Opu Hasnat

আজ ১২ নভেম্বর মঙ্গলবার ২০১৯,

পরকীয়ার জেরে চট্টগ্রামে কন্যা ও স্বামীকে হত্যা চট্টগ্রাম

পরকীয়ার জেরে চট্টগ্রামে কন্যা ও স্বামীকে হত্যা

পাশের বাসার মাইন উদ্দিন নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে মায়ের অবৈধ সম্পর্ক দেখে ফেলে শিশু কন্যা ফাতেমা খাতুন (৪)। বাবা বাসায় এলে এ সম্পর্কের কথা বলে দেবে বললে ঐ শিশুকে হত্যা করে মা হাছিনা বেগম। পরে মাইন উদ্দিন ও হাছিনা বেগম মিলে স্বামী আবু তাহেরকেও হত্যা করে। রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার আমেনা বেগম। এর আগে গত শনিবার নগরীর বন্দর থানাধীন নিমতলা এলাকায় স্থানীয় বুচুইক্যা কলোনির একটি বাসা থেকে বাবা-মেয়ের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

আমেনা বেগম বলেন, এ ঘটনার পর পালিয়ে থাকা মাইন উদ্দিনকে নোয়াখালী থেকে গ্রেফতার করা হয়। যার সঙ্গে নিহত আবু তাহেরের স্ত্রী হাছিনার পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। শনিবার সকালে আবু তাহের কাজে বের হলে তার স্ত্রী হাছিনা অবৈধ সম্পর্কে জড়ায় মাইন উদ্দিনের সঙ্গে। এ ঘটনা শিশু কন্যা দেখে ফেললে মাইন উদ্দিন ওই শিশুকে হাত-পা চেপে ধরে, আর হাছিনা গলায় ছুরি বসিয়ে নিজ কন্যাকে হত্যা করে।

পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে হাছিনা বেগম জানিয়েছেন, শনিবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে তার প্রেমিক মাইন উদ্দিনকে সাথে নিয়ে স্বামী আবু তাহের এবং কন্যা বিবি ফাতেমাকে হত্যা করেছেন তিনি। প্রথম ৪ বছর বয়সী শিশুকন্যাকে হাত-পা ধরে রাখে প্রেমিক মাইন উদ্দিন। তারপর কন্যার গলায় এবং পেটে ছুরি চালিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করেন তিনি। এরপর স্বামী আবু তাহের বাসায়  প্রবেশ করলে প্রথমে দুজন মিলে তাকে ঝাপটে ধরে গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করেন। এরপর এক পর্যায়ে গলায় ও পেটে ছুরিকাঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন দুজন। ঘটনার পর মাইন উদ্দিন পালিয়ে নোয়াখালী চলে যায়। পরে পুলিশ হাছিনার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে নোয়াখালীর সুবর্নচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাইন উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। 

এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহত আবু তাহেরের বড় ভাই মো. নুর আলম বাদি হয়ে বন্দর থানায় হত্যা মামলা করেন। আবু তাহের নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ থানাধীন চরঘাটা গ্রামের মৃত মো. মোস্তফার পুত্র।