Opu Hasnat

আজ ১৩ নভেম্বর বুধবার ২০১৯,

মিরপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে সুনামগঞ্জ

মিরপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার  মিরপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে সকাল ৯টা থেকে এবং তা চলবে একটানা বিকেল ৫টা পর্যন্ত। সকালের দিকে ভোটক্রেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি কিছুটা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পরার মতো। বিশেষ করে নারী ভোটটারের সংখ্যা ছিল তুলনামূলকভাবে অনেক বেশী। প্রতিটি ভোটার প্রচন্ড গরমের উপেক্ষা করে  নারী পূরুষ আদালভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে তারা তাদের পছন্দের প্রার্থীর প্রতীকে নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। প্রতিটি কেন্দ্র পুলিশ র‌্যাবও আনসারের বিপুল সংখ্যক আইন শৃংখলা বাহিনী সদস্য মোতায়েন রাখা হয়েছে এবং যেকোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় তারা সজাগ দৃষ্টি রাখছেন।  

সোমবার ৯টা থেকে সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু করেছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) এবং বিরতিহীনভাবে তা চলবে একটানা বিকেল ৫টা পর্যন্ত। দীর্ঘ ১৬ বছর পর অনুষ্ঠিত হওয়া এ নির্বাচনে পুরো ইউনিয়ন জুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। মিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৯ টি ওয়ার্ডের তিনটি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তিন পদে মোট ৬৪ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ৯টি ওয়ার্ডের ১০ টি ভোট কেন্দ্রে এ ভোটগ্রহন চলছে।

জামিয়া ইসলামিয়া লহরী মাদ্রাসার ভোট কেন্দ্রে ভোটগ্রহণের এক ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ ও আনসার ভিডিপির সদস্যদের উপর হামলা চালায় আনহার হোসেন (২৫) নামের এক আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী আবদুল কাদিরের সমর্থক। পরবর্তীতে মুচলেকা দিয়ে তাকে ছেড়ে দেন নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আখতার জাহান সাথী! সে লহরী গ্রামের মৃত আবদুল হাসেম’র ছেলে। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা ১০টার দিকে ভোটগ্রহণ চলাকালীন সময়ে আনহার হোসেন ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য ও আনসার ভিডিপির সদস্যদের উপর হামলা করে। এসময় সে তাদের বেধড়ক পেটাতে থাকে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আখতার জাহান সাথী। তিনি এসে নৌকার প্রার্থীর সঙ্গে কথা বলেন। এসময় নৌকার প্রার্থীর প্রধান এজেন্ট সিরাজুল ইসলাম (সিরাজ মাষ্টার), কালী দেব ও যুবলীগ নেতা টিটুকে পাঠান নৌকার প্রার্থী। তারা ঘটনাস্থলে আসলে ২০ হাজার টাকা অর্থদন্ড শর্তে মুচলেকা দিলে আনহারকে ছেড়ে দেয়া হয়। তার পক্ষে নৌকার প্রধান এজেন্ট সিরাজ মাষ্টার ও টিটুর সাক্ষর ওই মুচলেকায় নেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আখতার জাহান সাথী বলেন, তাকে ভবিষ্যতে এমন কাজ করবে না এমন শর্তে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

অপরদিকে, ম্যাজিস্ট্রেটের রায় নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন দায়িত্বরত পুলিশ ও আনসার ভিডিপির সদস্যরা। তারা এ রায়ের তীব্র সমালোচনা করেন। এ রায়ের তীব্র সমালোচনাও করেছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী আব্বাস আলী। 

এই বিভাগের অন্যান্য খবর