Opu Hasnat

আজ ১২ নভেম্বর মঙ্গলবার ২০১৯,

মুন্সীগঞ্জ এখন ফেনসিডিল-ইয়াবার হাট মুন্সিগঞ্জ

মুন্সীগঞ্জ এখন ফেনসিডিল-ইয়াবার হাট

নদীবেষ্টিত জেলা মুন্সীগঞ্জ ফেনসিডিল-ইয়াবার মতো মরণ নেশার হাটে পরিনত হয়েছে। ডিবি পুলিশ ও সদর থানার পুলিশ প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এখন মাদক ব্যবসায়ীরা বেপোরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, পুলিশ-প্রশাসন ও স্থানীয় প্রভাবশালী মূল গডফাদাররা অর্থদিয়ে মাদকদ্রব্য কিনে এনে সাধারণ অভাবি শ্রেনীর বখাটে ছেলে-বৃদ্ধদের ও কম বয়সী মেয়েদের দিয়ে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে বেড়াচ্ছে। আর মূল গডফাদাররা থেকে যাচ্ছে ধরা-ছোয়ার বাইরে। 

এই জেলার অধিকাংশ এলাকা এখন ফেনসিডিলসহ যৌন উত্তেজক নেশার ট্যাবলেট ইয়াবার ছোবলে চরমভাবে আক্রান্ত। স্কুল পড়ুয়া শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্করাও এই নেশার জালে জড়িয়ে গেছে। নেশার কথিত রঙিন উন্মাদনায় কঠিন বিপর্যয়ের সম্মুখীন যুবসমাজ। এমন এক অবস্থায় চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় সময় পার করছেন অভিভাবকসহ সচেতন মানুষেরা।

সম্প্রতি সরেজমিনে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার শহর-শহরতলির বিভিন্ন এলাকার একাধিক মাদকের স্পট ঘুরে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়। 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মুন্সীগঞ্জ শহরের কোটঁগাও, কলেজপট্টি, নতুনগাঁও, নয়াগাঁও, গনকপাড়া, নয়াগাঁও পূর্বপাড়া, বাগমামুদালী পাড়া, উত্তর ইসলামপুর, খালইষ্ট, দক্ষিন ইসলামপুর, মুন্সীরহাট, সিপাহিপাড়া, হাতিমাড়া, চর-মুক্তারপুরসহ প্রায় এলাকায় বর্তমানে ইয়াবা ও ফেনসিডিলের ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ডিবি পুলিশ ও থানা-পুলিশের নামে মাত্র কঠোর অভিযান না থাকার কারনে মাদক বিক্রেতার গড-ফাদারসহ কুচরা বিক্রেতারা এখন প্রকাশ্য দিবালোকে ফেন্সিডিল ও ইয়াবা প্রকাশ্যে দিবালোকে বিক্রি করে বেড়াচ্ছে। 

এ সুযোগে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে মাদক কারবারিরা। এ জেলায় বাবা আরিফ, শাহজালাল, মকবুলসহ শীর্ষ পর্যায়ের ১০ জনের বেশি মাদক কারবারি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হলেও দ্বিতীয় সারির মাদক ব্যবসায়ীরা এখন সরগরম করে তুলেছে ইয়াবা-ফেনসিডিলের ব্যবসা। 

আইনশৃঙ্খলা বাহীনির গোয়েন্দা সংস্থার একাধীক কর্মকর্তারা এসব ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন।

মুন্সীগঞ্জের বেশিরভাগ উপার্জনক্ষম পুরুষরা বিদেশে এবং ব্যবসা করে থাকেন। ফলে শক্ত অভিভাবক না থাকায় ওইসব পরিবারের সন্তানরা বেপরোয়া চলাফেরা করে এসব মরননেশায় অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। যার ফলে একপর্যায়ে তারা মাদকসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পরেছে।

অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, মুন্সীগঞ্জে এমন অনেকটি মাদক স্পটের সন্ধান পাওয়া যায়, যেখানে নিয়মিতভাবে প্রকাশ্যেই ইয়াবাসহ নানা মাদক কেনাবেচা হয়। মুন্সীগঞ্জ সদর থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্য প্রতিদিন এখানে এসে মাদক বিক্রেতাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে চলে যায় বলেও অভিযোগ রয়েছে। মুন্সীগঞ্জ শহরের মানিকপুর, গনকপাড়াসহ নতুনগাঁওয়ে গত কয়েকদিন বিকাল গড়িয়ে সন্ধার পরে গিয়ে দেখা যায়, ছোট-বড় দালানবাড়ি, অটো-রিকশার গ্যারেজ ও বিদেশ লোক পাঠানো দালাল ও মাদক সেবি-বিক্রেতাদের সাথে সদর থানার পুলিশ সদস্যরা খোস-গল্পে মজে থেকে এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি করে বেড়াচ্ছে। তাদের আসে পাশেই অবস্থান করছিল ১০ থেকে ১২ জন মাদক বিক্রেতা তরুণরা। হাতে তাদের ইয়াবা ও ফেনসিডিল। একটু পর পর সেখানে আনাগোনা বাড়ছিল। আবার মোটরসাইকেল বা হেঁটে অনেককে সেখানে যাওয়া-আসা করতে দেখা যায়। কেউ ঝোপের আড়ালে কেউবা প্রকাশ্যেই সেখানে মাদকের পসরা বসিয়েছিল। শহরের গনকপাড়া এখন যেন মাদকের হাট। 

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে ওই মাদক বিক্রেতা বলেন, ‘নতুনগাঁও এই শহরের সবচেয়ে বেশি পরিচিত মাদকের স্পট থাকলেও পুলিশি তৎপরতায় অনেকে এখন গাঁ ঢাকা দিয়েছে এবং মাদক বিক্রি ছেড়ে অন্যান্য ব্যবসা বানিজ্য নিয়ে ও দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন বলে জানা গেছে। বর্তমানে এ এলাকায় পুলিশের অভিযান তৎপরতায় মাদকবিক্রি অনেকটাই বন্ধ হয়ে গেছে। তবে উল্লেখিত নামের মাদক ব্যবসায়ীরা এই এলাকা ছেড়ে এখন ছড়িয়ে পরেছে আসে-পাশের এলাকায় দিব্বি মাদক বিক্রি করে বেড়াচ্ছে। এইখানে তবে বর্তমানে ভিন্ন কৌশলে যেমন- সিলেট থেকে পাথরের গাড়ির ভিতরে সু-কৌশলে বড়-বড় চালান মুন্সীগঞ্জে প্রবেশ করিয়ে বাবা (ইয়াবা) ও ফেনু (ফেনসিডিল) কেনাবেচা বেশি হচ্ছে। বাবা কেনাবেচা সহজ ও নিরাপদ হওয়ায় এইডা বেশি চলে। ফেনুর (ফেনসিডিল) দাম বেশি, এক বোতল বিক্রি হয় পনেরো থেকে দুই হাজার টাকায়। 

গোয়েন্দা সংস্থার দেয়া অনুসন্ধানি তথ্যানুসারে আরো জানা গেছে, মুন্সীগঞ্জে বর্তমানে শীর্ষ পর্যায়ের মাদক কারবারিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো শহরের মানিকপুরের শহিদ, হোসেন মিজি, শফি, হাসান, রুহুল আমিন, স্বপন, জনি, রনি, আসলাম, সেন্টু, মুক্তার, কালো দুলাল, খালইস্টের ইকবাল, কোটগাওয়ের রুহুল আমিন, উত্তর ইসলামপুরের রাতুল, উত্তর ইসলামপুরের রাসেল, নতুনগাঁও পূর্বপাড়ার জনি (বর্তমানে জেলে), পঞ্চসারের দূর্গাবাড়ির মাসুম, গনকপাড়াঁর হারুন ও ইকবাল, ফরাজীবাড়ি ঘাটের রহমান, উত্তর ইসলামপুরের রাসেল, পঞ্চসার এলাকার মো. রাসেল, পাঁচঘড়িয়াকান্দির আল-আমিন (সম্প্রতি র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার), সিপাহি পাড়ার মো. লিংকনসহ আরও অনেকেই মরণ নেশা ইয়াবা ও ফেনসিডিলসহ নানা মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। উত্তর ইসলামপুরের খোকন বর্তমানে ঢাকায় আছে বলে জানা গেছে।

