Opu Hasnat

আজ ১৪ নভেম্বর বৃহস্পতিবার ২০১৯,

রাজবাড়ীতে ৯ মাসে ১২ জনের মৃত্যু

সড়কে নৈরাজ্য কমাতে আধুনিক তিন যন্ত্র হাতে পুলিশ রাজবাড়ী

সড়কে নৈরাজ্য কমাতে আধুনিক তিন যন্ত্র হাতে পুলিশ

রাজবাড়ীতে চলতি বছরের ৯ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে ১২ জন । আহত হয়েছে শতাধীক। প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা। স্থানীয়রা এসব দুর্ঘটনার কারন হিসেবে চিন্থিত করেছেন যানবাহনের বেপরোয়া গতি ও মাদক সেবন করে গাড়ি চালানোকে। তাই সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ও সড়কে বিশৃঙ্খলা কমাতে আধুনিক যন্ত্রপাতি নিয়ে মাঠে নেমেছে হাইওয়ে পুলিশ। 

রাজবাড়ীর আহলাদিপুর হাইওয়ে থানা পুলিশের তথ্য মতে, চলতি বছরের জানুয়ারী থেকে সেপ্টম্বর পর্যন্ত নয় মাসে হাইওয়ের অধীনের থাকা সড়কে ৮ টি দুর্ঘটনায় মোট ১২ জন মারা গেছে। আর আহত হয়েছে শতাধীক। 

আহলাদিপুর হাইওয়ে থানা পুলিশের সুত্রমতে, চলতি বছরের এ পর্র্যন্ত মহা সড়কে অবৈধ যান চলাচল, ফিটনেস না থাকা, ও চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স সংক্রান্ত জটিলতার কারনে ১১৩৯ টি মামলা প্রদান করা হয়েছে। 

সরেজমিনে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের রাজবাড়ী সদর উপজেলার নিহাজ জুট মিল এলাকায় গিয়ে দেখাযায়, সেখানে সকাল থেকে হাইওয়ে পুলিশের একটি দল আরালে লুকিয়ে স্প্রীডগান মেশিন দিয়ে দুর পাল্লার যানবাহনের গতি পরীক্ষা করছে। অতিরিক্ত গতি থাকলেই করা হচ্ছে মামলা।

পাশেই আরএফআইডি মেশিন দিয়ে গাড়ির কাজ পরীক্ষা করা হচ্ছে। এই মেশিনটি শুধু গাড়িরর নাম্বর সংযুক্ত করলেই গাড়ির সব তথ্য দেখা যাচ্ছে। এতে সময় লাগছে মাত্র দুই মিনিট। 

এছাড়াও যানবাহনের চালকেরা মাদকসেবী কিনা পরীক্ষা করা হচ্ছে এলকোহল ডিটেক্টর দিয়ে। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে জানা যাচ্ছে চালক মাদকসেবী কিনা।

এ সময় গোয়ালন্দ মোড় এলাকার বাসিন্দা নজুরুল ইসলাম জানান, রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট থেকে গোয়ালন্দ মোড়ের দুরত্ব ১৩ কিলোমিটার। ঢাকায় আসতে বা দক্ষিন অঞ্চলের জেলাগুলোতে জেতে ব্যবহার করতে হয় এই মহাসড়কটি। প্রতিদিন চলাচল করে, খুলনা, যশোর, বরিশাল,কুষ্টিয়া, গোপালগঞ্জসহ ২১ জেলার ৫ থেকে ৬ হাজার ছোট বড় যানবাহন। 

তিনি আরো জানান, গোয়ালন্দ মোড় পাড় হবার পরই ফেরির সিরিয়াল পেতে প্রতিযোগিতা করে গাড়ি চালান চালকেরা। যে কারনে প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা। হাইয়ে পুলিশের এমন অভিযান নিয়মিত থাকলে কমে যাবে সড়কের মৃত্যর মিছিল। 

মাদারীপুর জেলা থেকে ঢাকাগামি মাইক্রোবাসের যাত্রী এ্যডভোকেট হারুন অর রশিদ জানান, ডিজিটাল বাংলাদেশে ডিজিটালের ছোয়া লেগেছে প্রতিটি সেক্টরে তারই নমুনা এইসব যন্ত্রের ব্যাবহার। এমন ভালো উদ্যোগের কারনে সরকার প্রধানকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

এদিকে, দ্রুত সময়ের মধ্যে কাগজপত্র পরীক্ষায় খুশি চালকেরা। ফরিদপুর থেকে ঢাকাগামি গোল্ডেন লাইন বাসের চালক আমজাদ হোসেন মোল্লা জানান, এক সময় গাড়ির কাগজপত্র পরীক্ষা করতে সকময় লাগতো ২০ থেকে ২৫ মিনিট এখন ২ মিনিটেই হয়ে যাচ্ছে। তাছারা যেভাবে মাদক সেবী পরীক্ষা করা হচ্ছে এতে সড়ক দুর্ঘটনা কমবে। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।

রাজবাড়ী জেলার আহলাদিপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদ পারভেজ ভুইয়া জানান, সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে, সড়কে শৃঙ্খলা আনতে আমাদের তিন ধরনে যন্ত্র দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে এলকোহল ডিটেক্টর দিয়ে মাদক পরীক্ষা, আরএফআইডি মেশিন দিয়ে গাড়ির কাজ পরীক্ষা ও স্পীডগান মেশিন দিয়ে নিয়মিত গতি মাপা হচ্ছে। এতে একদিকে সময় কম লাগছে। অপর দিকে যারা আইন মানছেন না তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হচ্ছে।