Opu Hasnat

আজ ১৭ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ২০১৯,

দৌলতদিয়ায় চারটি ঘাট বন্ধ : ভোগান্তিতে হাজারো যাত্রী রাজবাড়ী

দৌলতদিয়ায় চারটি ঘাট বন্ধ : ভোগান্তিতে হাজারো যাত্রী

দক্ষিাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দৌলতদিয়া পাটুরিয়ায় দুই সপ্তাহেও ভোগান্তি কাটেনি। পদ্মার ভাঙ্গনে একে একে বন্ধ হয়েছে দৌলতদিয়ার চারটি ঘাট। তাছাড়াও প্রবল স্রোতের কারনে ১৬ টি ফেরির মধ্যে চলাচল করছে মাত্র ৫ টি ফেরি। যে কারনে ঘাট এলাকায় ভোগান্তি থেকেই যাচ্ছে। 

বিআইডব্লিটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয় সুত্রে জানাযায়, দৌলতদিয়া পাটুরিয়া নৌরুটে থাকা ১৬ টি ফেরিই বর্তমানে সচল রয়েছে। পদ্মা নদীর স্রোত মোকাবেলা করে, ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান, বীর শ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান, কেরামত আলী, ভাষা শহিদ গোলাম মওলা ও কাবেরী চলাচল করতে পারছে। বাকি ১১ টি ফেরি দুর্ঘটনা এড়াতে পাটুরিয়া ঘাটে বেধে রাখা হয়েছে।

অপরদিকে, বিইডব্লিটিএ কার্যালয় সুত্রে জানাযায়, দৌলতদিয়া ঘাটে থাকা ছয়টি ঘাটের মধ্যে ভাঙ্গনের কারনে  পর্যায়ক্রমে ১,২,৩ ও ৪ নম্বর ঘাট বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে সচল রয়েছে ৫ ও ৬ নম্বর ঘাট ।

বৃহস্পতিবার বিকেলে সরেজমিনে দৌলতদিয়া ঘাটে গিয়ে দেখাযায়, দুটি ঘাট সচল থাকলেও শুধুমাত্র ৫ নম্বর ঘাট দিয়ে পারাপার করা হচ্ছে। ৬ নম্বর ঘাটটি সচল রয়েছে কিন্তু ঘাটের কাছে স্রোত আঘাত হানায় সারাদিনেও কোন ফেরি এই ঘাটে লোডিং এবং আনলোডিং হয়নি।

এছাড়াও তীব্র স্রোতের কারণে টানা ৬ দিন বন্ধ থাকার পর বৃহস্পতিবার সকালে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে লঞ্চ চলাচল শুরু হয়েছে। এতে লঞ্চ পারাপার যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এর আগে ৪ অক্টোবর দুপুর ১টা থেকে এরুটে তীব্র স্রোতে লঞ্চ চলাচল ঝুকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় দূর্ঘটনা এড়াতে লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছিল প্রশাসন। 

দৌলতদিয়া লঞ্চ ঘাট সুপার ভাইজার মোঃ মোফাজ্জেল হোসেন জানান, স্রোতের তীব্রতা কিছুটা কমায় এরুটে চলাচলরত বড় লঞ্চ গুলো চলাচল শুরু করেছে।

একদিকে ঘাট সংকট অন্যদিকে ফেরি সংকট যে কারনে দৌলতদিয়া জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকা খুলনা মহা সড়কের গোয়ালন্দ ফিড মিল পর্যন্ত চার কিলোমিটার এলাকায় আটকে পরেছে কয়েকশত যাত্রীবাহি বাস, পন্যবাহি ট্রাক ও ব্যাক্তিত ছোট গাড়ি।

এ সময় ঝিনাইদহ থেকে ঢাকাগামী যাত্রী আব্দুর রহিম মোল্লা বলেন, দৌলতদিয়া ঘাটে ৬ ঘন্টা যাবৎ বসে আছি। এখনও ফেরির নাগাল পাইনি। এরমধ্যে পরিবার পরিচন নিয়ে বাস থেকে নেমে দুপুরের খাবার খেয়ে নিয়েছি। তিনি আরো বলেন, দৌলতদিয়ায় ঘাট ও ফেরি দুটিরই সংকট রয়েছে যে কারনে কোন মতেই কমছে না ভোগান্তি।

এদিকে ঘাটে ভোগান্তি কমাতে অগ্রাকার ভিত্তিতে যাত্রীবাহি বাস পারাপার করায় পন্যবাহি ট্রাক চালকেরা পরেছে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে। ঘাট এলাকায় আটকে থাকতে হচ্ছে ৫ থেকে ৬ দিন।

যশোহর থেকে ছেরে আসা পন্যবাহি ট্রাকের চালক  জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমি চারদিন আগে এসেছি। ঘাট থেকে ৯ কিলোমিটার দুরে গোয়ালন্দ মোড় এলাকায় বসে আছি। কবে ঘাটে যাবো বলতে পারছি না। তিনি আরো বলেন, পথে বসে থেকে হোটেলে খাবার খেয়ে সব টাকা শেষ হয়েছে যে কারনে বৃহস্পতিবার দুপুরে আবার বাড়ি থেকে খরচের জন্য ৭০০ টাকা বিকাশে আনা হয়েছে। 

এদিকে ঘাট এলাকার তীব্র ভাঙ্গন রোধে প্রথমে পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ করলেও এখন তাদের সাথে যুক্ত হয়েছে বিআইডব্লিটিএ কর্তৃপক্ষ। দুটি সংস্থা আটজন ঠিকাদারের মাধ্যমে দিনরাত করে জিও ব্যাগ ফেলে যাচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড রাজবাড়ীর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সফিকুল ইসলাম জানান, গত দুই সপ্তাহের ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থ ১ ও ২ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ৫৪ হাজার জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। যতক্ষন ভাঙ্গন বন্ধ না হবে ততক্ষন জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলবে।

বিআইডব্লিটিএ দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম জানান, ঘাটে ভাঙ্গনরোধে ব্যাবস্থা গ্রহনের জন্য এরই মধ্যে বিআইডব্লিটিএ'র চেয়ারম্যান কমোডর এম মাহাবুব উল ইসলামসহ কর্মকর্তারা কয়েক দফা পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনের পর ৩ ও ৪ নম্বর ঘাট এলাকায় বিআইডব্লিটিএ'র তত্ত্বাবধানে বালুর বস্তা ফেলা শুরু হয়েছে। চেষ্টা করা হচ্ছে ঘাট সচল করতে।

বিআইডব্লিটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যাবস্থাপক আবু আব্দুল্লাহ রনি জানান, তীব্র স্রোতের কারনে মারাত্বকভাবে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এই নৌরুটে থাকা ৫ টি শক্তিশালী ফেরি দিয়ে কোনমতে যাত্রী ও জরুরী যানবাহন পার করা হচ্ছে। স্রোত কমে গেলেই স্বাভাবিক হবে এই রুটের পারাপার।