Opu Hasnat

আজ ১২ নভেম্বর মঙ্গলবার ২০১৯,

কারা ডিআইজি বজলুর রশীদ গ্রেপ্তার আইন ও আদালত

কারা ডিআইজি বজলুর রশীদ গ্রেপ্তার

কারা সদর দপ্তরের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) বজলুর রশীদকে গ্রেপ্তার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোয়া তিন কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে রোববার বেলা তিনটায় দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে গ্রেপ্তার করে দুদক টিম।

গ্রেপ্তারের আগে তার বিরুদ্ধে কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ দুদকের উপপরিচালক মো. সালাহউদ্দিন বাদী হয়ে এ বিষয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।

গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে দুদক সচিব দিলোয়ার বখত বলেন, ‘ঘুষ লেনদের অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া ফ্ল্যাটের বিষয়ে রূপায়ন হাউজিং থেকেও সত্যতা পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদে এর উৎসের যথাযথ ব্যাখ্যা দিতে পারেননি তিনি। তাই দুদক আইনে মামলা দায়ের হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘তদন্তে তার বিরুদ্ধে যদি আরো অবৈধ সম্পদের সন্ধান পাওয়া যায়, তাহলে আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের তথ্য পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এজাহারে বলা হয়, বজলুর রশীদ রূপায়ন হাউজিং স্টেট থেকে ঢাকার সিদ্ধেশ্বরী রোডের ৫৫/১ (পুরাতন) ৫৬/৫৭ (নতুন) নির্মাণাধীন স্বপ্ন নিলয় প্রকল্পের ২৯৮১ বর্গফুট আয়তনের অ‌্যাপার্টমেন্ট ক্রয় করেন। ইতোমধ্যে তিনি অ‌্যাপার্টমেন্টের মূল্যবাবদ তিন কোটি আট লাখ টাকা পরিশোধ করেন।

মামলায় বলা হয়, এই অ‌্যাপার্টমেন্ট ক্রয়বাবদ বজলুর রশীদ যে টাকা পরিশোধ করেছেন, এর সপক্ষে কোনো বৈধ উৎস প্রদর্শন করতে পারেননি। এমনকি তিনি অ‌্যাপার্টমেন্টের ক্রয় সংক্রান্ত কোনো তথ্য তার আয়কর নথিতে প্রদর্শন করেননি। ফলে তার এই পরিশোধিত তিন কোটি আট লাখ টাকা জ্ঞাত আয় উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ। যা তিনি অসাধু উপায়ে অর্জন করেছেন, এই অভিযোগে দুদক আইন ২৭ (১) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

২০১৮ সালের ২৪ এপ্রিল অ‌্যাপার্টমেন্ট ক্রয়ের জন্য রূপায়ন হাউজিং স্টেটের সাথে তিনি চুক্তি করেছিলেন। এরপর ২০১৮ সালের ৭ জুন পর্যন্ত ৫৪ হাজার টাকা ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের মাধ্যমে চেকে পরিশোধ করেন। আর বাকি তিন কোটি সাত লাখ ৪৬ হাজার নগদে পরিশোধ করেন।

কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ঘুষের কোটি কোটি টাকা লেনদেন ও অবৈধ সম্পদের রহস্য উন্মোচনে বজলুর রশীদ ও তার স্ত্রী রাজ্জাকুন নাহারকে রোববার সকাল থেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক।