Opu Hasnat

আজ ১৩ নভেম্বর বুধবার ২০১৯,

৬ লাখ টাকা ধার দিয়ে বিপাকে গৃহবধু, আদালতে ২ মামলা ঝিনাইদহ

৬ লাখ টাকা ধার দিয়ে বিপাকে গৃহবধু, আদালতে ২ মামলা

৬ লাখ টাকা ধার দিয়ে বিপাকে পড়েছেন ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডুর এক গৃহবধূ। টাকা আদায়ে তিনি আদালতে দুইটি মামলা করেছেন। ওই বধূর নাম সেলিনা খাতুন। তিনি জেলার হরিণাকুন্ডু উপজেলার শাখারীদহ গ্রামের বজলুর রহমানের স্ত্রী। 

এজাহার সূত্রে জানা গেছে, একই গ্রামের আফতাব বিশ্বাসের ছেলে পল্টু বিশ্বাস ও সেলিনা খাতুনের মধ্যে সুসম্পর্ক ছিল। পল্টু সেলিনা খাতুনকে ধর্ম বোন ডাকতেন। সেই সুবাদে সেলিনার বাড়িতে যাতায়াত ছিল পল্টুর। গত ৯ মে সেলিনার কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা ধার নেন পল্টু। ৩’শ টাকার ননজুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে ওই টাকা গ্রহণ করেন তিনি। চলতি বছরের ৮ জুলাই বাদীর সমুদয় টাকা ফেরত দেওয়ার চুক্তি ছিল। নির্দিষ্ট দিন অতিবাহিত হলেও তিনি টাকা ফেরত না দিয়ে তালবাহানা শুরু করেন। ঘটনার দিন ও সময়ে বাদী সেলিনা খাতুন স্বাক্ষী বজলুর রহমান, বাবলু ও মিনুকে সাথে নিয়ে পল্টুর বাড়িতে গিয়ে পাওনা টাকা ফেরত চান। অভিযুক্ত পল্টু বাদীর টাকা ফেরত দেবেন না বলে হুমকি দিয়ে তাদেরকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। আসামির বিরুদ্ধে গত ১৪ জুলাই একটি লিগ্যাল নোটিশও পাঠানো হয়। পল্টুর নামে বিজ্ঞ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত ঝিনাইদহে মামলা করেছেন সেলিনা। মামলা নং হরিসিআর ১৪৫/১৯। এছাড়া সেলিনা খাতুন ১৬ অক্টোবর বাদী হয়ে ঝিনাইদহ আদালতে বজলু এবং নাজের বিশ্বাসের নামে আরেকটি মামলা দায়ের করেছেন।

হরিণাকুন্ডু পিটিশন নং- ৬৮/১৯ মূলে স্বাক্ষী মিনহাজ উদ্দিন মিনু এবং বাবলু মন্ডলের জবানবন্দি কার্যবিধি ১৬১ ধারায় রেকর্ড করে থানা পুলিশ। তারা দুজনই ঘটনার বর্নণা দেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হরিণাকুন্ডু থানার এসআই জিয়াউল হকের কাছে। তারা বলেন, শাখারীদহ বাজারে সেলিনার ধান-চাল ভাঙানোর মেশিনে তারা ধান ভাঙানের জন্য আসেন। আমাদের দুজনের সামনেই সেলিনার কাছ থেকে পল্টু ব্যবসার জন্য ৬ লাখ টাকা লেনদেন করছেন। অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করে এ টাকা নেন পল্টু বিশ্বাস। 

এসআই জিয়াউল হক জানান, ৬ লাখ টাকা লেনদেনের বিষয়টি তদন্তে সত্য প্রমাণিত হওয়ায় সেলিনার পক্ষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। সেলিনার কাছ থেকে পল্টু ৬ লাখ টাকা নিয়েছে তদন্তে বিষয়টি সঠিক প্রতীয়মান হয়েছে বলে তিনি জানান। পুলিশ আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করার পর থেকে আসামি পল্টুসহ এই চক্র উল্টো সেলিনাকে সুদখোর মহাজন বলে প্রচার করে বেড়াচ্ছেন। সেলিনা ছাড়াও অনেকের কাছ থেকে টাকা নিয়ে এলাকা ছেড়েছেন পল্টু, পলান চক্র। 

ঘটনা এখানেই থেমে থাকেনি। একে একে পল্টুর আপন ভাই বজলু ১ লাখ ১০ হাজার, আলতাফ ওরফে পলান ১ লাখ, মানিক বিশ্বাসের ছেলে নাজের বিশ্বাস ১ লাখ ১০ হাজার টাকা সেলিনার কাছ থেকে নিয়েছেন। সব মিলিয়ে প্রতারক চক্রটি প্রতারণা করে প্রায় ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। 

শাখারীদহ বাজারের পিন্টু মাতব্বর, কামালসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, সেলিনার কাছ থেকে পল্টুর টাকা লেনদেনের ঘটনাটি সঠিক। ধর্ম আত্মীয়ের সুবাদে টাকা লেনদেন করেছেন তারা। কিন্তু এখন আর টাকা ফেরত দিচ্ছেন না পল্টু। 

এসব বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত পল্টু, পলানের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে এলাকায় না থাকায় তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।