Opu Hasnat

আজ ১৮ নভেম্বর সোমবার ২০১৯,

চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক কার্যালয়ে কর্মশালা

সুস্থ সবল শিশুর জন্য মায়ের দুধের বিকল্প নেই: পরিচালক খলিল স্বাস্থ্যসেবাচট্টগ্রাম

সুস্থ সবল শিশুর জন্য মায়ের দুধের বিকল্প নেই: পরিচালক খলিল

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোঃ খলিলুর রহমান বলেছেন, জন্মের পরে পরিপূর্ণ সুস্থ সবল শিশুর জন্য মায়ের দুধের কোন বিকল্প নেই। জন্মের সাথে সাথে মায়ের শাল দুধই শিশুর প্রথম টিকা ও খাবার। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন সংক্রামক থেকে শিশুকে দ্রুত রক্ষা করে। 

বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় নগরীর লয়েল রোডস্থ বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) কার্যালয়ের মিলনায়তনে অনুষ্টিত “মাতৃদৃগ্ধ বিকল্প, শিশু খাদ্য, বািণজ্যিকভাবে প্রস্তুতকৃত শিশুর বাড়তি খাদ্য ও উহা ব্যবহারে সরঞ্জামাদি (বিপনন নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ ও ইহার বিধিমালা, ২০১৭ বাস্তবায়ন” দিনব্যাপী কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

তিনি বলেন, সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার পর খুব দ্রুত শাল দুধ খাওয়ালে মায়ের রক্তক্ষরণ কম হয় ও গর্ভফুল পড়তে সাহায্য করে। ফলে মা রক্তস্বল্পতা থেকে রক্ষা পায়। জন্মের পর থেকে  শিশুকে সম্পূর্ণ সুস্থ রাখতে হলে প্রথম ৬ মাস বুকের দুধ ছাড়া কিছুই দেয়া যাবে না। এর পর দুই বছর পর্যন্ত বুকের দুধ খাওয়ানোর পাশাপাশি ঘরে তৈরী শিশুর উপযোগী  তরল সুষম ও পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার দিতে হবে। তাহলে শারীরিক-মানসিক বিকাশ সাধনসহ শিশুটি বুদ্ধিমান হবে। কিন্তু মায়ের দুধের বিকল্প হিসেবে যে সব গুড়ো দুধ বাজারে বিক্রি হয় সেগুলো শিশু স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর।  বুকের দুধের পরির্বতে এগুলো  খাওয়ালে শিশুরা অপুষ্টিতে ভূগে ও বিভিন্ন জঠিল রোগে আক্রান্ত হয়। দেশী-বিদেশী এক  শ্রেণীর অসাধু কোম্পানী হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে শিশুদের জন্য মায়ের দুধের পরির্বতে গুড়োঁ দুধের প্রচার প্রচারণা চালায়। তারা এক শ্রেণির ডাক্তারদের সাথে মাসিক চুিক্ততে শিশুদের জন্য মায়ের বিকল্প হিসেবে ব্যবস্থাপত্রে গুড়োঁ দুধ লেখানোর জন্য বাধ্য করে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, হাসপাতাল ও কিনিক্লগুলোতে গুড়ো দুধের প্রচারণা বন্ধে ডাক্তারসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। মা ও শিশুকে সুস্থ রাখতে হলে গুড়োঁ দুধ বর্জন করতে হবে। সন্তান প্রসবের পর কোন মা মারা গেলে শুধুমাত্র ঐ শিশুর জন্য বুকের দুধের পরিবর্তে রেজিষ্ট্রার্ড শিশু চিকিৎসকেরা তাদের ব্যবস্থাপত্রে কারণ উল্লেখ করে বিকল্প হিসেবে ভালোমানের গুড়ো দুধ দিতে পারবে। মায়ের  দুধের  বিকল্প হিসেবে কোন কোম্পানী তাদের উৎপাদিত গুড়ো দুধের প্রচার-প্রচারণা চালালে তাদেরকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনা হবে। মাতৃদুগ্ধের বিকল্প গুড়োঁ দুধের বিরুদ্ধে  প্রত্যেককে সচেতন হতে হবে। তাদেরকে হাসপাতাল ও ডাক্তারের চেম্বার বা ক্লিনিক থেকে বয়কট করতে হবে। 

বিভাগীয় উপ-পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. মোঃ আবদুস সালামের সভাপতিত্বে অনুষ্টিত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক ও তত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার নাথ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. প্রনব কুমার চৌধুরী ও বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ) কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোঃ শফিকুল ইসলাম। মাল্টিমিডিয়িার মাধ্যমে  মাতৃদৃগ্ধ বিকল্প, শিশু খাদ্য, বাণিজ্যিকভাবে প্রস্তুতকৃত শিশুর বাড়তি খাদ্য ও উহা ব্যবহারে সরঞ্জামাদি (বিপনন নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ ও ইহার বিধিমালা, ২০১৭ বাস্তবায়ন বিষয়ে বিস্তারিত উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ডা. মোঃ আবদুল আলিম। কর্মশালায় উপস্থিত বিশেষ অতিথিরাএই আইনটি বাস্তবায়নে সর্বত্র প্রচার-প্রচারনা ও সচেতনতামুলক অনুষ্ঠানের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। 

কর্মশালায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিভিল সার্জন ডা. অংসুইপ্রু মার্মা (বান্দরবান), ডা. মোঃ ইদ্রিছ মিয়া (খাগড়াছড়ি), ডা.এম.এ মতিন (কক্সবাজার), ডা. মোঃ মমিনুর রহমান (নোয়াখালী), ডা. মোঃ সাখাওয়াত উল্লাহ (চাঁদপুর), ডা. মোঃ শাহ আলম (ব্রাহ্মণবাড়িয়া), ডা. মোঃ নিয়াতুজ্জামান  ফেনী), শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ঝুলন দাশ শর্মা, পুলিশের রেঞ্জ ডিআইজি অফিসের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদা বেগম, প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের সহকারী পরিচালক রাশেদা বেগম, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক ডা. খোরশেদ আলম, সংবাদ সংস্থা এনএনবি’র চট্টগ্রাম প্রধান রনজিত কুমার শীল, অতিরিক্ত পি.পি এডভোকেট স্বরুপ পাল, ড্রাগ সুপার হাসান মোহাম্মদ ইমরান, চট্টগ্রামের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. জি.এম আবু তৈয়ব আলী, কুমিল্লা জেলার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শাহাদাৎ হোসেন,  গাইনী রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. নারগীস সুলতানা,  বিভাগীয় স্বাস্থ্য তত্বাবধায়ক সুজন বড়ুয়া প্রমুখ। 

কর্মশালায় বিভাগের সিভিল সার্জন অফিসের কর্মকর্তা, বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, শিক্ষা অফিস, এনজিও কর্মী, ওষুধ প্রশাসন, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ ও  বেসরকারী ডায়াগনস্টিক সেন্টারের  প্রতিনিধিরা অংশ নেন।