Opu Hasnat

আজ ১৩ নভেম্বর বুধবার ২০১৯,

ফরিদপুরে দুদকের মামলায় সাবেক জুনিয়র অডিটরের কারাদন্ড ফরিদপুর

ফরিদপুরে দুদকের মামলায় সাবেক জুনিয়র অডিটরের কারাদন্ড

ফরিদপুরে দুদকের মামলায় রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলা হিসাব রক্ষণ কার্যালয়ের সাবেক জুনিয়র অডিটর মো. শামসুল হককে (৬২) বিভিন্ন মেয়াদে ১৮ বছর স্বশ্রম কারাদন্ড ও নয় লাখ ১৪ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও ১৩ মাস বিনাশ্রম কারাদন্ড ভোগ করতে হবে।

বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে ফরিদপুর বিশেষ জজ আদালতে জজ মো. মতিয়ার রহমান এ আদেশ দেন। রায় প্রদানের সময় জুনিয়র অডিটর মো. শামসুল হক আদালতে হাজির ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তাকে জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

মো. শামসুল হক রাজবাড়ী পৌরসভার সজনকান্দা মহল্লার বাসিন্দা। তিনি ১৯৯৭ সালের ৩ এপ্রিল থেকে ২০০২ সালের ৩ মার্চ পর্যন্ত পাংশা উপজেলার হিসাব রক্ষণ কার্যালয়ে জুনিয়র অডিটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

এ মামলার নথি ঘেটে জানা যায়, পাংশায় কর্মরত থাকা অবস্থায় শামসুল হক বিভিন্ন সরকারি অফিসের কর্মচারিদের নামে ভূয়া জিপিএস (জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড) এর অগ্রিম বিল তৈরি করে ও মঞ্জুরিপত্র প্রস্তুত করে ওই কার্যালয় থেকে বিল পাশ করিয়ে  মোট ৮ লাখ ৯ হাজার টাকা উত্তরা ব্যাংক রাজবাড়ী শাখায় নিজের হিসেবে স্থনান্তর করে আত্মসাৎ করেন। পরবর্তিতে ওই বিল ও মঞ্জুরি পত্র বিনষ্ট করে দেন।

দুর্নীতি দমন প্রতিরোধ কমিশন (দুদক) সমন্মিত ফরিদপুর কার্যালয়ের উপ সহকারি পরিচালক গাজী মো. শামসুল আরেফিন বিষয়টি তদন্ত করে গত ২০১৬ সালের ৯ আগস্ট পাংশা থানায় নিজে বাদী হয়ে মো. শামসুল হককে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তিতিতে তিনি নিজেই এ মামলার তদন্ত করে গত ২০১৭ সালের ২১ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশীট) প্রদান করেন।

দুদুকের ওই মামলার কৌশলী মো. মজিববর রহমান জানান, আদালত গতকাল জুনিয়র অডিটর মো. শামসুল হককে দোষী সাব্যস্ত করে দন্ডবিধির ৪০৯ ধারায় সরকারি কর্মচারি হয়ে অর্থ আত্মসাৎ এর দায়ে ৫ বছর স্বশ্রম কারাদন্ড এবং ৮ লাখ ৯ হাজার টাকা অর্থদন্ড করেন। অর্থদন্ড অনাদায়ে তাকে আরও ৬ মাস বিনাশ্রম করাদন্ড ভোগ করতে হবে। 

জালজালিয়াতি করার দায়ে দন্ডবিধির ৪৬৭ ধারায় ৫ বছর স্বশ্রম কারদন্ড এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড করা হয়। অর্থদন্ড অনাদায়ে তাকে আরও ৩ মাস বিনাশ্রম কারদন্ড ভোগ করতে হবে। দন্ডবিধির ৮৭৭(৩) ধারায় ভ‚য়া হিসাব তৈরির দায়ে ৩ বছর স্বশ্রম কারদন্ড এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও ১ মাস বিনাশ্রম করাদন্ড ভোগ করতে হবে। এছাড়া ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ৫ বছর স্বশ্রম কারাদন্ড এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড করা হয়। অর্থদন্ড অনাদায়ে তাকে আরও ৩ মাস বিনাশ্রম কারাদন্ড ভোগ করতে হবে।

কৌশলী মো. মজিববর রহমান আর জানান, তবে দন্ডপ্রাপ্ত ওই ব্যাক্তি একসাথে সব সাজা ভোগ করতে পারবেন। সেই হিসেবে তাকে ৫ বছর স্বশ্রম কারদন্ড এবং অর্থদন্ড প্রদান না করা হলে ৬ মাস বিনাশ্রম কারদন্ড ভোগ করতে হবে।