Opu Hasnat

আজ ২১ নভেম্বর বৃহস্পতিবার ২০১৯,

কালীগঞ্জে ইঁদুরে নষ্ট করছে আমন ক্ষেত, দিশেহারা কৃষক কৃষি সংবাদঝিনাইদহ

কালীগঞ্জে ইঁদুরে নষ্ট করছে আমন ক্ষেত, দিশেহারা কৃষক

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের মাঠের পর মাঠের ধানের ক্ষেত ইঁদুরে কেটে সাবাড় করে দিচ্ছে। আক্রমন ঠেকাতে কৃষকেরা আপ্রান চেষ্টা করেও ফল পাচ্ছেন না। ফলে ধারদেনা করে আমন চাষ করে কিভাবে খরচের টাকা উঠাবেন তা নিয়ে ব্যাপক চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা। এদিকে কৃষি অফিস বলছে অন্য বছরের তুলনায় এ বছর আমন ক্ষেতে ইঁদুরের আক্রমনটা খুব বেশি। তারা বলছেন কৃষকদের ক্ষেত বাঁচাতে মাঠকর্মিদের মাধ্যমে কৃষকদেরকে সচেতন করার চেষ্টা করছেন। কিন্ত কৃষকদের অভিযোগ কৃষি বিভাগের কারও সাথে কোন দেখাও হচ্ছেনা। 

কালীগঞ্জ কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে এ উপজেলায় আমন ধানের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৯ হাজার হেক্টর। কিন্ত রোপন হয়েছে ১৮ হাজার  ৫’শ ৫০ হেক্টর জমিতে। 

গত রবিবার ও সোমবার কালীগঞ্জ উপজেলার, বেজপাড়া, ভাটপাড়া, খয়েরতলা, সুন্দরপুর, আলাইপুর, কোলা, কাবিলপুর, খেদাপাড়া, কামালহাট, রঘুনাথপুর, বকেরগাছি, সাইটবাড়িয়া, মনোহরপুরসহ বিভিন্ন গ্রামের মাঠে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ধান ক্ষেতের আইল ও ক্ষেতের মাঝে মাঝে ইঁদুরের গর্ত বা আবাসস্থল। এ গর্তের আশপাশের ধানগাছগুলো কেটে টুকরো টুকরো করেছে। কিছু কিছু ক্ষেতে ইঁদুরের আক্রমনটা এতোটাই বেশি যে, ধানের গাছশুন্য অবস্থা। দেখে মনে হচ্ছেনা যে এ স্থানটিতে আগে ধানের চারা রোপন করা ছিল। জলাবদ্ধ ক্ষেতের চেয়ে পানিশূন্য শুকনা ক্ষেতগুলোতে এ প্রানীর আক্রমনটা বেশি নজরে পড়েছে। ছোট ভাটপাড়া গ্রামের কৃষক বিমল দাসকে তার ক্ষতিগ্রস্থ ধানের জমিতে দাঁড়িয়ে আহাজারি করতে দেখা যায়। তিনি জানান, তার ৪ খন্ডে সাড়ে ৩ বিঘা জমির ধান ক্ষেত ইঁদুরে প্রায় অর্ধেকটা কেটে নষ্ট করে দিয়েছে। এখন কিভাবে সংসার চালাবেন সে চিন্তায় আছেন। শুধু এ গ্রামগুলোতেই নয় বর্তমানে উপজেলার সকল গ্রামের মাঠেই এমন অবস্থা বিরাজ করছে। 

উপজেলার খয়েরতলা গ্রামের কৃষক মাছুদ রানা, মুনছুর আলী, মোদাচ্ছের হোসেন ও ছোট ভাটপাড়া গ্রামের সুনীল কুমার, বিমল দাস জানান, ইঁদুর তাদের মাঠের ধানের ক্ষেত গুলিতে ধান গাছ কেটে নষ্ট করে দিচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে ক্ষেতে ইঁদুর নিধনে বিষটোপ ও কীটনাশক প্রয়োগ করেছেন কিন্ত কাজ হয়নি। 

বড় ভাটপাড়া গ্রামের কৃষানী সালেহা খাতুন জানান, তিনি ধারদেনা করে মোট ২ বিঘা জমিতে এবার আমন ধানের চাষ করেছেন। ক্ষেতে ধানও হয়েছিল ভালো। কিন্ত এখন প্রায় অর্ধেকটা জমির ধান গাছই ইঁদুরের আক্রমনে নষ্ট হয়ে গেছে। এখন খরচের টাকা উঠা কষ্ট।  তিনি বলেন, মানুষের পরামর্শে ক্ষেতে ইঁদুর নিধনের বিষ মিশ্রিত খাবার দিয়েছেন কিন্ত ইঁদুরের উপদ্রব কোন অংশে কমেনি। 

উপজেলার সাইটবাড়িয়া গ্রামের কৃষক নান্নু মিয়া জানান, এ বছর বর্ষা মৌসুমের প্রথমে তেমন একটা বৃষ্টি হয়নি। ফলে ডিজেলচালিত গভীর নলকুপের সেচের মাধ্যমে ক্ষেতের ধান বাঁচিয়ে রেখেছেন। পরে বৃষ্টির পানিতে ক্ষেতের ধান ভালো হয়েছিল। কিন্ত সপ্তাহ দুয়েক আগে মাঠে গিয়ে দেখি ইঁদুর লেগে সব ধানগাছ কেটে দিচ্ছে। তিনি আরও জানান, কৃষকদেরকে প্রতি আমন মৌসুমেই ইঁদুরের যন্ত্রনা সহ্য করতে হয়। কিন্ত চলতি মৌসুমে ইঁদুরের প্রকোপে ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কায় পড়েছেন কৃষকেরা। শুধু এ গ্রামগুলোতেই নয় সারা উপজেলার আমন ক্ষেতগুলোতে একই অবস্থা বলে কৃষকদেরসূত্রে জানা গেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সারামাঠ জুড়ে ইঁদুরে শেষ করছে ক্ষেত কিন্ত কৃষি অফিসের কাউকে মাঠে দেখা মিলছেনা। 

কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল করিম জানান, চলতি বছরে আমন ধানের জমিতে ইঁদুরের আক্রমনের কথা তারা কৃষকদের মুখে শুনেছেন। তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুমে বড় বৃষ্টি না হওয়ায় মাঠে ইঁদুরের বংশবিস্তার ঘটেছে এ বছর বেশি। সে ইঁদুরগুলোই ক্ষেত নষ্ট করছে। তিনি বলেন, খুব শীঘ্রই ইঁদুরের হাত থেকে ক্ষেত বাঁচাতে কৃষকদেরকে সচেতন করতে  মাঠে ও হাটবাজারে সভা সেমিনার শুরু করবেন।