জানা যায়, গনকপাড়ায় চিহ্নিত মাদক স্পটে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার একাধিক পুলিশ সদস্য পালাক্রমে গিয়ে মাদক কারবারিদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে থাকেন।

মুন্সীগঞ্জের হরগঙ্গা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আব্দুল হাই তালুকদার বলেন, আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি মাদকমুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তথা সমাজ গঠনে। এ লক্ষ্যে নিয়মিত মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক সভা-সেমিনার করা হচ্ছে। স্থানীয় পুলিশ এনজিওসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এখানে আসছে মাদকবিরোধী প্রচারণায়, আমরা সে সুযোগ করে দিচ্ছি। তিনি বলেন এ ব্যাপারে যার যার অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সবার সচেতন হতে হবে।

জেলার সচেতন মহল জানান, নদীপথেই মুন্সীগঞ্জে সবচেয়ে বেশি ইয়াবাসহ মাদকের চালান আসছে। মেঘনা ও ধলেশ্বরী নদী এই শহরের মাঝ দিয়ে গেছে। ফলে অনেক চালানই সহজে নৌরুট ব্যবহার করে মুন্সীগঞ্জে ঢুকতে পারছে। বিশেষ করে চরঝাপটা এলাকা, চরকিশোরগঞ্জ, ইসলামপুর, গজারিয়াঘাট, শাহ সিমেন্টের বিপরিতের ধলেশ্বরী নদী-ঘেষা শহরের উপকন্ঠ নয়াঁগাও সহ নদীতীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় মাদকের রুট ও কারবার সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে শিমুলিয়াঘাট-মাওয়া রুটেও ব্যাপক মাদকের চালান আসছে বলেও শোনা যায়। এখানে পুলিশসহ অন্যরা যানবাহন নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও মাদকের ব্যাপারে সেখানে নজরদারি একেবারেই কম।

অভিযোগ রয়েছে এসব মাদক নারায়ণঞ্জ থেকে মুন্সীগঞ্জের চর-মুক্তারপুরের মুক্তারপুর সেতুর বিভিন্ন শিল্প-কারখানায় পুলিশ-প্রশাসনের সহযোগিতায় স্থানীয় মাদক বিক্রেতাদের কাছে এসে হস্তান্তর করা হয়। 

ঐতিহ্যবাহী সর্ববৃহত বেচা-কেনার প্রধান হাট-যাকে আমরা মুন্সীরহাট বলে জানি। সেই মুন্সীরহাটে যতটা না বেচাঁ-কেনা হবার কথা ছিল একটি পরিবারের নিত্য প্রয়োজনিয় তৈজষপত্র-রান্না করার জন্য মাছ-মাংস ও সবজিসহ প্রয়োজনীয় উপাদান। 

সেখানে মুন্সীগঞ্জ জেলার প্রতিটি পরিবারের যুবক-যুবতিসহ স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের নেশার ও অস্ত্র কেনার প্রধান স্পট হিসেবে সেই বেঁছে নিয়েছে ঐ মুন্সীরহাটসহ আসে পাশের গ্রামগুলোকে। 

মুন্সীগঞ্জ হরগঙ্গা কলেজের এক প্রভাষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ভাবতেই হাসি পায় যে, মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচনি প্রচারনার জন্য স্থানীয় ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকসহ জনসাধারণকে অঙ্গীকার করেছিলেন নির্বাচিত হলে সবার আগে সম্পুর্ন পৌরসভাকে মাদকমুক্ত করবো। 

অথচ নির্বাচন গেছে প্রায় ৪ বছর। কিন্তু মাদকমুক্ত তো দুরের কথা যেদিন থেকে চেয়ারে বসে তারা পৌরসভার দ্বায়ীত্বভার গ্রহন করেছেন সেদিনের পর থেকে যারা পুলিশ-প্রশাসনের ভয়ে মাদক বেচা-কেনা ছেড়ে দিয়েছিল সেদিন থেকে যেন সেই মাদক বিক্রেতারা নতুন করে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি করে বেড়াচ্ছেন। 

