Opu Hasnat

আজ ২১ নভেম্বর বৃহস্পতিবার ২০১৯,

জাপানে হাগিবিসের তান্ডবে নিহত অন্তত ১৮ আন্তর্জাতিক

জাপানে হাগিবিসের তান্ডবে নিহত অন্তত ১৮

কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী টাইফুন হাগিবিসের আঘাতে লণ্ডভণ্ড জাপানের রাজধানী টোকিও ও এর পাশ্ববর্তী উত্তর পূর্ব অঞ্চল। বিধ্বংসী এ ঝড়ের আঘাতে এরই মধ্যে উপকূলীয় এলাকায় অন্তত ১৮ জনের মুত্যু হয়েছে ও আহত হয়েছে অন্তত দুইশতাধিক। এ ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন আরও ১৬ জন।

রোববার (১৩ অক্টোবর) এই তথ্য জানিয়েছে রুশ সংবাদমাধ্যম আরটি। শনিবার (১২ অক্টোবর) জাপানের স্থানীয় সময় রাত ৮টায় উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় উপদ্বীপগুলোতে ঘণ্টায় ১৯৫ কিলোমিটার গতিবেগে আছড়ে পড়ে ঘূর্ণিঝড় হাগিবিস। ঝড়ের তাণ্ডবে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার ঘরবাড়ি। হাগিবিসের প্রভাবে ইতিমধ্যে জাপানের ৮ শতাধিক ফ্লাইট, দ্রæতগামী বুলেটট্রেনসহ যাবতীয় যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ রয়েছে। প্রায় ত্রিশ লাখ মানুষ বিদ্যুৎবিহীন রয়েছে। প্রায় ষাট লাখ মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন।

ফুকুশিমা, ইবারাগি ও মিয়াগিসহ ১২টি শহরে ইতোমধ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তর। 

টাইফুনের কবলে জাপানে চলা আন্তর্জাতিক রাগবি বিশ্বকাপে শনি ও রোববার সব ম্যাচ বাতিল করা হয়েছে।

রোববার আবহাওয়া সংস্থার এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ঝড়টি ক্রমেই আরও বেশি গতিসঞ্চার করে জাপানের পূর্বউপকূলের দিকে ধেয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে ঝড়টির গতিবেগ ঘণ্টায় ২২৫ কিলোমিটার।

এখনো যারা আশ্রয়কেন্দ্রে যায়নি তাদের জরুরিভিত্তিতে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। পাশাপাশি আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। টাইফুন হাগিবিস মোকাবিলায় সবধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জাপান সরকার।

বলা হচ্ছে- বিগত ৬০ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় এটি। এর আগে, ১৯৫৮ সালে সবশেষ শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘ক্যানোগাওয়া’ আঘাত হেনেছিল জাপান উপকূলে। সেসময়, প্রায় ১২শ’ মানুষ নিহত ও নিখোঁজ হয়েছিলেন।     

গত মাসেও টাইফুন হেক্সাইয়ের আঘাতে জাপানের কিছু এলাকার প্রায় ৩০ হাজার ঘরবাড়ি ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে, ঝড়টি তেমন শক্তিশালী ছিল না।

এদিকে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা ১৮ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করলেও এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। উদ্ধার তৎপরতা চলছে।

প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটা একটি ভয়াভহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ। ইতোমধ্যে কয়েক হাজার এসডিএফ (সৈন্য) উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে দিয়েছে। আমরা জনগনকে সব ধরনের সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি।’