Opu Hasnat

আজ ১২ নভেম্বর মঙ্গলবার ২০১৯,

মিরকাদিমে পুকুর-জলাশয় ভরাট-আতঙ্কে সাধারণ জনগোষ্ঠী মুন্সিগঞ্জ

মিরকাদিমে পুকুর-জলাশয় ভরাট-আতঙ্কে সাধারণ জনগোষ্ঠী

সরকার যেখানে পুকুর ও জলাশয় ভরাটের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন, সেখানে মুন্সীগঞ্জ সদরের মিরকাদিম পৌরসভার নৈ-দিঘীর পাথরের নলদিয়ার মাঠ ও নগরকসবার সরকারি পুকুর-জলাশয় বালু ফেলে ভরাটের প্রস্তুতি নেয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী ভূমিদস্যু চক্রের বিরুদ্ধে। ইতোমধ্যে বিশাল আকারের ড্রেজারের পাইপ বসানো হয়েছে পুকুর সংলগ্ন এলাকায়। একটি জলাশয় ভরাটও করে নিয়েছে ভূমিদস্যু চক্রটি। এতে করে জলাশয় সংলগ্ন বাসিন্দাদের পয়নিষ্কাশন ও ময়লা-আবর্জনা সরাতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। 

এদিকে, প্রভাবশালী ভূমিদস্যু চক্রটি পুকুর ও জলাশয় সংলগ্ন স্থানে পাইপ বসানোর ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের দিনকাটছে ভরাট আতংকে। এই বিষয়ে সরকারি পুকুর ভরাটের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা। 

মুন্সীগঞ্জের মিরকাদিম পৌরসভার নৈদিঘীরপাথরের নলদিয়ার মাঠ ও নগরকসবায় ৪টি সরকারি পুকুর রয়েছে। এই পুকুরগুলো ভরাটের জন্য গত কয়েকদিন আগে ধলেশ্বরী নদী থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরত্বে পাইপ টেনে আনে একটি প্রভাবশালী চক্র। মিরকাদিম পৌর কর্তৃপক্ষের কোন রকম অনুমতি ছাড়া এই পাইপ ঐতিহাসিক কমলাঘাট বন্দর, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মানুষের বাড়ির ওপর দিয়ে টেনে আনা হয়। এতে করে কমলাঘাট বন্দরের মাল উঠানামায় পরিবহন ব্যবস্থায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। এছাড়াও বিশাল এলাকাজুড়ে সড়কের ওপর ড্রেজারের পাইপ থাকায় যানবাহন চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের ডাল শুকানোর মাঠও দখল করে চক্রটি পাইপ টেনে এনেছেন। বাপ-দাদার জমি পাইপের মাধ্যমে ভরাট করে দখল করে নেয়ার আশংকা করছেন সংখ্যালঘুরা। 

আবার এলাকার পুকুর ও জলাশয়গুলো ভরাট করে দখল করার হলে এলাকার পরিবেশ মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তারা আরো জানায়, পুকুর ভরাট করা হলে তারা কোথায় গিয়ে গোসল করবেন, গৃহস্থালীর কাজ সারবেন। অচিরেই পুকুর-জলাশয়ের মুখ থেকে ড্রেজারের পাইপ সরিয়ে নিয়ে ভরাট বন্ধে তারা প্রশাসনের জরুরি পদক্ষেপ কামনা করেছেন। 

নগরকসবার সংখ্যালঘু প্রহলাদ জানান, তাকে না জানিয়ে, না জিজ্ঞেস করে তার জমির মুখে পাইপ বসিয়েছে। জমি ভরাট করে নিয়ে গেলে আমি কি করবো, হিন্দু বলে কি বিচার পাবো না।

নগরকসবার খুকুমনি বলেন, পুকুর ভরাট করে ফেললে আমরা কোথায় যাবো। টিউবওয়েলের পানি, বাথরুমের ময়লাসহ অন্যান্য ময়লা-আবর্জনা কোথায় ফেলবো। নগরকসবার বাগবাড়ির অনিকা বলেন, এখানে একটি জলাশয় ছিলো। গত ৩-৪ দিন আগে এটি ভরাট করে ফেলা হয়েছে। টয়লেটের ময়লা, টিউবওয়েলের পানি এবং গৃহস্থালীর ময়লা-আবর্জনা এখন জলাশয় দিয়ে চলে যেত। এখন এগুলো কোথায় সরাবো, কোথায় ফেলবো। 

মিরকাদিম পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি নৈদিঘীরপাথর গ্রামের মো. মাসুদ রানা বলেন, যুগযুগ ধরে ২-৩টি গ্রামের মানুষ গোসল ও গৃহস্থালী কাজসহ অন্যান্য কাজে নলদিয়ার মাঠ এলাকার সরকারি পুকুর ব্যবহার করে আসছে। কিন্তু নৈদিঘীরপাথরের লিটন, শাহাদাত ও জামাই হক নামে একটি কুচক্রিমহল বালু দিয়ে পুকুর-জলাশয় ভরাট করার লক্ষ্যে পাইপ স্থাপন করেছে। পুকুর ভরাট করে ফেললে এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে পরিবেশ দূষণসহ নানাবিধ রোগ দেখা দিতে পারে। এই বিষয়ে তিনি জেলা প্রশাসক, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও মিরকাদিম পৌরসভার মেয়রের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান। 

মিরকাদিম পৌরসভার মেয়র শহিদুল ইসলাম শাহীন জানায়, জেলা প্রশাসক ও এডিসি রেভিনিউকে এই বিষয়ে জানিয়েছেন বলে কোন রকম পারমিশন ছাড়া একটি ভূমিদস্যু গ্রুপ পুকুরগুলো ভরাটের জন্য ড্রেজারের পাইপ নদী থেকে টেনে এনেছে। পাইপ সরিয়ে নিয়ে জলাশয় ও পুকুর ভরাট বন্ধে কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন এবং বিষয়টি তাদের নজরে আছে বলে তিনি জানান। 

মেয়র আরো জানান, পাইপ জনগুরুত্বপুর্ণ একটি খাদ্য গোডাউনের ওপর দিয়ে নেয়া হয়েছে এবং কমলাঘাট বন্দরের মতো এলাকায় যেখানে বিভিন্ন মালামাল বহন করে বড় বড় ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন। কিন্তু বিশাল পাইপের কারণে পরিবহন ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়েছে।