যার সরেজমিন প্রমান মুন্সীগঞ্জের ঐতিহ্যবাহি মুন্সীরহাট, গুহেতকান্দি, চরাঞ্চলের চরডুমুরিয়া, মোল্লাকান্দি, বাংলাবাজার, শিলইসহ শহর-শহরতলির প্রত্যন্ত অঞ্চল এখন মাদকের আখরায় পরিনত হয়েছে।

চমকপ্রদ খবর এই যে, বর্তমানে মুন্সীগঞ্জে এসব মাদক পাওয়া না গেলে এক ঘন্টার রাস্তা নারায়ণগঞ্জ থেকে বোড়খা পরিহিত অবস্থায় ছোট ছোট মেয়ে ও মহিলাদের দিয়ে অর্ডার করে নিয়ে আসা হয় স্থল ও নৌ-পথে। 

শহরের উপকন্ঠ চর-মুক্তারপুর এর নৌ-পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জের নেতৃত্বে পুলিশকে টাকার বেনিময়ে ম্যানেজ করে স্থানীয় মাদক বিক্রেতার সিন্ডিকেট নৌ-পথে অবৈধ আগ্নেআস্ত্র¿ ও মাদক নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা জেলা থেকে এনে গোটা মুন্সীগঞ্জের শহর-শহরতলিতে পাচার করে বেরাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 

এ প্রসঙ্গে শহরের উপকন্ঠ চর-মুক্তারপুর এর নৌ-পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ তার বিরুদ্ধে আনিত এসব অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ সম্পুর্ন মিথ্যা-বানোয়াট-উদ্দেশ্য প্রনোদিত।

সরেজমিনে  মুন্সীগঞ্জের চর-মুক্তারপুর পুলিশ ফাড়ি এলাকায় গিয়ে জানা গেছে গত প্রায় ৬ মাস বছর যাবত তিনি ইনচার্জ নিয়োগ দিলেও গত এক বছরেও কোন মাদক স¤্রাট বা মাদকদ্রব্য বিক্রেতাকে আটক করতে পারে নাই।

পুলিশ প্রশাসন মাদক-অস্ত্র বিক্রেতাদের সাথে সখ্যতা দেখে এসব কর্মকান্ড যেনেও যেনো কিছুই দেখেনি আর কারন পুলিশ প্রশাসনের উর্দ্ধতন কতৃপক্ষই যানেন-বলে জানান চর-মুক্তারপুরের ওই পুলিশ ফাড়িঁর ইনচার্জ? 

এলাকাবাসী জানান, পুলিশ-প্রশাসন ও স্থানীয় প্রভাবশালী মূল গডফাদাররা অর্থদিয়ে মাদক-অস্ত্র কিনিয়ে এনে সাধারণ অভাবি শ্রেনীর বখাটে ছেলে-বৃদ্ধদের ও কম বয়সী মেয়েদের দিয়ে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে বেড়াচ্ছে। আর মূল গডফাদাররা থেকে যাচ্ছে ধরা-ছোয়ার বাইরে। 

কিন্তু দিনে তো মাদক-অস্ত্র বেচা কেনা তো চলেই। আর সন্ধার পর দেখা যায় ভিন্য মাদক সহ নগ্ন-রুপ। 

জানা গেছে, মুন্সীগঞ্জে জরিপ করে দেখা গেছে জেলায় ১২ বছর বয়স থেকে বিয়ের পর পর্যন্ত শতকরা ২০ ভাগ স্কুল-কলেজে পরুয়া মেয়েরা ইয়াবা, ফেন্সিডিল, নেশা জাতীয় ট্যাবলেট সেবন করে মাদকআসক্ত হয়ে সমাজে অসামাজিক কাজে লিপ্ত হয়ে পরছে। এতে পরিবারের অভিভবকরা মেয়েদের বাধ্য হয়েই নাকি বাল্য-বিবাহ দিতে বাধ্য হচ্ছেন বলে জেলার একাধীক অভিভাবকরা জানান।

