Opu Hasnat

আজ ১৪ নভেম্বর বৃহস্পতিবার ২০১৯,

ধর্ষণ চেষ্টার প্রতিবাদ করায়

কোটিপতির বখাটে ছেলের হাতে জেলে দম্পতি নিগৃহীত সুনামগঞ্জ

কোটিপতির বখাটে ছেলের হাতে জেলে দম্পতি নিগৃহীত

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ধর্ষনের ঘটনার করায় এক কোটিপতির বখাটে ছেলের হাতে জেলে দম্পতিকে বেধরক মারধরের শিকার হতে হলো। শুক্রবার মধ্যরাতে উপজেলার শ্রীপুর উওর ইউনিয়নের হাওর তীরবর্তী নয়াবন্দ গ্রামে (মাদ্রাসাহাঁটি) এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্তর নাম জাকারিয়া হোসেন (২২)। সে উপজেলার নয়াবন্দ (মাদ্রাসা হাঁটি) গ্রামের কোটিপতি কয়লা ব্যবসায়ী বাবুল মিয়ার ছেলে।

শুক্রবার রাত দু’টায় ভিকটিম দম্পতি ও গ্রামের একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, উপজেলার নয়াবন্দ (মাদ্রাসা হাঁটি) গ্রামের সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের জেলে তিন সন্তানের জননী স্ত্রীকে বাড়িতে রেখে শুক্রবার রাতে হাওরে মাছ ধরতে যান। এদিকে গ্রামের প্রতিবেশী কোটিপতি কয়লা ব্যবসায়ী বাবুলের বখাটে ছেলে জাকারিয়া জেলের বসতঘরের দরজা খুলে রাত অনুমান সাড়ে ১২টার দিকে জেলের স্ত্রী তিন সন্তানের জননীকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এক পর্যায়ে জেলে স্ত্রী ঘুম থেকে জেগে উঠলে ধর্ষণের বাঁধা দিয়ে বখাটে জাকারিয়াকে চর থাপ্পর মারতে মারতে চিৎকার করতে থাকেন। চিৎকার শুনে আশে পাশের বসত বাড়ির প্রতিবেশীরা জেগে উঠে ঘটনাস্থলে পৌঁছলে জাকারিয়া কৌশলে সটকে পড়েন।

অপরদিকে, মাছ ধরা শেষে বাড়ি ফিরে প্রতিবেশী ও স্ত্রীর নিকট জাকারিয়ার ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনা জেনে  সুবিধাবঞ্চিত জেলে প্রতিবাদ করায় উল্টো বখাটে জাকারিয়া কাঠের রোল ও বাঁশ দিয়ে জেলে দম্প্রতি (স্বামী-স্ত্রী)-কে বসতঘরের দরজার সামনেই বীরদর্পে বেধরক ভাবে পিঠিয়ে আহত করে গ্রামছাড়া করার হুমকি প্রদান করে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত জাকারিয়ার বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে কল করা হলে সে প্রথমে ঘটনা অস্বীকার করলেও এক পর্যায়ে বলে আমি সিগারেট পান করার জন্য দিয়াশলাই আনতে প্রতিবেশী নারীর ঘরের ভেতর গেলে ওই নারী আমাকে চর থাপ্পর মেরে লাঞ্চিত করে।

উপজেলার শ্রীপুর উওর ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ গ্রামের বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ধর্ষণ চেষ্টার প্রতিবাদ করায় আমাদের সামনেই বখাটে জাকারিয়া অসহায় ও নিরীহ জেলৈ দম্পতিকে বসতঘরের দরজার সামনে ফেলে বেধরকভাবে কাঠের রোল ও বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে আহত করে ফেলে যাবার সময় এ দম্পতিকে শিশু সন্তানাদীসহ গ্রামছাড়া করার হুমকি দিয়ে যায়। 

শনিবার সকালে উপজেলার শ্রীপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও নয়াবন্দ গ্রামের বাসিন্দা আলহাজ্ব খসরুল আলমের নিকট ঘটনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গ্রামবাসী ও ভিকটিম দম্পতি ঘটনাটি আমাকে তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করলে আমি তাদেরকে থানায় আইনের আশ্রয় নেয়ার পরামর্শ দিয়েছি।