Opu Hasnat

আজ ১৪ নভেম্বর বৃহস্পতিবার ২০১৯,

দিরাইয়ে ৫ বছরের শিশু তুহিন হত্যাকান্ডে মামলা দায়ের সুনামগঞ্জ

দিরাইয়ে ৫ বছরের শিশু তুহিন হত্যাকান্ডে মামলা দায়ের

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের কেজাউরা গ্রামে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গিয়ে প্রতিহিংসাপরায়ন হয়ে বিভৎস হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছে ৫ বছরের শিশু তুহিন । নৃশংস হত্যার ঘটনায় এলাকার লোকজনের মধ্যে তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুর পিতাসহ ৭স্বজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। 

এ ঘটনায় নিহত শিশু তুহিনের মা মোছাঃ মনিরা বেগম বাদি হয়ে সোমবার রাত ১১টায় অজ্ঞাতনামা ১০জনকে আসামী করে দিরাই থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

সোমবার সকালে উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের গচিয়া কেজাউড়া গ্রাম থেকে ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত শিশুর নাম তুহিন (৫)। সে গ্রামের আবদুল বছির মিয়ার ছেলে। পুলিশ জানায়, হত্যাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিশুটির কান, গলা ও পুরুষাঙ্গ কেটে পাশবিক কায়দায় হত্যা করে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে। শিশুটির পেটে বিদ্ধ ছিল দুটি ধারালো ছুরি। তবে কে বা কারা, কী কারণে এ শিশুকে পাশবিক কায়দায় হত্যা করেছে তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি। শিশুর মরদেহে বিদ্ধ ছুরা দুটির হাতলে সোলেমান ও সালাতুলের নাম লেখা রয়েছে। এ নাম দুটি নিয়ে শিশু হত্যার রহস্য আরো ঘনিভুত হচ্ছে। পুলিশ বলছে, অনেক ক্লু তাদের হাতে এসেছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শিশুর বাবা-চাচা, চাচীসহ ৭ জনকে আটক করেছে। এদিকে দুপুর ২ টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান , ডিআইও ওয়ান সুনামগঞ্জ আনোয়ার হোসেন মৃধা, ডিবির ওসি মুক্তাদির আহমদসহ সিআইডির ফরেনসিক বিভাগের সদস্যরা। 

এ ঘটনায় নিহত শিশু তুহিনের মা মোছাঃ মনিরা বেগম বাদি হয়ে সোমবার রাত ১১টায় অজ্ঞাতনামা ১০জনকে আসামী করে দিরাই থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। যার মামলা নং -২।

এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান, ঘটনার কিছু ক্লু আমাদের হাতে এসেছে, তদন্তের স্বার্থে আমরা এখনই কিছু বলতে চাচ্ছি না। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শিশুর বাবা বাছির, চাচা আবদুল মোচাব্বির, জমশেদ, নাছির ও জাকিরুলসহ  ৭ জনকে আটক করা হয়েছে। আসামীদের শ্রীঘ্রই গ্রেফতার করা হবে। 

এদিকে, সোমবার রাতে পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান দিরাইয়ে গমাধ্যমকর্মীদের সামনে নৃশংস হত্যাকান্ডের শিকার তুহিনের হত্যাকান্ড নিয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গিয়ে পারিবারিকভাবে নৃশংস ও ভয়াবহ হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছে শিশু তুহিন। কেন তাকে মারা হল প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কেন তাকে মারা হয়েছে, কিভাবে মারা হয়েছে, কতজন এই হত্যাকান্ডে অংশ নিয়েছে  সবই আমরা পেয়েছি, তবে তদন্তের স্বার্থে আমরা এখনই সবকিছু বলতে চাচ্ছি না। আটককৃত স্বজনদের মধ্যে ৩/৪জন এর সম্পৃক্ততার কথা তারা স্বীকার করেছে। গ্রামের দীর্ঘদিনের বিরোধ, একাধিক মামলা সব মিলিয়ে প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে এ হত্যাকান্ডের পরিকল্পনা করা হয়েছে। নিহত শিশুর দেহে বিদ্ধ ছোরার হাতলে লিখা সোলেমান ও সালাতুল তারা অন্য মামলার আসামী তাদেরকেও ফাসাঁনোর জন্য তাদের নাম লিখা হতে পারে। নিহত তুহিনের বাবাও একটি হত্যা মামলার আসামী হিসেবে আছেন। সবকিছু মিলিয়ে আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছি, এখনো জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে। ফাইন্ড আউট করে মামলা দায়ের করা হবে।

স্বজনরা জানান, রোববার রাতে প্রতিদিনের মতো খাবার খেয়ে পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ১২টার দিকে শিশু তুহিন প্রকৃতির ডাকে উঠলে তার মা বাহিরে নিয়ে যান। এরপর তাকে এনে আবার ঘুম পাড়িয়ে দেন। রাত ৩টার দিকে মা-বাবা হঠাৎ দরজা খোলার শব্দ শুনে ঘুম থেকে জেগে দেখেন তুহিন ঘরে নেই। এরপর পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

একপর্যায়ে তারা বাড়ির পাশে রক্ত দেখতে পান। এরপর কিছু দূরে সুফিয়ান মোল্লার উঠানে মসজিদের পাশে গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় তুহিনের গলাকাটা মরদেহ দেখতে পান। এস আই তাহের জানান, সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করে ময়না তদন্তের জন্য সুনামগঞ্জে প্রেরন করা হয়েছে।

নিহত শিশুর দেহে বিদ্ধ ছুরায় সোলেমান ও সালাতুল এ দুটি নামের লোক আনোয়ার মেম্বারের পক্ষের বলে জানা গেছে।  

নিহত শিশুর বাবা আবদুল বছির মিয়া জানান, গ্রাম্য বিরোধ থাকলেও আমার এই ছেলেকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হবে আমি তা বিশ্বাস করিনা।

স্থানীয়রা জানান, বিগত ৪ বছর আগে গ্রামের গিয়াসউদ্দিনের স্ত্রী নিলুফা হত্যার ঘটনায় কেজাউরা গ্রাম দুভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এক পক্ষ এলাছ মিয়া ও নিহত শিশুর পিতা আবদুল বছির গং এবং আসামী অপর পক্ষ আনোয়ার মেম্বার গং। সোমবার নিলুফা হত্যা মামলা আপোষ মিমংসার জণ্য নির্ধারিত ছিল। কিন্তু নিহত শিশুর পিতা বছির মিয়া আপোষের পক্ষে থাকলেও এলাছ মিয়াসহ কয়েক জন  আপোষ মানতে নারাজ ছিলেন। বিরোধ জিয়ে রাখতেই এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। 

এ ব্যাপারে দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ কে এম নজরুল ইসলাম মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন সর্বোচ্চ আইন প্রয়োগ করে এই নিসংশ হত্যকান্ডের যে বা যারাই হোক তাদের দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।