Opu Hasnat

আজ ১৬ নভেম্বর শনিবার ২০১৯,

দামুড়হুদায় নদীতে বাঁধ দিয়ে চলছে অবাধে মাছ শিকার চুয়াডাঙ্গা

দামুড়হুদায় নদীতে বাঁধ দিয়ে চলছে অবাধে মাছ শিকার

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা মাথাভাঙ্গা ও ভৈরব নদীতে অবৈধ বাঁশের বাঁধ, দোয়াড়, ভেসাল জাল ইত্যাদি ব্যবহার করে আবারো শুরু হয়েছে মাছ ধরার মহাউৎসব। এতে করে যেমন নদীর নব্যতা হারাচ্ছে তেমনি বিলুপ্ত হচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ।পাশাপাশি নদীর পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। দেশীয় প্রজাতির মাছ ও নদী রক্ষায় স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন ভুক্তভুগি দেও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন। 

দামুড়হুদা উপজেলায় প্রায় ২৬ কিলোমিটার মাথাভাঙ্গা ও ৫৮ কিলোমিটার ভৈারব নদী রয়েছে।

নদীতে আড়াআড়ী বাঁধ দেওয়ার কারণে মাটির পলি এবং অন্যান্য পরিপোষক পদার্থ বিভিন্ন কাঠামোতে আটকে যাওয়ায় নদীর পানিতে মিশে ছড়িয়ে যেতে পারছে না। ফলে পলি জমে নব্যতা হারায় তেমনি স্রোত বৃদ্ধি পেয়ে নদীর পাড় ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়। অপর দিকে কিছু প্রজাতির মাছ প্রজননের জন্য নির্দিষ্ট স্থান খুঁজে থাকে বাঁধ কোমড় এর কারনে তারা গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে না সেগুলো হারিয়ে যেতে বসেছে। এছাড়া ও কারেন্ট জাল ব্যবহারের ফলে ছোট চারা মাছ ধরাপড়ার কারনে বিলুপ্ত হতে বসেছে দেশীয় প্রজাতীর মাছ। 

মাথাভাঙ্গা নদীর বিষ্ণপুর ব্রীজ,কেশবপুর,বাস্তপুর, রঘুনাথপুর, আমডাঙ্গা গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া মাথাভাঙ্গা নদীতে এসব এলাকায় বাঁধ, কোমড়, ভ্যাসাল (মাছ শিকারের স্থানীয় পদ্ধতি) দিয়ে অবৈধ ভাবে শিকার করা হচ্ছে মাছ। একই চিত্র দামুড়হুদা উপজেলার ভৈরব নদীতে। 

দামুড়হুদা উপজেলা মৎস অফিসার সেলিম রেজা বলেন, গুটি কয়েক অসাধু মৎসজীবি গোপনে চুরি করে নদীতে বাঁধ ও কোমড় দিচ্ছে আমরা এদের তালিকা তৈরী করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট দেওয়া হয়েছে খুব দ্রুত এসর উচ্ছেদ করাসহ ভুক্তভূগি দের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস.এম মুনিম লিংকন বলেন, নদীতে অবৈধ ভাবে বাঁধ ও কোমড় ঘেরার কারনে নদীর যেমন নব্যতা হারাচ্ছে তেমনি ভাবে দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হচ্ছে। নদী রক্ষার্থে আমাদের সকলের সচেতন হওয়া দরকার। তবে খুব দ্রুত এসব অপসরণসহ এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।  

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ জুন চুয়াডাঙ্গা জেলার নদ-নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে ও বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির দেশি মাছ সংরক্ষণে ঐ সময়কার চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাস দামুড়হুদা উপজেলার বিষ্ণপুর ব্রীজের নিকট থেকে কেশবপুরসহ উপজেলার সকল নদীর বাঁধ (গাছের ডাল ও কচুরিপানা দিয়ে তৈরি মাছের ক্ষেত্র) ও কচুরিপানা অপসারণ কাজের উদ্বোধন করেন। দামুড়হুদা উপজেলার মাথাভাঙ্গা নদীর সকল কোমড় ও বাঁধ অপসরণ করে পরিস্কার করে ফেলা হয়। এর চাঁর মাস না পেরুতেই আবার শুরু করেছে নদীতে বাঁধ, কোমড় দেওয়ার কাজ। ইতোমধ্যে দামুড়হুদার বিষ্ণপুর ব্রীজের নিকট থেকে দর্শনা গলায়দড়ী ঘাট পর্যন্ত প্রায় ১০/১৫টি বাঁধ ও কোমড় ঘেরা হয়েছে। সেই সাথে চলছে কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ শিকারের কাজ।