Opu Hasnat

আজ ১৬ নভেম্বর শনিবার ২০১৯,

মিরপুরে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার বাড়ী দখলের চেষ্টার অভিযোগ মুক্তিবার্তারাজধানী

মিরপুরে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার বাড়ী দখলের চেষ্টার অভিযোগ

রাজধানীর মিরপুরে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মো. ফজলুল হক এর বরাদ্ধকৃত সরকারী বাড়ী অবৈধ দখলদারীর অত্যাচার ও নির্যাতনের বিচার চেয়ে রবিবার (৩ নভেম্বর) সকাল ১১ বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করেন।  লিখিত বক্তব্যে মোঃ ফজলুল হক (১৯৬৯) ১৯৮৮ সালে সরকার কর্তৃক যোদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা কোটায় লিজকৃত বাসা-০৩, রোড-১, সেকশন-৬, ব্লক-এ, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬ বাড়িটি বরাদ্ধ পেয়ে বসবাস করে আসছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ফজলুল হক মজনু ভারতের আগরতলায় ইন্ডিয়ান ইন্টিলিজেন্ট গোয়েন্দা সংস্থায় প্রশিক্ষন নেন। বি-বাড়িয়ায় এম.সি.এ আলী আজম এবং এ্যাডভোকেট সিরাজুল হক বর্তমান আইনমন্ত্রীর পিতা মোঃ আনিসুল হক এই দুইজনের অধীনে ভারতের আগরতলায় ইন্ডিয়ান ইন্টিলিজেন্ট গোয়েন্দা সংস্থায় প্রশিক্ষন নেন ১৯৭১ সালের ৩১ এ অক্টোবর আগরতলায় একটি নিকটবর্তী স্থানে রাজাকারের গুলিতে আহত হয়ে এরপর পাক বাহীনির হাতে তুলে দেয়।

দীর্ঘ ১ মাস ৩ দিন পাক সেনাদের অকথ্য নির্যাতনে মানুষিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। ১৯৭১ এর ডিসেম্বর পাক সেনারা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রেখে আসে। ১৭ ডিসেম্বর ১৯৭১ সাল কারাগার থেকে বের হয়ে আসেন। পরবর্তীতে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলি। প্রয়াত আঃ কুদ্দুস মাখন এর সহায়তায় দীর্ঘ আড়াই মাস পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর কিছুটা সুস্থ হন। এবং পুরোপুরি সুস্থ হতে ৬ বছর লাগে। ১৯৮৮ সালে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এই বাড়ীটি সরাকাভাবে বরাদ্ধ পেয়ে মা-বাবা, ভাই-বোন নিয়ে বসবাস করে আসছেন। তারপর বিয়ে করে দুই সন্তানের পরবর্তীতে বাবা তার নামে বাড়ীটি লিখে দিতে বলে যা আমার পক্ষে আইনগত ভাবে সম্ভব ছিল না। 

এক পর্যায় নিষ্ঠুর পরিস্থীতির স্বীকারে পড়েন, ভাই মাইনুল, শাহিন বোন-মনু, লাকী, সাবানা এর মধ্যে এক ভাই এক বোন মারা গেছে বর্তমানে এক ভাই ও বোন জীবিত আছে। এই পাঁচ ভাই-বোন থাকা অবস্থায় বাড়ীতে উঠেন কলে দাবি করেন। কিন্তু তাদের নিষ্ঠুর নির্যাতনের কথা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। কোন দিন ঠিকমত একবেলা খাবার খেতে পারি নাই। তার নিজের লোকজন দিয়ে ভয়-ভীতি দেখানো, অশ্লীল ভাষায় গালী-গালাজ, জীবন নাশের হুমকি দেয়া ছিল তাদের প্রতিদিনের রোটিন। এক পর্যায়ে তার স্ত্রীর গায়ে গরম চা ঢেলে দিয়েছিল এবং তার গায়ে চায়ের কাপ ছুড়ে মেরেছিল এতে করে সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। এমন কি একদিন আমাকে শীতের রাতে জোর করে ঘর থেকে বের করে দেয়া বলে দাবি কনে। সকালে স্ত্রী ও সন্তাদেরসহ বের করে দেয়। বর্তমানে আমার ভাই মিরপুর মডেল থানা তাঁতী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বোন বিএনপির নেত্রীর নির্যাতনে বহু কষ্টে দিনযাপন করছি।

আমি ছোট একটা বাসা নিয়ে থাকি শশুরবাড়ীর সহযোগিতায়। আমার কোন ইনকামের রাস্তা নাই, সরকারের দেয়া মুক্তিযোদ্ধার ভাতা দিয়ে কোনরকম দিন পার করছি। বর্তমানে ছেলে কোন রকম পরিবারটাকে টিকিয়ে রেখেছে। এখন অনেক কষ্টে জীবন-যাপন করতেছি। ভাড়া বাসায় থাকাও অসম্ভব হয়ে পড়েছে। একাধিকবার আইনী সহযোগিতা চেয়ে পাইনি। মহল্লার লোকজন নিয়ে অনেকবার বিচারের চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু তারা এলাকার কারো বিচার মানে না। আমার ছোট বোন মনু বি.এন.পির নেত্রী সব সময় গালী-গালাজ করে এবং বাসার সামনে ছেলে-পেলে নিয়ে অবস্থান করে এমনকি আমার ছোট ভাই শাহীনও এমন কাজ করে। পরবর্তীতে শাহীনের বউ তাদের সবার নামে নারী-নির্যাতনের মামলা করে। সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন আমার বরাদ্দকৃত বাড়ীটি আমাকে ফিরে পেতে সাহায্য কামনা করছি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন স্ত্রী মিসেস কানিজ ফাতেমা ও ছেলে মো. ওয়াহিদুল হক। 

এই বিভাগের অন্যান্য খবর