আর বাকি ৮০ ভাগ স্কুল-কলেজে ছাত্ররা পরুয়া ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার যুবকরা ফেন্সিডিল, ইয়াবা, পেথিডিন ও নেশা জাতীয় ট্যাবলেট সেবন করা নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। এতে করে ছেলেরা সন্ত্রাসী কর্মকান্ডসহ চুরি ছিনতাই রাহাজানি এমনকি মানুষ খুনের মতো ঘটনা ঘটাচ্ছে। এটা এখন তাদের কাছে অস্বাভাবিক বলে কিছুই নয় বলে জেলার বিভিন্ন অভিভাবকরা অকপটে স্বীকার করেছেন।

মুন্সীগঞ্জ-১ (মুন্সীগঞ্জ সদর-গজারিয়া) আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মৃনাল কান্তি দাস বলেন, জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে কাজ করে চলেছেন। উন্নয়নের মাধ্যমে বদলে দিয়েছেন বাংলাদেশের রূপ। সেই উন্নত করার জন্য বড় প্রয়োজন নতুন প্রজন্ম। আগামী প্রজন্ম যদি মাদকের ছোবলে ধ্বংস হয়ে যায়, তাহলে দেশের তাহলে এ দেশ পিছিয়ে পরবে। মাদক থেকে নতুন প্রজন্মকে রক্ষার্থে, সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। এলাকার জনপ্রতিনিধি বা নেতারা যদি এগিয়ে আসে তাহলে কোনোভাবেই মাদক বিস্তার লাভ করতে পারবে না। এ ব্যাপারে সবাইকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। আসুন মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত রাখি, সুন্দর সমাজ গড়ি।

মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার বলেন, মাদকের তৎপরতা এখনোও রয়েছে। এ কারণে মাদকবিরোধী অভিযান, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাসহ সচেতনতামূলক নানা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এমনকি মাদকমুক্ত মুন্সীগঞ্জ গড়ার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট বাহিনী বা সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে জেলায় টাস্কফোর্স গঠনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, মুন্সীগঞ্জ নদীবেষ্টিত জেলা হওয়ায় নৌরুট দিয়ে মাদকের চালান আসছে বলে খবর শোনা যায়। এ কারণে ইতোমধ্যেই কোস্ট টহলরত পুলিশ ও কোষ্টগার্ডকেও সজাগ থাকতে বলা হয়েছে। যেকোনো মূল্যে মাদক প্রতিরোধ হবে। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে। এতে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না।

মুন্সীগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মুন্সীগঞ্জে বর্তমানে মাদকই প্রধান সমস্যা হিসেবে রয়েছে। এটি এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। তবে বিগত দুই থেকে তিন বছরে বেশ কিছু শীর্ষ পর্যায়ের মাদক ব্যবসায়ী ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হওয়ার পর মাদক তৎপরতা অনেকাংশে কমে গেছে। তবে সেটি থেমে নেই। তিনি জানান, মুন্সীগঞ্জে প্রচলিত মাদকের মধ্যে প্রায় ৯৫ শতাংশই ইয়াবা। এরপর ফেনসিডিলসহ অন্যান্য মাদকের প্রচলনতো রয়েছেই। এ বিষয়ে জেলা পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে।

এ প্রসঙ্গে মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ জায়েদুল আলম মাদকের বিরুদ্ধে মুন্সীগঞ্জ পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। এরই মধ্যে পুলিশের কঠোর অভিযানের ফলে মুন্সীগঞ্জে মাদক ব্যবসা অনেকাংশে কমে আসছে। নিয়মিতভাবে অভিযান চালিয়ে মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। মাদকের প্রশ্নে কাউকেই কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

মাদক-অস্ত্র বিক্রেতাদের কোন প্রকার ছাড় দেবার প্রশ্নই আসে না। এতে যদি কোন পুলিশ সদস্য জড়িত থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা করা হবে।