Opu Hasnat

আজ ১২ নভেম্বর মঙ্গলবার ২০১৯,

বরাদ্দ কম ও জনবল সংকট-

মুন্সীগঞ্জে মা ইলিশ নিধনের বিরুদ্ধে অভিযান ব্যাহত মুন্সিগঞ্জ

মুন্সীগঞ্জে মা ইলিশ নিধনের বিরুদ্ধে অভিযান ব্যাহত

অভিযান পরিচালনার জন্য বরাদ্দ কম ও মৎস্য অফিসে জনবল সংকট থাকার কারণে মুন্সীগঞ্জ জেলায় মা ইলিশ নিধনের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত অভিযান চালানো যাচ্ছে না বলে দাবি করেছেন জেলা মৎস্য অফিসের কর্মকর্তারা।

এদিকে, প্রজনন মৌসুমে অন্য সময়ের তুলনায় অনেক বেশি মাছ পাওয়া যায় বলে শত বাঁধা পেরিয়েও জেলেরা মাছ শিকারে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এ সময় পেশাদার জেলেদের পাশাপাশি মৌসুমি জেলের সংখ্যাও অনেক বেড়ে গেছে। এই বিপুল সংখ্যক জেলেদের কম বরাদ্দ ও  জনবল সংকট থাকার কারণে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না বলে জানান মৎস্য অফিসের কর্মকর্তারা।

গুরুত্বপূর্ণ ইলিশ প্রজনন অঞ্চল হিসেবে বিশেষ পরিচিত মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলা। এই উপজেলায় এবার অভিযানের জন্য বরাদ্দ এসেছে মাত্র ৫০ হাজার টাকা। মৎস্য কর্মকর্তাদের দাবি, একটি সফল অভিযান পরিচালনার জন্য ১০-১২ হাজার টাকার প্রয়োজন পড়ে। এছাড়া ইলিশ প্রজনন মৌসুম শুরুর আগে প্রচার-প্রচারণা ও সচেতনামূলক কার্যক্রমেও দেওয়া হয় না কোন বরাদ্দ।

ইলিশের প্রধান প্রজনন সময় ৯ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর। এই ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ শিকার, আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ, বেচা-কেনা ও বিনিময় নিষিদ্ধ করেছে সরকার। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় প্রতিবছরের মতো এবারও ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমান বলেন অভিযান পরিচালনার জন্য মুন্সীগঞ্জ মৎস্য অফিস, সদর উপজেলা মৎস্য অফিস ও লৌহজং উপজেলা মৎস্য অফিসের প্রতিটিতে ৫০ হাজার টাকা, গজারিয়া উপজেলা মৎস্য অফিসের জন্য ৪০ হাজার টাকা, টংগিবাড়ী উপজেলা মৎস্য অফিসের জন্য ৩৫ হাজার টাকা, শ্রীনগর উপজেলা মৎস্য অফিসের জন্য ৩০ হাজার টাকা, সিরাজদিখান উপজেলা মৎস্য অফিসের জন্য ২০ হাজার টাকা এবং জেলা প্রশাসককে ৭০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মোট তিন লাখ ৪৫ হাজার টাকা বরাদ্দ এসেছে। অন্যদিকে, শুধু চাঁদপুর জেলা মৎস্য অফিসের জন্য বরাদ্দ এসেছে চার লাখ টাকা।

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, অভিযান শুরুর আগে সচেতনতামূলক বিভিন্ন সভা, পোস্টার ও ব্যানারে খরচ হয়েছে প্রায় ২২ হাজার টাকা। আর অভিযান শুরুর চার দিনে বরাদ্দকৃত টাকা প্রায় শেষ হয়ে গেছে। এরপরও অভিযান চালিয়ে যেতে হবে।

লৌহজংয়ের সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ইদ্রিস তালুকদার বলেন, যে বরাদ্দ এসেছে তা প্রচার-প্রচারণায় শেষ হয়ে গেছে। পাঁচ দিন যাবৎ অভিযান পরিচালনা করে বরাদ্দের টাকা সব শেষ।

গজারিয়া মৎস্য কর্মকর্তা শেখ আসলাম হোসেন বলেন, বরাদ্দ কম ও লোকবল সংকট। তাই অভিযান পরিচালনা করতে আমাদের একটু অসুবিধা হয়। একদিকে অভিযানে বের হলে অনেক সময় খবর আসে অন্য কোথাও ইলিশ ধরা হচ্ছে বা বিক্রি হচ্ছে, তখন সেদিকে যাওয়া সম্ভব হয় না জনবলের কারণে।

মুন্সীগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমান আরো বলেন, ভালোভাবে একটি অভিযান পরিচালনা করার জন্য যথেষ্ট বরাদ্দ এবং প্রয়োজনীয় লোকবল দরকার হয় কিন্তু আমাদের এখানে যেমন বরাদ্দ কম, তেমনি লোকবলেরও সংকট। অভিযান পরিচালনার জন্য একদিনে ১০-১৫ হাজার টাকা খরচ হতে পারে। ট্রলার ভাড়া, শ্রমিক খরচ, আটককৃত জাল বহন খরচ, কেরোসিন, দশ-পনেরোজন শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। অনেক সময় জাল বহন করে নিয়ে যাওয়ার জন্য পিকআপ ভাড়া করতে হয়। বেশি পরিমাণের জাল বিনষ্ট করার জন্য কেরোসিন বেশি লাগে। যে কারণে খরচের ধরন নির্ভর করে অভিযানের ওপর। বড় ধরনের অভিযানের জন্য ২০-২২ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়। ২২ দিনের জন্য যে বরাদ্দ এসেছে তা দিয়ে অভিযান পরিচালনা মোটেও সম্ভব না। কমপক্ষে চারগুণ বেশি বরাদ্দ দেওয়া প্রয়োজন। একটি উপজেলা মৎস্য অফিসকে দুই লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলে ভালোভাবে সফলতার সঙ্গে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। অন্যদিকে, লোকবলেরও সংকট আছে। ছয় উপজেলা অফিসে পাঁচজন করে ৩০টি পদ আছে। তবে, সেখানে পদ খালি ১১টি। তাছাড়া কর্মকর্তাদের ছুটি তো আছেই। জেলা মৎস্য অফিসে ১৪টি পদের বিপরীতে কর্মকর্তা আছেন ১০ জন। তাই অভিযান চালাতে সমস্যায় পড়তে হয়।

জেলা প্রশাসক ও মা ইলিশ রক্ষায় গঠিত টাস্কফোর্সের সভাপতি মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার জানান, এই বরাদ্দ ও জনবল পর্যাপ্ত না। বাস্তবতা হচ্ছে এই বরাদ্দেই অভিযান পরিচালিত হওয়া অসম্ভব। স্থানীয়ভাবে সহযোগিতার মাধ্যমে অভিযানগুলো পরিচালিত হচ্ছে। তবে এই সমস্যার সমাধানের লক্ষে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে লিখিত ভাবে জানানো হবে।