Opu Hasnat

আজ ১৮ নভেম্বর সোমবার ২০১৯,

অধ্যক্ষকে পুকুরে ফেলে লাঞ্ছিতের ঘটনায় মামলা রাজশাহী

অধ্যক্ষকে পুকুরে ফেলে লাঞ্ছিতের ঘটনায় মামলা

রাজশাহী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী ফরিদ উদ্দিন আহম্মেদকে টেনে হিচড়ে পুকুরে ফেলে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলায় ৮ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হত্যার উদ্দেশ্যে তাকে পুকুরে ফেলে দেন বলে জানিয়েছেন ওই অধ্যক্ষ।

শনিবার (২ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর চন্দ্রিমা থানায় অধ্যক্ষ নিজেই বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। চন্দ্রিমা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ গোলাম মোস্তফা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার আসামিরা হলেন- কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ও পলিটেকনিক শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সম্পাদক কামাল হোসেন সৌরভ, ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের পঞ্চম পর্বের শিক্ষার্থী মুরাদ হোসেন, পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক ছাত্র শান্ত, ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক ছাত্র বনি, মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক ছাত্র হাসিবুল ইসলাম শান্ত, ইলেক্ট্রো-মেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক ছাত্র সালমান টনি, একই বিভাগের সপ্তম পর্বের ছাত্র হাবিবুল ও কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক ছাত্র মারুফ হোসেন।

ওসি গোলাম মোস্তফা বলেন, অধ্যক্ষ নিজে বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। দ্রুত জড়িতদের গ্রেফতার করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শনিবার দুপুরে যোহরের নামাজ পড়ে নিজ কার্যালয়ে ফেরার সময় অধ্যক্ষ প্রকৌশলী ফরিদ উদ্দিন আহম্মেদকে টেনেহিঁচড়ে লাঞ্ছিত করে পুকুরে ফেলে দেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পরে আশেপাশে থাকা কর্মকর্তারা তাকে পুকুর থেকে উদ্ধার করেন।

অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দীন আহম্মেদ বলেন, ‘বিভিন্ন সময় ছাত্রলীগের ছেলেরা অন্যায় দাবি নিয়ে আসত আমার কাছে। সে সব দাবি না মানায় তারা আমার উপর ক্ষুদ্ধ ছিল। তাদের দাবিগুলো মানার মতো থাকে না।’

তিনি বলেন, ক্লাসে উপস্থিতি কম থাকায় দুজন ছাত্রের ফরম পুরণ হয়নি। ওই দুই ছাত্রের ফরম পুরণ করানোর জন্য সকালে কয়েকজন আমার কাছে এসেছিল। কিন্তু আমি বিভাগীয় প্রধানের কাছে যেতে বলি। এ সময় তারা আমাকে নিয়ে আমার সামনে অশালীন মন্তব্য করে। এতে আমি তাদের উপর ক্ষুদ্ধ হয়ে কয়েকটি কথা বলি। এরপর তারা আমার উপর ক্ষুদ্ধ হয়ে বের হয়ে যায়। পরে দুপুরে নামাজ পড়ে অফিসে যাওয়ার সময় কামাল হোসেন সৌরভ আমার পথ আটকে দাঁড়িয়ে বলে স্যার কথা আছে। একটু পুকুরের ধারের দিকে আসেন। আমি যেতে না চাইলে তারা আমাকে তুলে নিয়ে গিয়ে পুকুরে ফেলে দেয়। এরপর তারা পালিয়ে যায়। তাদের মধ্যে দুজনের মুখ বাঁধা ছিল।

অধ্যক্ষ বলেন, যেখানে আমাকে ফেলে দিয়েছে সখানকার পানির গভীরতা ছিল ১২ থেকে ১৫ ফুট। আমি সাঁতার জানতাম বলে বেঁচে গেছি। সাঁতার কেটে পাড়ে চলে এসেছি। সাঁতার না জানলে হয়তো আজই শেষ হয়ে যেতাম।

এদিকে, অধ্যক্ষকে পুকুরে ফেলে লাঞ্ছিতের ঘটনায় সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে রাজশাহী মহানগর শাখা ছাত্রলীগ। একই সঙ্গে ঘটনা তদন্তে ছয় সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছে তারা। মহানগর ছাত্রলীগের দফতর সম্পাদক ফজলে রাব্বীর পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এই বিভাগের অন্যান্য খবর