Opu Hasnat

আজ ১৭ নভেম্বর রবিবার ২০১৯,

পদ্মা সেতুর ১৫তম স্প্যান স্থপান, দৃশ্যমান ২২৫০ মিটার মুন্সিগঞ্জ

পদ্মা সেতুর ১৫তম স্প্যান স্থপান,  দৃশ্যমান ২২৫০ মিটার

শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তের ২৩ ও ২৪ নম্বর খুঁটির ওপর পদ্মা সেতুর ১৫তম স্প্যান ‘৪-ই’ বসানো হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে জাজিরা প্রান্তে সেতুর ২৩ ও ২৪ নম্বর খুঁটির উপর স্প্যানটি স্থাপনের মাধ্যমে সেতুর মূল অবকাঠামো দৃশ্যমান হলো ২ হাজার ২৫০ মিটার (২.২৫ কিলোমিটার)। এক সপ্তাহ আগে এ স্প্যানটি বসানোর তারিখ নির্ধারণ থাকলেও নাব্য সঙ্কটের কারনে বিলম্বিত হয়। অবশেষে মঙ্গলবার স্প্যানটি বসানো সম্ভব হয়েছে।

পদ্মাসেতুর প্রকৌশল সূত্রে জানা যায়, দুই খুঁটির মধ্যবর্তী সুবিধাজনক স্থানে ভাসমান ক্রেনটিকে নোঙর করা হয়। এরপর পজিশনিং করে ইঞ্চি ইঞ্চি মেপে স্প্যানটিকে তোলা হয় খুঁটির উচ্চতায়। রাখা হয় দুই খুঁটির বেয়ারিং এর উপর। স্প্যান বসানোর জন্য উপযোগী সময় এবং সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় প্রকৌশলীরা স্প্যানটি বসাতে সক্ষম হন। 

সূত্রে আরো জানা যায়, বর্ষা মৌসুম ও নাব্যতা সংকটের কারণে ৩ মাসের বেশি সময় ধরে পদ্মা সেতুতে কোনো স্প্যান বসানো সম্ভব হয়নি। ড্রেজিং করেও অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা যাচ্ছিল না। কয়েকদিন আগে স্প্যান বসানোর কার্যক্রম শুরু হলেও নাব্যতা সংকট বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ড্রেজিং করে পলি অপসারণ করেও অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হচ্ছিল না। অবশেষে নানা বাধা বিপত্তি পেরিয়ে স্প্যানটি বসানো সম্ভব হয়। ১৪ তম স্প্যান বসানোর তিন মাস ২৩ দিনের মাথায় স্থায়ীভাবে বসলো ১৫ তম স্প্যান।

এর আগে সোমবার (১৪ অক্টোবর) সকালে জাজিরা প্রান্তের চর এলাকা থেকে ‘৪-ই’ স্প্যানকে ভাসমান ক্রেনের মাধ্যমে ২৮ ও ২৯ নম্বর খুঁটির সামনে নোঙর করে রাখা হয়।

পদ্মা সেতুর প্রকৌশল সূত্রে জানা যায়, ড্রেজিং করেও স্বাভাবিক অবস্থানে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে না। পলি অপসারণ করার ১ থেকে ২ ঘণ্টা পরেই আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসছে নদীর তলদেশ। ধূসর রংয়ের ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ও ৩ হাজার ১৪০ টন ওজনের স্প্যানটিকে ৩ হাজার ৬০০ টন ধারণ ক্ষমতার ‘তিয়ান ই’ ক্রেন বহন করে আনতে নাব্যতা সংকট বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

প্রকৌশলীরা জানায়, ইতোমধ্যে পদ্মাসেতুর আরও ৩টি স্প্যান প্রস্তুত হয়ে আছে। নাব্যতা সংকটের কারণে স্প্যানগুলো বসাতে দেরি হচ্ছে। সেতুর ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৩ নম্বর খুঁটির ওপর চারটি স্প্যান বসানোর পরিকল্পনা আছে চলতি বছরের মধ্যে। সর্বশেষ ২৯ জুন মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে ১৫ ও ১৬ নম্বর পিলারের ওপর বসে ৩ সি নম্বরের চতুর্দশ স্প্যানটি বসানো হয় । 

৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এ সেতুর কাঠামো।