে। চক্রটি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দেওয়ার জন্য নিত্য নতুন কৌশল অবলম্বন করছে। কখনো যাত্রীবাহী বাসে করে, আবার কখনো কখনো ট্রাকে করে মাদকদ্রব্য নিয়ে আসছে বলে জানা যায়। গোপন সুত্রে জানা যায়, হবিগঞ্জ হতে একটি ট্রাকে করে মাদকদ্রব্য গাঁজার একটি বড় চালান রাজধানী ঢাকার উদ্দেশ্যে আসছে। এরই প্রেক্ষিতে মাদক ব্যবসায়ী চক্রটিকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে র‌্যাব-১ গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে এবং মাদক দ্রব্যের চালানটির গতিবিধি অনুসরণ করার লক্ষ্যে অবস্থান নেয়। 

এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার (০৩ নভেম্বর) সাড়ে ৬টার দিকে র‌্যাব-১ একটি দল গাজীপুর মহানগরীর জয়দেবপুর থানাধীন দক্ষিণ সালনাস্থ ঢাকা ময়মনসিংহ রোডের পূর্ব পার্শ্বে অবস্থিত শ্যামলী গার্মেন্টস সংলগ্ন হৃদয় এন্টারপ্রাইজ এর সামনে পাকা রাস্তার উপর অভিযান পরিচালনা করে আন্তঃজেলা মাদক ব্যবসায়ী চক্রের সদস্য কিশোরগঞ্জের মোঃ নবির হোসেন (৩৯) ও মোঃ সুমন মিয়া (৩০)-কে গ্রেফতার করে। এসময় আসামীদের চালিত পিকআপ হতে ৪০ কেজি গাঁজা ও ০২ টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয় এবং মাদক পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত পিকআপটি জব্দ করা হয়েছে। 
 
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা একটি সংঘবদ্ধ মাদক চোরাচালানকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা হবিগঞ্জ জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে চোরাচালানের মাধ্যমে গাঁজা নিয়ে আসে। পরবর্তীতে গাঁজার চালানগুলো বিভিন্ন পণ্যবাহী পরিবহনে করে ঢাকাসহ সারাদেশে মাদক ব্যবসায়ীদের নিকট সরবরাহ করা হয়। এই চক্রের অন্যতম সদস্য হবিগঞ্জ জেলার জনৈক মাদক ব্যবসায়ী। সে অবৈধভাবে গাঁজার চালান দেশে নিয়ে এসে তার সহযোগী ধৃত আসামী নবির ও সুমনের মাধ্যমে মাদকের চালান ঢাকা ও আশেপাশের এলাকায় নিয়ে এই সিন্ডিকেটের অন্যান্য সদস্যদের নিকট খুচরা ও পাইকারী মূল্যে বিক্রয় করে বলে জানায়। 

আসামী নবির’কে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সে জব্দকৃত পিকআপটির মালিক। সে হবিগঞ্জ জেলার জনৈক মাদক ব্যবসায়ীর মাধ্যমে মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। সে দীর্ঘদিন যাবত মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। সে বর্ণিত গাঁজার চালানটি হবিগঞ্জ জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা হতে গাজীপুর নিয়ে আসছিল বলে জানায়। বর্ণিত চালানটি গাজীপুর মহানগরীর জনৈক মাদক ব্যবসায়ীর নিকট সরবরাহ করার কথা ছিল। সে ইতিপূর্বে ১০/১৫ টি মাদকের চালান ঢাকায় নিয়ে এসেছে বলে স্বীকার করে। চালান প্রতি মাদক ব্যবসায়ীরা তাকে ৪৫,০০০/- টাকা করে দিত বলে জানায়। 

আসামী সুমন’কে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সে পেশায় একজন পিকআপ চালক। সে প্রায় ১০-১৫ বছর যাবত পিকআপ চালিয়ে আসছে। সে ধৃত আসামী নবিরের পিকআপ চালায় এবং তার মাধ্যমে মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। সে দীর্ঘদিন যাবত মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। সে ইতিপূর্বে ০৮/১০ টি মাদকের চালান গাজীপুরে নিয়ে এসেছে বলে স্বীকার করে। চালান প্রতি ধৃত আসামী নবির তাকে ২০,০০০/- টাকা করে দিত বলে জানায়।  
 
র‌্যাব-১ এর অধিানায়ক লে. কর্নেল মো. সারওয়ার-বিন-কাশেম এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছন। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য এবং গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান তিনি।